জোটসঙ্গীদের ধরে রেখে জেন-জি বিক্ষোভ দমন ও বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণ— ৩ পরীক্ষায় মোদি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
শেষ ৪ মাসের মধ্যে বড় দুটি জেন-জি আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে ভারতে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও পড়তে হয়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে। ছবি: কোলাজ
শেষ ৪ মাসের মধ্যে বড় দুটি জেন-জি আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে ভারতে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও পড়তে হয়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে। ছবি: কোলাজ

জেন-জি বিক্ষোভে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন। গ্রীষ্মকালে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মোকাবিলায় তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল পুলিশ মোতায়েন, কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, যেগুলোকে জেন-জি প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে সে কৌশলে খুব বেশি লাভ হয়নি। এর পরিবর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিরল পিছু হটার ঘটনা ঘটে। শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে মোদি বিক্ষোভকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিরোধীদেরও কিছুটা স্বস্তি দেন।

এ মাসের শুরুতে রাজধানীতে নতুন করে বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এবার আন্দোলনটি ছিল বিভিন্ন পরিবর্তনের দাবিতে জমে ওঠা ক্ষোভের বহির্প্রকাশ। এতে ভারতের ক্ষমতাসীন জোটের অনেক নেতা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাদের আশঙ্কা, নেতিবাচক যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে মোদির এত দিনের রাজনৈতিক দক্ষতা এবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোদি যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে— তিনি নতুন দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিক্ষোভের নেতাদের আটক করা ও প্রতিবাদকারীদের ঘরবাড়িতে অভিযান চালানোর মধ্য দিয়ে তিনি আন্দোলন দমনে আরও সুসংগঠিত কৌশল গ্রহণ করেছেন। এতে তার কিছু সমর্থক আশ্বস্ত হয়েছেন, তিনি আবারও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।

সরকারের এই কৌশল সম্পর্কে জানতে ক্ষমতাসীন দলের এক ডজনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি সদস্য সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের বক্তব্য, সরকারের কৌশল মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।

প্রথমত, বিক্ষোভের এমন যেকোনো উদ্যোগ কঠোরভাবে দমন করা, যা জনমনে এই ধারণা তৈরি করতে পারে যে গ্রীষ্মে জেন-জি আন্দোলন ছিল মোদির ক্ষমতার ওপর জনগণের সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

দ্বিতীয়ত, ঐতিহ্যবাহী বিরোধী দলগুলোকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যেতে দেওয়া। এর মাধ্যমে লড়াইকে এমন একটি পরিচিত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, যেখানে মোদি নিজেকে একজন পুরোনো ও পরিচিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইরত নেতা হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার বিষয়ে তার আত্মবিশ্বাস দীর্ঘদিনের।

আপাতত মোদির এই কৌশল কার্যকর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে সরাসরি নরেন্দ্র মোদিবিরোধী বক্তব্য এসেছে ব্যাপক পরিমাণে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে সরাসরি নরেন্দ্র মোদিবিরোধী বক্তব্য এসেছে ব্যাপক পরিমাণে। ছবি: সংগৃহীত

কঠোর দমন-পীড়নের কৌশল

গত গ্রীষ্মে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনটি আবারও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, মোদি সরকার ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়েছে।

সরকারের সমর্থকদের দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, বিক্ষোভ দমনে সরকারের এই পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সরকারের এই অবস্থানের কারণে আন্দোলনের গতি কমে এলেও দেশ জুড়ে অসন্তোষ পুরোপুরি দূর হয়নি।

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রভাব কমাতে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে লকডাউন ও অবরোধের মাধ্যমে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। একের পর এক অভিযানে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়িতে গিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে।

সরকারপন্থি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো এ ঘটনাগুলোকে সরকারের পক্ষে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে। সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত অভিযোগগুলোও নতুন করে সামনে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও মোদির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নতুন কোনো গণআন্দোলনের রূপ নিতে পারেনি।

মোদি সরকারের নেতৃত্বে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করে আসছে, যেন তারা ক্ষমতাসীন সরকারের বিকল্প হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তারা এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরে, যিনি একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী, উন্নয়নমুখী এবং প্রশাসনিকভাবে দক্ষ।

কিন্তু সাম্প্রতিক আন্দোলন মোদির সেই ভাবমূর্তির সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দুর্বল হয়ে পড়ছে বিক্ষোভের গতি

সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আন্দোলনের গতি কমে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ আটক হয়েছেন, অন্যরা মামলা ও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে আন্দোলনে অংশ নিতে দ্বিধা করছেন।

সরকারের সমর্থকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয়।

তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এভাবে বিক্ষোভ দমন করা হলেও তরুণদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের সমাধান হবে না।

মোদির রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— তিনি এমন কোনো আন্দোলনকে বড় হতে দিতে চান না, যা তার সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর জনমত গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন, যেন তাদের আন্দোলনকে একটি পরিচিত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখানো যায়।

ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই কৌশল নতুন নয়। তবে এবারের পরিস্থিতিতে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

জেন-জি আন্দোলন দিয়ে ভারতে তারুণ্যের আইকনে পরিণত হয়েছেন অভিজিৎ দীপকে, যার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে নতুন দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ছবি: সংগৃহীত
জেন-জি আন্দোলন দিয়ে ভারতে তারুণ্যের আইকনে পরিণত হয়েছেন অভিজিৎ দীপকে, যার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে নতুন দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ছবি: সংগৃহীত

বিজেপির ভেতরেও অস্বস্তি

মোদির শিবিরের ভেতরেও এরই মধ্যে কিছু মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিজেপির কয়েকজন নেতা ও জোটের অন্য দলগুলোর কিছু সদস্য মনে করছেন, ক্ষমতা অতিরিক্তভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিজেপির সাবেক নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেছেন, বিরোধীদের সমস্যা নিয়ে তাদের অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তার মতে, বিরোধীদের নিজেদের মধ্যেই নানা সমস্যা রয়েছে। তারা তাদের সমর্থকদের একত্র করতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বিরোধিতা করছেন, কেউ কেউ নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন, আবার অনেকে ঘরে বসে আছেন।

বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল ও সংগঠন নিয়ে কাজ করা নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

বিরোধীদের জন্য নতুন সুযোগ?

ভারতের রাজনৈতিক বিরোধীরা সাম্প্রতিক আন্দোলনকে নিজেদের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দল কংগ্রেস। দলটির নেতা রাহুল গান্ধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং মোদি সরকারের সমালোচনা করছেন। তবে তার নেতৃত্বে কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা স্থানীয় পর্যায়ে কতটা বাড়ানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিজেপির নেতাদের মতে, বিরোধী দলগুলো মোদির বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিরোধীদের একটি অংশ মনে করে, তরুণদের আন্দোলন রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কারণ, এই আন্দোলনে এমন অনেক মানুষ অংশ নিয়েছেন, যারা আগে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতা কৃষ্ণ কান্ত শুক্লা বলেন, কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে দেখে জনসমর্থনের প্রকৃত চিত্র বোঝা যায় না। তার মতে, তরুণদের আন্দোলনে কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকলেও সেটিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে আগামী বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে এই আন্দোলনের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

জেন-জি শুরু করলেও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে কংগ্রেসসহ ভারতের প্রায় সব বিরোধী দলই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একাধিকবার আটকও হতে হয়েছে পুলিশে কাছে। ছবি: সংগৃহীত
জেন-জি শুরু করলেও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে কংগ্রেসসহ ভারতের প্রায় সব বিরোধী দলই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একাধিকবার আটকও হতে হয়েছে পুলিশে কাছে। ছবি: সংগৃহীত

জোটসঙ্গীদের ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

২০২৪ সালের নির্বাচনে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর মোদিকে জোটের কয়েকটি শরিক দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে তার সরকারের জন্য রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা আগের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে মোদি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এমন কোনো আন্দোলনকে বড় হতে দিতে চান না, যা জোটের মধ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সরকার ঐতিহ্যবাহী বিরোধী দলগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে দিচ্ছে। এতে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যে একটি পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

সরকারের কৌশল সম্পর্কে অবগত নেতাদের মতে, এর মাধ্যমে মোদি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন, যেখানে তার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলেও তা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিতে না পারে। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে তরুণদের আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের প্রতি জনসমর্থনের ওপর।

ভারতে এবারের আন্দোলনে নেহা বোরা পরিণত হয়েছেন বিক্ষোভের অন্যতম মুখে। তাকেও আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে এবারের আন্দোলনে নেহা বোরা পরিণত হয়েছেন বিক্ষোভের অন্যতম মুখে। তাকেও আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

মোদির সামনে কঠিন পরীক্ষা

মোদি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, যিনি কঠিন পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন। কিন্তু জেন-জি আন্দোলন তার সেই সক্ষমতার সামনে নতুন পরীক্ষা তৈরি করেছে।

তরুণদের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের প্রভাব সীমিত রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তরুণদের ক্ষোভ যদি আরও বিস্তৃত হয় এবং বিরোধী দলগুলো সেই অসন্তোষকে সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দিতে পারে, তাহলে মোদি সরকারের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এখন পর্যন্ত সরকার আন্দোলনের গতি কমাতে পেরেছে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং জোটসঙ্গীদের আস্থা ধরে রাখার ক্ষেত্রে মোদির সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad