ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য হাজার কোটি ডলারে নিতে চায় বাংলাদেশ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ২৯
বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তা। ছবি: সংগৃহীত
বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তা। ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়িয়ে এ লক্ষ্য অর্জন করতে চায় সরকার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তার সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপরীতে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৫৬ মিলিয়ন ডলারের মতো।

এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়ানো সম্ভব, যদি বাজারে প্রবেশের বাধাগুলো দূর করা যায়।’

বৈঠকে প্রস্তাবিত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ও সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের আলু, ওষুধ ও টিকার প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিযোগিতামূলক ওষুধ উৎপাদন করছে এবং বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে এসব ওষুধ রপ্তানি করছে। ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের প্রবেশ বাড়াতে ওষুধ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমাতে দেশটির সহযোগিতা চান তিনি।

বাংলাদেশের ওষুধের বিষয়ে জাকার্তায় একক প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ আয়োজন করতে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

দুই দেশ পিটিএ নিয়ে চার দফা আলোচনা করেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০২৩ সাল থেকে আলোচনা থেমে আছে।

বুধবারের বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাত পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পারস্পরিক উদ্যোগে সমাধান করা উচিত। আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর ফাঁকে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি ওই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও একটি প্রতিনিধিদলকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেরতামিনার বাংলাদেশের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে পরীক্ষা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে পরীক্ষাগারে করা পরীক্ষার ফলাফল পারস্পরিকভাবে স্বীকৃতির প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় আলু রপ্তানির চেষ্টা করেছিল। তবে পরীক্ষা ও নিবন্ধন-সংক্রান্ত এসব জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

হালাল পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে হালাল সনদ ও মানদণ্ডের পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্তিও ওয়াতি এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement