গ্যাসের দাম ৩২ ডলার, ভর্তুকি দিয়েছি ৪৭ হাজার কোটি টাকা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় গ্যাসের দাম (প্রতি ইউনিট) ছিল ১২ ডলার। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের কারণে তা বেড়ে ৩২ ডলারে উঠেছে। এই কয়েক মাসে জ্বালানি খাতে সরকারকে ৪৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জুমার নামাজ শেষে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা জামে মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বে জ্বালানি ক্রাইসিস (সংকট) তৈরি হয়েছে। এই জ্বালানি ক্রাইসিসের মধ্যেও আমরা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে বিদেশ থেকে বেশি দাম দিয়ে গ্যাস কিনছি। আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম, তখন গ্যাসের দাম (প্রতি ইউনিট) ছিল ১২ ডলার, আর এখন সেই গ্যাসের দাম উঠে গেছে ৩২ ডলারে। আমরা এই কয়েক মাসে ভর্তুকি দিয়েছি ৪৭ হাজার কোটি টাকা।’
এভাবে ভর্তুকি দিতে থাকলে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এভাবে যদি আমরা দিতে থাকি, তবে সামাজিক প্রকল্পগুলো যেমন রাস্তাঘাটের কাজ করা, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া, স্কুল-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা— এসবের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন, তবে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা একটা সহজ পদ্ধতি পেয়েছি আল্লাহর দেওয়া সূর্য, আর এই সূর্যের আলোকে বিদ্যুতে তৈরি করা। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, ঘরে ঘরে সোলার বসান। বিদ্যুতের বিলও দেওয়া লাগবে না, প্রিপেইড মিটারের জন্য ঘুরা লাগবে না, কাউকে কিছু বলাও লাগবে না। আপনার বিদ্যুৎ আপনার পছন্দমতো ব্যবহার করবেন।’
সবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাঁচতে হবে, আর বাঁচার জন্য আল্লাহই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা। আপনারা সবাই সহযোগিতা করলে আমাদের ওপর থেকেও চাপ কমবে। আশা করি আপনারা বিষয়টি অনুধাবন করবেন।’
নামাজ শেষে মন্ত্রী স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনে সবাইকে উৎসাহিত করেন। পরে তিনি নিজের বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন।

















