
মো. কাফি খান
মো. কাফি খান
সকল লেখা

হরমুজ থেকে হিমালয়: জ্বালানি, ঋণ ও এআইয়ের যুগে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশে জ্বালানির উচ্চমূল্য আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার, বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর একযোগে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়লে রপ্তানিকারক ও ক্ষুদ্র ব্যবসার নগদ প্রবাহ দুর্বল হতে পারে। এর পরোক্ষ প্রভাব ব্যাংকের ঋণমান ও খেলাপি ঋণের ওপরও পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক আইন, ক্ষমতার রাজনীতি ও জবাবদিহির সংকট
আন্তর্জাতিক আইন নিখুঁত নয়। কিন্তু তার অনুপস্থিতির বিকল্প ন্যায়বিচার নয়, বরং ক্ষমতার অবাধ শাসন। শক্তি রাষ্ট্রকে প্রভাবশালী করতে পারে, কিন্তু তাকে নৈতিকভাবে নির্দোষ বা আইনগতভাবে দায়মুক্ত করতে পারে না। কারণ যে বিশ্বে শক্তিশালীর জন্য আইন থাকে না, সেই বিশ্বে দুর্বলের জন্য ন্যায়বিচারও শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট

ব্রাজিলের বিদায়— পতনের সূচনা, নাকি পুনর্জাগরণের পূর্বাভাস?
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় সেই অসমাপ্ত গল্পের সর্বশেষ অধ্যায়। ১৯৯০ সালের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুত বিশ্বকাপ বিদায়। এটি কেবল একটি ম্যাচে পরাজয় নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের পরিবর্তিত শক্তির ভারসাম্যের প্রতিচ্ছবি।

ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় জলসম্পদের ভূরাজনীতি
এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ বাংলাদেশ। কারণ দেশের ৮০ শতাংশের বেশি নদীপ্রবাহ আন্তঃরাষ্ট্রীয় উৎস থেকে আসে। কৃষি উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি পানির ওপর নির্ভরশীল। নদীভাঙন ও লবণাক্ততা এরই মধ্যে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রবাহ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) হঠাৎ করে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক (OPEC) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতির কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে।

যুদ্ধ থামলেও তেলের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এর অর্থ আরও স্পষ্ট— যুদ্ধের সামরিক উত্তাপ কমলেও অর্থনৈতিক অভিঘাত অনেক দিন স্থায়ী হতে পারে। সাধারণ ভোক্তার জন্য এর প্রভাব পড়বে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, খাদ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে।

অবরুদ্ধ হরমুজ: বিপন্ন বিশ্বায়ন ও মানবতার নীরব সংকট
যে জলপথ দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করত, সেখানে আজ অনিশ্চয়তা, ভয় ও কার্যত অচলাবস্থা। এ পরিবর্তন কেবল জাহাজের সংখ্যায় হ্রাস নয়; এটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার গভীর স্তরে এক কাঠামোগত ব্যাঘাত।

ঋণে জর্জরিত এবং যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত বিশ্ব অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সমস্যা নয়; বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির ‘সাপ্লাই চেইনে’র জন্য বড় একটি ধাক্কা। যুদ্ধ কেবল অবকাঠামো ধ্বংস করছে না, বরং জ্বালানি ও বাণিজ্যের বৈশ্বিক স্নায়ুতন্ত্রকে অচল করে দিচ্ছে।

মেধা সম্পদ ও একাডেমিক মেরিটোক্রেসি
আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায়শই একাডেমিক মেরিটোক্রেসিকে (বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, পদোন্নতি, মূল্যায়ন ও নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে শুধু যোগ্যতা ও কাজের মানের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব বা তদবিরের ভিত্তিতে নয়) যথাযথভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয় না।

মধ্যবিত্তের পতন: রাষ্ট্রের অদৃশ্য হৃদযন্ত্রের থমকে যাওয়া
ইতিহাস প্রমাণ করে, পশ্চিম ইউরোপে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপস্থিতির কারণে রাজনৈতিক সংহতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সুসংগঠন বজায় ছিল (Tocqueville, ১৯৫১)। বিপরীতে, মধ্যবিত্ত দুর্বল হলে রাষ্ট্রের ভিত্তি দ্রুতই ঝুঁকির মুখে পড়ে। মধ্যবিত্তের শক্ত অবস্থান রাষ্ট্রকে দীর্ঘমে

বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তি ও নৈতিকতা
ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে যুক্ত থেকেও নিজেদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন অবস্থান নিয়েছে (European Council on Foreign Relations, ২০২৩)। এ অভিজ্ঞতা দেখায়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা জরুরি।

নাগরিক জীবন, নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা
ভূমিকম্পের সময় স্পষ্ট হয়, অনেক ভবনের কাঠামো দুর্বল, যান্ত্রিকভাবে অযোগ্য এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অপ্রস্তুত। সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে, আর প্রশাসনের সক্ষমতাও এই ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়।

হারিয়ে যাওয়া হকারদের সুর

বাংলাদেশে ভেজাল খাদ্য: মানবতার নীরব বিশ্বাসঘাতকতা
ক্ষুধা ধীরে হত্যা করে, ভেজাল নীরবে হত্যা করে। খাদ্যে ভেজাল কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সংকট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রতি বছর ৬০ কোটি মানুষ খাদ্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে চার লাখ ২০ হাজার মানুষ মারাও যায়।

জনসংখ্যাগত স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং বিকেন্দ্রীকরণ
একটি জাতির উন্নয়নের ভিত্তি তার জনশক্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশে, জনসংখ্যাগত স্থিতিশীলতা (Demographic Stability) অর্জন করা এখন আর কেবল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের এক অবিচ্ছেদ্য অং

জীবন: এক অনন্ত যাত্রার প্রতিধ্বনি
জীবনের অর্থ কখনো স্থির নয়। কখনো এটি আনন্দের মায়াজাল, কখনো বেদনার অন্ধকারে নিমজ্জিত। কেউ বলে “জীবন হলো সংগ্রাম” (ফরাসি দার্শনিক রুশো)।কেউ বলে “জীবন হলো আনন্দের উৎসব” (ভারতীয় ভাবধারা)।অর্থাৎ জীবনকে বোঝার একক সূত্র নেই। এটি বহুমাত্রিক, পরিবর্তনশীল এবং জিজ্ঞাসার শিখরে স্থিত।




