থাইল্যান্ডকে আমদানি বাড়ানো ও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শুক্রবার ব্যাংককে দুই দেশের চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার ব্যাংককে দুই দেশের চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যের আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি এসব পণ্যে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ব্যাংককে দুই দেশের চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) এ প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে চলমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যের আমদানি বাড়ানো এবং থাই বাজারে এসব পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে শুল্ক কমানো।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব একসিরি পিনতারুচি।

দুই দেশের বাণিজ্যে থাইল্যান্ডের পাল্লা অনেক ভারী। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ডলারেরও কম।

বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা দ্রুত শুরুর অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি।

বৈঠকে গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে উভয়পক্ষ। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ১৫ দিন থেকে কমে চার দিনে নেমে আসতে পারে। পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় কমলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফলমূল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণে থাইল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ চেয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি হালাল খাদ্যপণ্য উৎপাদনে প্রযুক্তি বিনিময়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। থাইল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (টিকা) কর্মসূচির আওতায় আতিথেয়তা, নার্সিং, জার্মপ্লাজম ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার প্রস্তাবও দিয়েছে ঢাকা।

অন্যদিকে থাইল্যান্ড তাদের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

জ্বালানি খাতের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। চলমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে। এ লক্ষ্য অর্জনে কৃষি অবশিষ্টাংশ ও কৃষি-শিল্প বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে থাইল্যান্ডের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।

আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনায় আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে’ (আরসিইপি) যোগদানের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানায় বাংলাদেশ।

এ ছাড়া সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। এ ক্ষেত্রে ক্রিকেট ও প্রশিক্ষণে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে থাইল্যান্ড তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad