পদ্মার চরে ২ সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি, আতঙ্কে কৃষকরা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৫০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা নদীর চর দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনা ও কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘কালু বাহিনী’ ও ‘কাকন বাহিনী’র মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে চরের কৃষিজমিতে কাজ করা কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মার ডিগ্রির চর এবং পদ্মা-গড়াই নদীর মোহনায় গোলাগুলি শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিগ্রির চর বেশ কিছুদিন ধরে ‘কালু বাহিনী’র নিয়ন্ত্রণে ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে ‘কাকন বাহিনী’র সদস্যরা একটি ট্রলারে করে পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনায় এসে ডিগ্রির চর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করেন।

সে সময় চরের কৃষিজমিতে অন্তত ৫০ জন কৃষক কাজ করছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তারা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন।

পরে চরে অবস্থানরত ‘কালু বাহিনী’র সশস্ত্র সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়লে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিকেলের শেষ দিকে ‘কাকন বাহিনী’ আরও দুটি ট্রলারে করে অতিরিক্ত অস্ত্র ও সদস্য নিয়ে আসে। কৃষকদের দাবি, সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক শবার গুলি বিনিময় হয়।

চরের এক কৃষক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, চরের জমিতে চাষাবাদ করে জীবনযাপন করি। মাঝেমধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে আমরা খুবই ভয়ে থাকি। কেননা দুপক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে কখন আমাদের জীবন চলে যায়!

“সত্যি চরম ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন দুগ্রুপ গোলাগুলি শুরু করে। আমরা এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাই।”

রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, দুপুরে গোলাগুলির খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়। পরে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন।

তিনি জানান, সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর থেকে পুলিশ বা কৃষকরা আর গুলির শব্দ শোনেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিল্লাল হোসেন আরও বলেন, এর আগে এসব বাহিনীর সদস্যদের ধরতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। প্রয়োজন হলে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad