গণভোটের রায় না মেনে বিএনপিই আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে: শফিকুর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ডা. শফিকুর রহমান৷ ফাইল ছবি
ডা. শফিকুর রহমান৷ ফাইল ছবি

গণভোটের রায় মেনে না নেওয়ায় বিএনপিই বিরোধী দলগুলোকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তার মতে, গণভোটের ফলকে বিএনপি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করলে আপাতত সংসদের বাইরে আন্দোলনে নামতে হতো না বিরোধী দলকে।

রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার ১ বছর: সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অগ্রগতি পর্যালোচনায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এতে সভাপতিত্ব করেন দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

বিরোধী দল এত দ্রুত কেন আন্দোলনে গেল, সেই প্রশ্নের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, তারা আন্দোলন করতে চাননি। জনগণ একটি ভোটের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করেছে, আরেকটি ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে। বিএনপি এই দুই ভোটের মূল্যায়ন করলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলন করতে হতো না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে গণভোটে জনসমর্থন এলেও সেই রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। এর পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য মাঠে নেমেছে।

রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপি ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে এক মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, গণভোটের চারটি বিষয়ের মধ্যে ৪১টি বিষয় রয়েছে— এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেই বিষয়টি বোঝেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। শফিকুর রহমানের ভাষ্য, গণভোটে চারটি দফা থাকলেও জুলাই সনদে ৩১টি দফা ছিল। জনগণ চারটি বিষয় বুঝতে না পারলে ৩১টি দফা কীভাবে বুঝেছে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জনগণকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জনগণকে অজ্ঞ মনে করে এবং নিজেদেরই কেবল জ্ঞানী ভাবে।

বিএনপি সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হস্তক্ষেপ করছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার বক্তব্যে উঠে আসে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে রাষ্ট্রে যোগ্য অবস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল। একের পর এক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এখন পিএসসিতেও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

শফিকুর রহমান দাবি করেন, একজন মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে নিয়ে তাদের পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মন্ত্রী বলেছেন, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্বে থাকায় সদস্যদের সরে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে এবং বিষয়টি জানাতে তিনি বাধ্য হয়েছেন।

পিএসসিকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসা নয়। কোনো মন্ত্রীর পিএসসির সদস্যকে পদ ছাড়ার কথা বলার অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, চাকরির গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো দলীয় কর্মীদের দিয়ে পূর্ণ করার চেষ্টা চলছে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের জন্যই বিভিন্ন সুযোগ রাখা হচ্ছে—এমন বক্তব্যও সরকার থেকে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সরকারি বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, যেসব এলাকায় বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ী হননি, সেসব এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া হবে না— এমন মনোভাব দেখাচ্ছে সরকার।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement