দুই প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসলে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব: ভারতীয় দূত

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে ‘নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ থাকলেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে আলোচনায় বসলে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়ে তিনি বলেছেন, এ নিয়ে তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘এর উত্তরে আমি একটাই কথা বলব যে, আমার মনে হয়, উভয় পক্ষই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের টিমকে আমাদের সময় দিতে হবে, এটা একেবারেই নিশ্চিত। যে কোনো এক সময়ে, দুটি সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রের দুই নেতাই...’

তিনি আরও বলেন,’আমাদের তো সবরকম সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা যদি মনে করি যে কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না, তা সত্যি ভুল হবে। তবে একসঙ্গে বসলে এমন কোনো একটা প্রশ্ন নাই যার সমাধান হবে না। তাই আমার মনে হয় দুই নেতা ও তাদের দুই টিমকে প্রয়োজনীয় সময় আমাদের দেওয়া উচিত। আর এগুলো সঠিক সময়ে প্রক্রিয়াধীন হবে।’

এর আগে মঙ্গলবারও তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ‘তাড়াহুড়ো না করা’র কথা জানিয়েছিলেন ভারতের হাইকমিশনার। ওই দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।

পরে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ত্রিবেদী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিজিট নিয়ে বেশি কিছু আলোচনা…আগে যা হয়েছিল, আবার আমি বলি— আমাদের ইনভাইটেশন ইজ ওপেন। এটা নিয়ে আমার মনে হচ্ছে না এবারে কোনো তাড়াহুড়ার দরকার আছে। যখন সময় হবে নিশ্চয় হবে।’

মঙ্গলবার দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন,’এভরিথিং ইজ ভেরি পজিটিভ। বাট উই মাস্ট গিভ ডিউ টাইম। একটা সময়ের মধ্যে সবকিছু পজিটিভ হবে। দেওয়ার ইজ নো কোয়েশ্চেন অ্যাবাউট এনিথিং নেগেটিভ।’

এদিকে আজ বুধবার দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নেতাদের বৈঠকের সুযোগ তৈরি করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আগ্রহের যে জিনিসটা, দুই দেশের মানুষের যে আগ্রহটা, তা হচ্ছে নেতাদের দেখা করতে দিন। জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ ও খেলাধুলা চলতে দিন।’

‘তা পানিই হোক, ক্রিকেট হোক, ফুটবল হোক, বাণিজ্য হোক, কবিতা হোক, থিয়েটার হোক, চলচ্চিত্র হোক কিংবা গান হোক। একদমই, এগুলো আরও বেশি সাংস্কৃতিক... একদমই, পারস্পরিক নির্ভরতা। এরকম পারস্পরিক নির্ভরতা থাকা ভালো,’ যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘বিশেষ আগ্রহ’ থাকে মন্তব্য করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি তো বলব যে আমি ভারতে যখন থাকি, এটা খুবই কৌতূহল জাগায়। এবং আমি দেখেছি যে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে তারা খুবই সতর্ক ও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সত্যিই অনেক কৌতূহলী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর আমি একটা কথা বলব যে, দুই দেশেরই একটা আগ্রহ আছে। আগ্রহ কী আছে? যখনই একটু কথা হয় যে সম্মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসছেন, সবাই দারুণ উৎসাহিত হয়। দুই দেশেই। তার মানে? তার মানেই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা। এটা সাধারণ মানুষ চায়, দুই দেশের সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক মানুষের কথা বলছি না, সরকারের কথা না, সাধারণ মানুষে এটা চায়।’

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ত্রিবেদী। বলেন, ‘এটাতো মাথার ওপর দিয়ে গেল।’ এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘এটি হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ।’

পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানকে ঘিরে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement