গুম-খুনের শিকার পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সহায়তায় আলাদা অধিদপ্তর: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের পরিবারকে গেজেটভুক্ত করে সরকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বলেছেন, আলাদা একটি অধিদপ্তর করে এসব পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তাও দেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক দোয়া ও আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য সরকার কিছু করতে চায়। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন একটি অধিদপ্তর করা হবে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের গেজেটভুক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তড়িঘড়ি করে বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে অনেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা আবার বঞ্চিতদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ফ্যাসিবাদী শক্তি মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বিএনপির অনেক লোককে বাদ দিয়েছে। আমরা তাদের মূল্যায়ন করব।

‘ফ্যাসিবাদী সরকার’ গ্যাস, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করে রেখে গেছে বলে মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। বলেন, বিরোধী দল পাঁচ মাস দেখেই বলছে, আমরা ব্যর্থ। অথচ ১৮ বছরের জঞ্জাল তো ১৮ বছরেও পরিষ্কার করা সম্ভব না। আজকের বিদুৎ, গ্যাস ও অর্থনৈতিক সংকট এগুলো কি আমাদের তৈরি? এগুলো ফ্যাসিবাদী সরকারের তৈরি।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় যেমন ইতিহাস ছিলেন, মৃত্যুর পরও ইতিহাস হয়ে আছেন। দেড় কোটির বেশি মানুষ তার জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন। এমন জনপ্রিয়তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। যতবার নির্বাচনে এসেছেন, তিনি ততবারই মানুষের ভালোবাসা পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা যারা উনার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে কাজ করেছি, সবাই উনার কাছে মায়ের মতো ভালোবাসা পেয়েছি। আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে উনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। উনি বলেছিলেন, ‘আলাল, তোমার মা মারা গেছে তুমি জেলে থাকতে, আমার মাও মারা গেছে আমি জেলে থাকতে।’ এ কথা শুনে আমার মন শান্ত হয়ে গেছিল। শোক ভুলে গিয়েছিলাম।

বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা ও সেলিনা সুলতানা নিশিতা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও কৃষকদের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement