পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে হোয়াইট হাউজের নতুন প্রেস সেক্রেটারি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ক্যারোলিন লেভিটের জায়গায় নিয়োগ পেয়ে প্রথম দিনের প্রেস ব্রিফিংয়েই হোঁচট খেয়ে আলোচনায় এসেছেন কেটি জাকারিয়া। পাশাপাশি তার পেশাগত যোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। জাকারিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছেন। ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সের মতো সংবাদমাধ্যমে আইনবিষয়ক বিশ্লেষক হিসেবেও তিনি পরিচিতি তৈরি করেছেন।

তবে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধান বলছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য কিংবা ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বার-লাইসেন্সের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। প্রথম দিনের প্রেস ব্রিফিংয়েও এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন জাকারিয়া। সেখানেও তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেননি তার ‘বস’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, জাকারিয়া ২০১১ সালে পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির কারুসো স্কুল অব ল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। কিন্তু আইন স্কুল থেকে ডিগ্রি পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অনুমতি পাওয়া নয়। আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু জাকারিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য থেকে বার-লাইসেন্স নেওয়ার প্রমাণ নেই।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ের পর সাংবাদিকরা জাকারিয়াকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি কোথায় বার পরীক্ষা পাস করেছেন? জাকারিয়ার উত্তর ছিল, ‘যখন আমি চীনে গিয়েছিলাম।’ কিন্তু কোন রাজ্য থেকে বা ঠিক সুনির্দিষ্ট কোথায় তিনি বার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লাইসেন্স পেয়েছিলেন, এ নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। জাকারিয়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজেকে করপোরেট লয়্যার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বেইজিংয়ের ঝোং লুন ল ফার্মে কাজ করেছেন বলে তার লিংকডইন প্রোফাইলে উল্লেখ আছে। কিন্তু চীনে বিদেশিদের আইনজীবী হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। চীনা আইনে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে হলে চীনা নাগরিক হতে হয়। বিদেশিরা আইনি বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু চীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারেন না।

জাকারিয়া অবশ্য বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন ল’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনসংক্রান্ত আইন নিয়ে কাজ করেছেন এবং তার সব ধরনের প্রয়োজনীয় নথি ছিল। কিন্তু তিনি ঠিক কোথায় বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, সে বিষয়টি বিবৃতিতেও জানাননি।

জাকারিয়ার বার লাইসেন্স কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হোয়াইট হাউজের নতুন এই প্রেস সেক্রেটারির বার লাইসেন্সের বিষয়টি কেবল পেশাগত যোগ্যতা নয়, তার কাজের ধরনের জন্য আলোচনায় এসেছে। তিনি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্র। তিনি প্রতিদিন সরকারের নীতি ও প্রেসিডেন্টের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন। ফলে তার নিজের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে তথ্য সঠিক ও যাচাইযোগ্য কি না— এটি জনআস্থার প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

আইন ও পেশাগত নৈতিকতা বিশেষজ্ঞ রেনে নাকে জেফারসনের মতে, এটি নিছক শব্দের খেলা নয়। হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি হতে আইনজীবী হওয়া কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। কিন্তু কেউ যদি নিজেকে এমন একটি পেশাজীবী হিসেবে পরিচয় দেন, যার জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স প্রয়োজন, তাহলে সেই দাবির সত্যতা গুরুত্বপূর্ণ।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এর মধ্যেই ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টিবিলিটি নামের একটি ওয়াশিংটনভিত্তিক নজরদারি সংগঠন ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট বারে অভিযোগ দিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, জাকারিয়া বার-লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও বারবার নিজেকে আইনজীবী হিসেবে উপস্থাপন করে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করা উচিত। ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্স ছাড়া নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আইনি সমস্যার কারণ হতে পারে।

ট্রাম্পের কাছেও উঠল প্রশ্ন

জাকারিয়ার পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক শেষ পর্যন্ত তার নিয়োগদাতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত গড়িয়েছে। সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের সামনেই জানতে চান, তার নতুন প্রেস সেক্রেটারি কোথায় বার পরীক্ষা পাস করেছেন।

ট্রাম্পও এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। তিনি বরং প্রশ্নটি জাকারিয়ার দিকে ঠেলে দেন। এরপর জাকারিয়া ‘যখন চীনে গিয়েছিলাম’ মন্তব্য করেন, যা কোনো অর্থ তৈরি করে না বলে উল্লেখ করছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো। এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউজও তার বার-লাইসেন্সের নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেনি। সে কারণেই বিতর্কটি থামছে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হোয়াইট হাউজ বা ট্রাম্প যদি জাকারিয়ার পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে বিতর্কটি শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনবৃত্তান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগ প্রক্রিয়া, যাচাই-বাছাই ও জনসাধারণের কাছে তথ্য উপস্থাপনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement