হেফাজতের ‘মুরুব্বিয়ানায়’ কওমিভিত্তিক ৭ দলের জোট ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’
-5fb517.jpg)
কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ‘মুরুব্বিয়ানায়’ সাতটি ইসলামী রাজনৈতিক দল ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে নতুন একটি জোট গঠন করেছে। ঢাকায় দলগুলোর নেতাদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের নেতৃত্ব তাদের সহযোগিতা করবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে নতুন জোট গঠনের তথ্য জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন।
জোটের সাতটি দল হলো— বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট (রাজী), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।
বৈঠকে প্রতিটি দলের তিনজন করে মোট ২১ জন প্রতিনিধি এবং হেফাজতে ইসলামের তিনজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সাত দলের তিনজন করে সদস্য নিয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে কওমি মাদরাসাভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছিল। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সাতটি দল একটি ব্যানারে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, “এটা হেফাজতের নেতৃত্বে কোনো জোট নয়, হেফাজত এখানে মুরুব্বির ভূমিকায় আছে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা আতাউল্লাহ আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, “হেফাজতে ইসলামের সহযোগিতায় আমরা সাতটি দল সমমনা ইসলামী দলসমূহের ব্যানারে একত্রিত হয়েছি। আমাদের জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের নেতৃত্ব আমাদের সহযোগিতা করবেন।”
অন্য জোটেও থাকবে দলগুলো
নতুন জোট গঠন করলেও এর শরিক দলগুলোর কয়েকটি বিদ্যমান রাজনৈতিক জোটে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি (ইজহার) জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক হিসেবে সক্রিয় থাকবে। অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে থাকার পাশাপাশি নতুন জোটেও যুক্ত হবে।
এ বিষয়ে আতাউল্লাহ আমিন বলেন, “আমরা রাজনৈতিকভাবে ওই জোটগুলোতে থাকব। আর সামগ্রিক পরিস্থিতি, ইসলামবিরোধী তৎপরতা নিয়ে আমরা এই জোট থেকে থাকব। স্থানীয় নির্বাচনেও সমমনা দলসমূহের ব্যানারেও সক্রিয় থাকতে পারি।”
আগামী ৫ ডিসেম্বর জোটের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আতাউল্লাহ আমিন।
নতুন এই জোটে অন্তর্ভুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইসলামী দলের প্রধান বলেন, “মূলত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জামায়াত-জোটের সঙ্গে থাকায় তাকে সেখান থেকে বের করে আনার জন্য একটি চাপ ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই এই তৎপরতা ছিল।”
“কিন্তু মামুনুল হকের অনড় অবস্থানের কারণে দলটিকে জামায়াত জোট থেকে ছাড়িয়ে আনা যায়নি। এখন মামুনুল হকের দল দুই পক্ষের সঙ্গে থাকল,” যোগ করেন তিনি।
ঐক্যের উদ্যোগ শুরু জুলাইয়ে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি ঘরানার বিভিন্ন দল একাধিক জোটে যুক্ত হয়েছিল। দলগুলো পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনের পর তাদের মধ্যে ঐক্য গড়ার উদ্যোগ শুরু হয়।
হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহর আহ্বানে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের নেতারা নীতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা জানান। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর ফটিকছড়িতেই সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়। সেদিন জানানো হয়েছিল, ঐক্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ২২ অক্টোবর ঢাকায় বৈঠক করবেন কমিটির সদস্যরা।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন ও আহমদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির ও মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজী, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল ও আইয়ুব বাবুনগরীও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।














