শেখ হাসিনা যতদিন বাঁচবেন, ততদিন অস্থিতিশীলতা— আশঙ্কা উপদেষ্টা জাহেদের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সহিংসতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সহিংসতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে কিছু করার সক্ষমতা না থাকলেও দলটির কাছে থাকা অর্থ দিয়ে নাশকতার চেষ্টা হতে পারে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সহিংসতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

শ্রমিকদের আন্দোলন ও সহিংসতার পেছনে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে কিছু করতে পারবে এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু যেহেতু তাদের কাছে লুটের টাকা পয়সা আছে, সেহেতু তারা কোথাও না কোথাও কোনো ফরম্যাটে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে টাকা খরচ করে।”

“যেহেতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তার কাছে এ বিষয়ে তথ্য আছে সে কারণে কোনো লিংক থাকতেই পারে। তার মানে এই না ডিসেম্বরে তার ফেরার পথ তৈরি করার জন্য এটা হচ্ছে। সরকার অন্তত এটা মনে করে না। তবে শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে,” বলেন তিনি।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন ও পুনর্গঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এর আগে পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন হয়েছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল না।

তিনি বলেন, “আমরা বুঝতে প্রস্তুত আছি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। আমাদের যারা গার্মেন্টস কর্মী আছেন তাদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে এটাতে কোন ভুল নেই। মূল্যস্ফীতি আছে বেসিক কতগুলো জিনিস, জ্বালানির মূল্য বাড়ছে এটা সূত্র ধরে অনেক কিছুরই মূল্য বাড়ছে।”

সরকার শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে আগেই মজুরি কমিশন গঠন করেছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, এতে আন্দোলনের মূল দাবি পূরণের পথ তৈরি হয়েছিল। এরপরও আন্দোলন চলতে থাকা এবং কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, “কিন্তু এরপরও যদি কনটিনিউ করে সহিংস আচরণ কারো কারো মধ্যে দেখা গেছে। এর ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বলেছেন এ সব আন্দোলন সহিংসতা দাবির কারণে হতে পারে না।”

“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যে বাহিনীগুলো তার অধীনে আছে, তাদের কাছে গোয়েন্দা কার্যক্রম আছে, তথ্য আছে তার ভিত্তিতেই তিনি হয়তো বলেছেন সীমান্তের উপর থেকে হয়েছে। এটার সাথে ডিসেম্বরের সম্পৃক্ততা আছে কিনা এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না,” বলেন উপদেষ্টা জাহেদ।

এদিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মঙ্গলবারও মিরপুরে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশকে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে দেখা যায়। পরে শ্রমিকেরা সেখান থেকে সরে কালশী মোড় এলাকায় জড়ো হলে সেখানেও সংঘর্ষ হয়।

গত বৃহস্পতিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরোধের পর বিকেলে তারা সড়ক ছেড়ে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর শনিবার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে আন্দোলন চললেও পরে তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ ঘিরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ। পরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।

সোমবার শ্রমিকদের সড়কে নামতে বাধা দেয় পুলিশ। মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকায় ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে মিরপুর ২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad