নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মার্কিন সেনাবাহিনীতে ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। ইনসেটে মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত নিদাল মালিক হাসান। ছবি: কোলাজ
মার্কিন সেনাবাহিনীতে ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। ইনসেটে মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত নিদাল মালিক হাসান। ছবি: কোলাজ

ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাবেক মনোবিজ্ঞানী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি লাইভ স্ট্রিম বা অনলাইনে প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ও সৎ মানুষই তার (নিদাল হাসান) মৃত্যুর দৃশ্য দেখতে চাইবেন না। তাই পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ করা হবে না।

এর আগে ট্রাম্প ফোর্ট হুড হামলার অপরাধী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি। তিনি জানান, তিনি নিজে এই দৃশ্য দেখতে চান না।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ৭২ জন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সরকারের কাছে মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য লাইভ প্রচার করার পরিকল্পনা বাতিল করার জোর দাবি জানান।

একটি চিঠিতে তারা লেখেন, আমরা প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেসের প্রতিনিধি এবং আমাদের সহনাগরিকদের কাছে এই নিষ্ঠুর ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

চলমান বিতর্ক ও চাপের মুখে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত বদল করলেও তার আগের সিদ্ধান্তের পক্ষেই রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি এই মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে প্রচার করা হতো, তবে আমেরিকা যে কীভাবে সন্ত্রাসী ও হাসানদের মতো মানুষদের মোকাবিলা করে, তা বিশ্ব জুড়ে একটি বড় সতর্কবার্তা হতে পারত।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এর আগে নিদালের সাজা সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নিদালের মৃত্যুদণ্ড জনসাধারণের দেখার ব্যবস্থা করা হবে। তার ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি মানুষকে বুঝতে হবে।

২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড ঘাঁটির একটি সেনা প্রস্তুতি কেন্দ্রে গুলি চালান তৎকালীন সেনা মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল হাসান। এতে ১৩ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন। আফগানিস্তানে মোতায়েনের আগে চালানো ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ১২ জন কর্মরত সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।

২০১৩ সালে সামরিক আদালত হাসানকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেন। দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার দণ্ডের বিরুদ্ধে আবেদন পর্যালোচনা করতে অস্বীকৃতি জানায়। গত ২ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দেন। এরপর সেনাবাহিনী ৩ ডিসেম্বর সেই সাজা কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করে।

প্রায় সাড়ে ছয় দশকের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য মৃত্যুদণ্ড সাজা পেতে যাচ্ছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালে। আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বশেষ নজির আরও আগের— ১৯৪৫ সালে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement