রাবিতে সাংবাদিকদের ওপ হামলা: হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি প্রশাসনের

রাবি প্রতিনিধি
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপ হামলা: হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি প্রশাসনের

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যারা ঘটনার জন্য দোষী হিসেবে চিহ্নিত হবেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি তাদের নামে মামলা করা হবে। নেপথ্যে কেউ এ ঘটনায় ইন্ধন ও উসকানি দিয়ে থাকলে তাদেত বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনটি।

এ ঘটনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীসহ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাবি উপাচার্য প্রশাসনের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাবি প্রশাসনের সঙ্গে এ বৈঠক শুরু হয়, চলে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে।

বৈঠক শেষে সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাবি উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রাধ্যক্ষকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদনও হাতে পাব। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্ব নেই তাদের সনদ বাতিল করে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। আর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যাদের দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে তাদের নাম মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হবে।

ঘটনাটির নেপথ্যের ইন্ধন ও উসকানিদাতা যারা রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান রাবি উপাচার্য। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে পরবর্তী তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সভা ডেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখুন।

প্রতিবেদন হাতে পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন রাবি উপাচার্য।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করেছিল। তবে সে মামলায় আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর প্রতিবাদে সোমবার রাতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন রাবিতে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তারা অবরুদ্ধও করে রাখেন। পরে উপাচার্যসহ রাবি প্রশাসন তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

বৈঠকের পর উপাচার্যের ব্রিফিংয়ের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহ পরান বলেন, আমাদের দাবির একটি অংশ প্রশাসন মেনে নিয়েছে। বাকি দাবিগুলো মেনে নেওয়ার রোডম্যাপও দিয়েছে। আমরা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখছি। তবে প্রশাসন ঠিকপথে না চললে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব।

তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কর্মরত তিনটি সাংবাদিক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। রাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির বলেন, আমাদের কিছু দাবি মেনে নিতে প্রশাসন সময় চেয়েছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো সংবাদ কভার করব না।

গত রোববার রাতে রাবির শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ছাত্রদলের হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জনের আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

আহত চার সাংবাদিক হলেন— বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবান, দৈনিক আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু।

এ ঘটনায় তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল। পাশাপাশি আরও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংগঠনটি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement