এগিয়ে আসছে মধ্যবর্তী নির্বাচন, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে রিপাবলিকান প্রার্থীদের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতি থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে লড়াই করা রিপাবলিকান প্রার্থীরা। কেউ তার শুল্কনীতির বিরোধিতা করছেন, কেউ ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে কথা বলছেন। আবার কেউ নিজেদের দ্বিদলীয় সহযোগিতার সমর্থক হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে ভোটারদের মনোভাব বদলাতে দলটির হাতে সময় খুব বেশি নেই।
কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনি প্রচারে প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থের জোগান ও আসনভিত্তিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে জয় ধরে রাখার চেষ্টা করছে দলটি। পাশাপাশি জনমত জরিপের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হওয়া কিংবা কোনো বড় রাজনৈতিক ঘটনা নির্বাচনি সমীকরণ বদলে দেওয়ার আশাও করছে তারা।
গত সপ্তাহে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনি বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয়, শুল্ক ও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। সাধারণত দলটির প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের বামপন্থি নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণের মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। কিন্তু এবার ভোটারদের কাছে নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পও পরিস্থিতি সামাল দিতে খুব একটা নমনীয় অবস্থান নিচ্ছেন না। জনপ্রিয়তা কমলেও তিনি এমনভাবে প্রচার চালাচ্ছেন, যেন তিনিও নির্বাচনের প্রার্থী। ডেটা সেন্টারের পক্ষে প্রচার চালানোর পাশাপাশি শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের বিষয়ে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার আগ্রহ দেখাননি তিনি।
তবে নির্বাচনি প্রচারে অর্থের জোগান রিপাবলিকানদের বড় শক্তি। ট্রাম্পের সমর্থনে গঠিত সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (সুপার পিএসি) এবং ধনী রাজনৈতিক মিত্রদের সহায়তায় দলটি এখনো অর্থের দিক থেকে এগিয়ে। জুলাইয়ের শুরু থেকে রিপাবলিকানদের পক্ষে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। এ অর্থ দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে দলটি।
প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোর সীমানা নিজেদের সুবিধামতো পুনর্নির্ধারণের চেষ্টাও করেছে রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে সিনেটে এবার এমন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে দলটির সমর্থন বেশি।
সিনেটে কঠিন লড়াই
সিনেটের নির্বাচনে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপারের কাছে পিছিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী। জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফের চেয়ে পিছিয়ে আছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মাইক কলিন্স।
এবার ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কানসাসেও প্রচার জোরদার করেছে। দলটির প্রধান সুপার পিএসি সিনেট মেজরিটি পিএসি সেখানে ৫০ লাখ ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করেছে।
-dbb4e4.jpg)
আলাস্কা, আইওয়া, ওহাইও ও টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন অথবা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন। অথচ আগের তিনটি নির্বাচনে এসব অঙ্গরাজ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে সম্প্রতি এসব অঙ্গরাজ্যে প্রচারে অংশ নিয়েছেন ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে জরিপগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সিনেটে সংখ্যালঘু দলের নেতা ও নিউইয়র্কের সিনেটর চাক শুমার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়েও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে শুমার বলেন, উত্তর ক্যারোলাইনার রয় কুপার, ওহাইওর সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন ও আলাস্কার সাবেক প্রতিনিধি মেরি পেলটোলাকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে রাজি করানোর পেছনে তার ভূমিকা ছিল। আইওয়ায় জশ তুরেককে দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনেও জিততে সহায়তা করেছেন তিনি।
শুমার বলেন, ‘সবকিছু অপরিবর্তিত থাকলে অঙ্গরাজ্যগুলোর কাঠামোর কারণেই আসনবিন্যাস আমাদের সংখ্যালঘু অবস্থানে আটকে রাখত। আমি এটা মেনে নিতে পারিনি। তাই আমাদের নির্বাচনি লড়াইয়ের পরিধি বাড়াতে হয়েছে। শুরুতে যে আসনবিন্যাস ছিল, তা আমি মেনে নিইনি। বরং আরও ভালো একটি নির্বাচনি মানচিত্র তৈরিতে কাজ করেছি।’
তবে মেইন, মিশিগান ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের লড়াইও সহজ নয়। এসব আসনে দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান এখনো কম। শেষ মুহূর্তের প্রচার সেখানে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদেও চাপে রিপাবলিকানরা
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাও রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শুক্রবার কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট ১৮টি আসনে নির্বাচনি পূর্বাভাস ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে পরিবর্তন করেছে। আইওয়ার দুটি আসন— প্রতিনিধি জ্যাক নান ও মারিয়েনেট মিলার-মিকসের দখলে থাকা আসন— এখন ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনাময় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে নেব্রাস্কার ওমাহাভিত্তিক আসনটি নিয়ে কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছে রিপাবলিকানরা। ওই আসনের বর্তমান প্রতিনিধি ডন বেকন অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মিনেসোটার প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও রিপাবলিকানদের হুইপ টম এমার মনে করেন, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থকদের সন্তুষ্টি ভোটের মাঠে দলটির জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। রোববার এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত যে দল হোয়াইট হাউজে জয়ী হয়, সেই দলের ভোটাররা সন্তুষ্ট থাকেন। আমি মনে করি, আমাদের সমর্থকেরা ভোট দিতে যাবেন। আপনি সন্তুষ্ট থাকতে পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ভোট দেওয়া উচিত নয়। আপনারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিন, আমরা ঠিক থাকব।’
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র তিনটি আসন নিজেদের দখলে নিতে হবে। নির্বাচনি পূর্বাভাস দেওয়া অনেক সংস্থার ধারণা, দলটি এর চেয়েও বেশি আসনে জয় পেতে পারে। তবে কতটি আসনে জয় আসতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে চাননি প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা নিউইয়র্কের হাকিম জেফ্রিস।
গত সপ্তাহে এক আলোচনায় তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনি সাফল্যের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনার কথা বলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অনুষ্ঠিত ওই মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। জেফ্রিস বলেন, ‘অতীতের ফলাফল ভবিষ্যতের ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে কী সম্ভব, তা বোঝার জন্য অন্তত একটি পথ দেখায়।’
মাস্কের বিপুল অর্থসহায়তা
নির্বাচনি প্রচারে ইলন মাস্কের বিপুল অর্থসহায়তা রিপাবলিকানদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর— এই তিন মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনকে প্রায় ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তার অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে। এর মধ্য দিয়ে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বড় অর্থদাতায় পরিণত হয়েছেন মাস্ক।
মাস্কের অনুদানের মধ্যে রয়েছে সিনেটে রিপাবলিকানদের প্রধান সুপার পিএসি সিনেট লিডারশিপ ফান্ডকে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিতে কাজ করা তার নিজস্ব সংগঠন আমেরিকান পিএসিকে ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি এবং প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সমর্থন দেওয়া কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ডকে ২ কোটি ডলার। এ ছাড়া আরও কয়েকটি সংগঠনকে অর্থ দিয়েছেন তিনি।
টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনেও মাস্কের আগ্রহের প্রতিফলন রয়েছে তার অনুদানে। অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন দেওয়া একটি সুপার পিএসিকে ১ কোটি ডলার দিয়েছেন তিনি। জনমত জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন প্যাক্সটন। তালারিকো জয়ী হলে ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম টেক্সাস থেকে সিনেটে কোনো ডেমোক্র্যাট নির্বাচিত হবেন।
টেক্সাসে তালারিকোর অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক
নয় দিন নির্বাচনি প্রচার থেকে আড়ালে থাকার পর শুক্রবার অস্টিন সিটি লিমিটস সংগীত উৎসবে হাজির হন ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকো। তিনি জানান, ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে অসুস্থ ছিলেন।
তালারিকোর অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেন প্যাক্সটন। এখন টেক্সাসের নির্বাচনি প্রচার কোন দিকে এগোবে, তা স্পষ্ট নয়। শনিবার তালারিকো প্যাক্সটনকে সরাসরি বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পও বলেছেন, প্যাক্সটনের বিতর্কে অংশ নেওয়া উচিত। তবে এখনো বিতর্কে অংশ নিতে সম্মতি দেননি প্যাক্সটন।
জ্বালানির দাম নিয়েও অস্বস্তিতে রিপাবলিকানরা
সিনেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে, এমন পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে ৬ লাখ ১৫ হাজার ১০০টি ভোট পড়েছে। এদিকে জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দিয়ে নিজ দলের কয়েকজন নেতারও বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।

মিশিগানের সাবেক প্রতিনিধি মাইক রজার্স ও আলাস্কার সিনেটর ড্যান সুলিভান— দুজনই নিজেদের অঙ্গরাজ্যে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন। তারা ট্রাম্পের এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন। শনিবার পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটির উদ্যোগ নেবেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।
মেইনেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নির্বাচনি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাড়ি গরম রাখার জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় শরতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করার সময় ঘর গরম রাখতে ভোটারদের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এক বছর আগের তুলনায় সাধারণ আকারের একটি ট্যাংক জ্বালানি তেল দিয়ে পূর্ণ করতে এখন ৮০ শতাংশ বেশি খরচ হচ্ছে।
রিপাবলিকানরাও স্বীকার করছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি সিনেটর সুসান কলিন্সের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আগে যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন কলিন্স। পরে অবশ্য তিনি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।
ওহাইওতেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের চিত্র পাওয়া গেছে। সিএনএন ও এসএসআরএসের এক জনমত জরিপে অঙ্গরাজ্যটির ৭৬ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। একই জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের চেয়ে ৬ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। হাস্টেডের প্রতি সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে সম্প্রতি ওহাইও সফর করেছেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স।
জর্জিয়ায় বিতর্কে বর্ণবাদ নিয়ে পালটাপালটি বক্তব্য
জর্জিয়ায় সিনেট নির্বাচনের বিতর্কে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্সের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা জন লুইসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘জন লুইস যদি আজ সেলমা থেকে মন্টগোমেরি পর্যন্ত মিছিল করতেন, তাহলে মাইক কলিন্স তার দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে যেতেন।’
কলিন্সের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ও ইহুদিবিদ্বেষী মতাদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সহযোগী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে অসফ বলেন, কলিন্স ‘তৃতীয় রাইখের অর্ধেক লোককে নিয়োগ দিয়েছেন’। তৃতীয় রাইখ বলতে নাৎসি জার্মানির শাসনামলকে বোঝানো হয়।
জবাবে কলিন্স বলেন, তিনি ‘বর্ণবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণার নিন্দা জানিয়েছেন’।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকতে জীবনযাত্রার ব্যয়, শুল্কনীতি, জ্বালানির দাম ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিপুল অর্থসহায়তা ও নির্বাচনি কৌশলের সুবিধা থাকলেও ভোটারদের মনোভাব বদলে কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে





















-027dc7-256x144.webp)
