পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ জি এম কাদেরের

পোশাক শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলন দমনে সরকার মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাঁদের ওপর নির্যাতন ও দমন-পীড়নের নিন্দা জানান তিনি।
জি এম কাদের বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে পোশাকশিল্প বা গার্মেন্টস খাত থেকে। অথচ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা ব্যয় ও রান্নার জ্বালানির খরচ মেটানো তাঁদের জন্য শুধু কষ্টসাধ্য নয়, বরং অসম্ভব হয়ে উঠেছে। লাখ লাখ শ্রমিক জীবনধারণের ন্যূনতম ব্যয়ও নির্বাহ করতে পারছেন না।
এই বাস্তবতায় শ্রমিকেরা বেশ কিছুদিন ধরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন বলে উল্লেখ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন বন্ধ করতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আহত তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পোশাক কারখানার সংকটের কথা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অভাবে কারখানাগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতি এবং বন্দরগুলোর বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণেও মালিকেরা বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় শ্রমিকদের বাড়তি বেতনের দায় নিয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা মালিকদের জন্য দুঃসাধ্য হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব তৈরি হচ্ছে এবং ভোগ্যপণ্যের বাজারও সীমিত হয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন জি এম কাদের।
শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের দাবিকে ন্যায্য উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, এ পরিস্থিতির ন্যায়সংগত সমাধানে শ্রমিকদের মজুরি বাস্তবায়নে সরকারকে ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে। তার প্রস্তাব, নগদ অর্থসহায়তা অথবা রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা যেতে পারে। চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ ও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজি গ্যাস মালিকদের মাধ্যমে অথবা সরাসরি শ্রমিকদের কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।







-97ca81-256x144.webp)






