বিক্ষোভের আশঙ্কায় শনিবার বন্ধ ল্যুভরসহ প্যারিসের ৩ জাদুঘর

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ফ্রান্সের ল্যুভর জাদুঘরের সামনে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের ল্যুভর জাদুঘরের সামনে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে নতুন করে দেশ জুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতির মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে বিক্ষোভের দিম প্যারিসের ল্যুভর, ওরসে ও পিকাসো জাদুঘর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও ভাঙচুর ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন বাড়ানো হচ্ছে।

আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফরাসি সরকার জানায়, পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) তিনটি জাদুঘর বন্ধ থাকবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এর তত্ত্বাবধানে থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, কর্মীদের সুরক্ষা এবং শিল্পকর্ম সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী জ্যঁ-দিদিয়ে বার্জার বিএফএমটিভিকে বলেন, বিক্ষোভ ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে যত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল, এবার তার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছুটি বাতিল করে কাজে ফিরতে বলা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সান্তিনেল বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ পুলিশ ইউনিট জিআইজিএন ও রেইডকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁও। তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনে শ্রমিক ইউনিয়নের মতো অনুমোদিত সংগঠন ছাড়া অননুমোদিত কাউকে বিক্ষোভ করতে দেওয়া হবে না, ‘যেখানে সম্ভব’ এসব বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হবে। ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া বিক্ষোভের আবেদন পর্যালোচনা করবেন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধানরা।

শনিবারের জন্য লিওঁ শহর জুড়ে এবং তুলোঁর কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দোকানমালিকদেরও দোকানপাট সুরক্ষিত রাখা এবং ভাঙচুরে ব্যবহার করা হতে পারে— এমন বস্তু সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত সপ্তাহের শেষ নাগাদ ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েকটি স্থানে সহিংসতা, দোকানপাট ও সরকারি ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে কারফিউ জারি করা হয়েছিল।

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভের পটভূমিতে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও দৈনন্দিন খরচের চাপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন ২০১৮ সালে দেশ জুড়ে বড় ধরনের প্রতিবাদের সূচনা করেছিল। এবারের পরিস্থিতিতে সরকার নিরাপত্তা জোরদার করলেও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিষেধাজ্ঞার ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্কের অবকাশ তৈরি হয়েছে।

এদিকে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো আগামী ৫ নভেম্বর দেশ জুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে সপ্তাহান্তের পরিস্থিতির পরও ফ্রান্সে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad