সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত, অনুমতি পায়নি একটি জাহাজও

পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিনের দরজা খুলেও যেন খুলছে না। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পর্যটকদের সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ ও থাকার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলেও সেখানে যাওয়ার জন্য পরিবহন যে জাহাজ, সেটিই এখনো যাত্রী পরিবহনের অনুমতি পায়নি। ফলে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ চালু হলেও সে সুযোগ কাজে লাগানোর বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলছে, এখন পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত নৌপথে পর্যটক পরিবহনের জন্য রুট পারমিট চেয়ে আবেদন করেছে সাতটি জাহাজ। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় এর কোনোটিকেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) জাহাজমালিকদের চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
বিআইডব্লিউটিএর নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক সালমা আক্তারের সই করা চিঠিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে জাহাজমালিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া ও এমভি টেকনাফের অনুকূলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র পাওয়া গেছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের অনুমোদন দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে এমভি কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, এমভি কেয়ারি সিন্দাবাদ, এলসিটি কাজল ও এমভি বে-কুইজার-১-এর জাহাজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে নীতিগত সম্মতি চেয়ে চিঠিও পাঠানো সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় আবেদন করা সাতটি জাহাজের কোনোটিরই রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। চিঠিতে জাহাজমালিকদের হালনাগাদ সার্ভে সার্টিফিকেট, রুট পারমিট ফি জমার প্রমাণ, কনজারভেন্সি ছাড়পত্র, ভয়েজ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। কোনো জাহাজের সার্ভে সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় নৌ-সংক্রান্ত কাগজপত্র না থাকলে রুট পারমিট দেওয়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন সমুদ্রে চলাচল না করায় জাহাজগুলোর নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এসব সনদ আরও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবে, তাদের রুট পারমিটের ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়।
সে অনুযায়ী নভেম্বরে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। পরে ২৭ অক্টোবর সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ বছরের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে চার মাসই পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।














-2af723-256x144.webp)
-cf3184-720x405.webp)