চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক না.গঞ্জের এমপির ছেলেকে রাতেই ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে আটক করা হয় খাইরুল ইসলাম সজীবকে। ছবি: সংগৃহীত
রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে আটক করা হয় খাইরুল ইসলাম সজীবকে। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর রাতেই ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে আটকের পর মুচলেকা নিয়ে তাকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের এডিসি নিয়াজ মেহেদী। সোমবার সকালে তিনি বলেন, ‘রোববার রাত ১১টার দিকে তাকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এর আগে রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেছিলেন, “রোববার বিকেল ৫টার দিকে সজীবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।”

পরবর্তীতে সজীবকে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

খাইরুল ইসলাম সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের পদে ছিলেন। গতকাল আটকের পর সন্ধ্যায় যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেলের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

যুবদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে খাইরুল ইসলাম সজীবকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বড় একটি শিল্প গ্রুপের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন খাইরুল। টাকা না দেওয়ায় গাড়ি আটকে রাখেন খাইরুল সজীব, পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে তা ছেড়ে দেন। এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত চাঁদা নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement