যুদ্ধের মধ্যেও সৌদি আরামকোর মুনাফা বেড়েছে ৩৫%

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আরামকো সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, যেটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
আরামকো সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, যেটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে তেল পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে তিন হাজার ৬৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আগের বছরের একই প্রান্তিকে আরামকোর মুনাফার পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৬৯৪ কোটি ডলার। তেলের উচ্চমূল্য, বিক্রয় আয় বৃদ্ধি এবং একটি যৌথ উদ্যোগে নিজেদের অংশীদারত্ব বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ মুনাফা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে আরামকো।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত আরামকোর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে তিন হাজার ১২০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল দুই হাজার ৮৫৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ সমন্বিত মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। সম্পদ বিক্রি থেকে পাওয়া এককালীন আয় বাদ দিয়ে কোম্পানিটির নিয়মিত ব্যবসার আর্থিক অবস্থার চিত্র পাওয়া যায় এই সমন্বিত হিসাবে।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তেলের বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধি। আরামকোর তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৯৫ দশমিক ২০ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই মূল্য ছিল ৭০ দশমিক ১০ ডলার। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পরিবহন ঝুঁকি বাড়ায় জ্বালানিটির দামও বেড়েছে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার পেট্রোনাসের কাছে দেশটির পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান প্রিফকেমে নিজেদের অংশীদারত্ব বিক্রি করেছে আরামকো। সেপ্টেম্বর মাসে সম্পন্ন হওয়া এই লেনদেন থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় পেয়েছে কোম্পানিটি।

অন্যদিকে,ম পরিশোধন ব্যবসায় মুনাফার হার বাড়ায় আরামকোর ডাউনস্ট্রিম বিভাগের সমন্বিত পরিচালন মুনাফা বা ইবিআইটি আগের বছরের তুলনায় ২৩৪ শতাংশ বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়লেও বিকল্প পথে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে আরামকো। কোম্পানিটির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছে দিচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা ও বিকল্প রপ্তানি পথ বাড়ানোর উদ্যোগও নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরামকো জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে পরিচালন কার্যক্রম থেকে তাদের নগদ প্রবাহ হয়েছে তিন হাজার ৮৭০ কোটি ডলার। একই সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দুই হাজার ১৯০ কোটি ডলার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। আগের বছরের তুলনায় এই লভ্যাংশ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক আরামকোর আয় সৌদি সরকারের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যুদ্ধের মধ্যেও কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধি সৌদি আরবের রাজস্ব পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ঝুঁকি কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ ব্যবসার জন্য বড় অনিশ্চয়তা হয়ে রয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad