করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল, তুলে দেওয়া হলো ৫ শতাংশ কর স্তর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নতুন এই সীমা ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্যও করমুক্ত আয়সীমায় অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে। নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এ সীমা ৫ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মা-বাবা বা আইনগত অভিভাবক তাঁদের প্রতিটি প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সুবিধা পাবেন। নতুন বাজেটে আয়করের হার কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন করমুক্ত আয়সীমার পর প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ কর দিতে হতো। এবার সেই স্তরটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, করমুক্ত আয়সীমার পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে।

এদিকে আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। আগামী অর্থবছর থেকে পুরো বছরজুড়েই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে আগে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ কর ছাড় পাওয়া যাবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দিলে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা বা জরিমানা থাকবে না।

অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, তা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে। আর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত দিতে হবে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিবছর ৪০ থেকে ৪২ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। গত মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছায়, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

রাজনীতি/আরআইআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement