এজিএসের কক্ষে সমকামিতার অভিযোগ: তদন্তের সময় ঢাবিতে ছাত্রদল-শিবির হাতাহাতি

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৩৬
ঢাবির ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ছবি: ভিডিও থেকে
ঢাবির ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ছবি: ভিডিও থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুই বহিরাগতের বিরুদ্ধে ‘সমকামিতা’য় জড়ানোর অভিযোগের তদন্তের সময় হলের প্রাধ্যক্ষের রুমে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হল প্রাধ্যক্ষের রুমে এ ঘটনায় দুই সংগঠনই পালটাপালটি হামলার অভিযোগ এনেছে অন্য সংগঠনের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি দুই সংগঠনই দাবি করেছে, হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ঢাবি প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, হল প্রাধ্যক্ষ একটি তদন্ত চলাকালে তার রুমে মারামারির ঘটনা জানিয়েছিলেন। পরে প্রক্টর অফিসের একটি টিম সেখানে গিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের এজিএস ছাত্রশিবির কর্মী ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা বহিরাগত দুই তরুণের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ইব্রাহীম খলিল বলেন, ওই দুজন চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন বলে তিনি তাদের থাকতে দিয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় সমকামিতার প্রতিবাদে হল চত্বরে মিছিলও করেন শিক্ষার্থীরা।

শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক হক বলেন, শনিবারের ঘটনায় ছাত্রশিবির এজিএস ইব্রাহীম খলিলকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তারা সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করে দিয়েছে, যেন কোনোভাবেই প্রমাণ করা না যায় যে ওই সময় সে সেখানে উপস্থিত ছিল। এভাবে তারা মিথ্যাচার করছে।

ওই অভিযোগের তদন্তের জন্য রোববার দুপুরে প্রাধ্যক্ষ তার কক্ষে ইব্রাহীম খলিলকে ডাকেন জানিয়ে মোছাদ্দিক বলেন, ‘তদন্তের সময় প্রভোস্ট অফিসে তারা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে। আমরাও প্রভোস্ট অফিসের বাইরে অবস্থান নিয়ে ছিলাম। তখন তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আমরা ভেতরে ঢুকলে তারা আবার হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।’

উলটো ছাত্রদলের ওপর হামলার অভিযোগ করে শিবির সমর্থিত শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান বলেন, তদন্ত কমিটি হল সংসদের এজিএস ও তার রুমমেটকে ডেকেছিল। হাউজ টিউটররা তাদের বাদ দিয়ে সবাইকে চলে যেতে বললে ছাত্রদল প্রভোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান নেয়, আমরা ছিলাম প্রভোস্ট অফিসের দ্বিতীয় তলায়। ছাত্রশিবিরের একজন তাদের ছবি তুলেছে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলই হামলা শুরু করে।

যে অভিযোগের তদন্তের সময় সংঘর্ষ ঘটেছে সে বিষয়ে ঢাবি প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে চাই। তদন্ত পক্ষপাতিত্বহীন হওয়া জরুরি। এ ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান যুক্ত। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকা কোনোভাবে আমরা উৎসাহিত করতে পারি না।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
এজিএসের কক্ষে সমকামিতার অভিযোগ: তদন্তের সময় ঢাবিতে ছাত্রদল-শিবির হাতাহাতি