কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে কী করবেন ট্রাম্প— বিকল্প পরিকল্পনায় হোয়াইট হাউজ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলেও নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে হোয়াইট হাউজ। এ ক্ষেত্রে অভিবাসন, শুল্কনীতি, আবাসন ব্যয়, সরকারি ব্যয় ও ফেডারেল প্রশাসন পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ খুঁজছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
শুধু তাই নয়, হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আরও দুজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে— ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, শুনানি ও নথি তলব শুরু করতে পারে— এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও চলছে কয়েক মাস ধরে।
ওই কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত এপ্রিল থেকেই হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার, বাজেট পরিচালক রাসেল ভট ও হোয়াইট হাউজ কাউন্সেলস অফিসের কর্মকর্তারা এ নিয়ে কাজ করছেন। কংগ্রেসের নতুন আইন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, কোন ক্ষেত্রে তার ক্ষমতার সীমা কতটা এবং সেই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে কীভাবে তা রক্ষা করা যাবে— এসব বিষয় চিহ্নিত করাই তাদের কাজ।
হোয়াইট হাউজের কাউন্সেল উইল স্কার্ফ ও তার দল বিশেষভাবে পর্যালোচনা করছে, ট্রাম্প এককভাবে কতটুকু আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন, কোথায় তার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করা সম্ভব এবং আদালতে এসব সিদ্ধান্তের পক্ষে কী যুক্তি দেওয়া যাবে। পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে এসেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের সুযোগ সংকুচিত হবে, তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়েও বাধা তৈরি করতে পারবে।
কিন্তু একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য ও ফেডারেল প্রশাসন পরিচালনায় বিস্তৃত নির্বাহী ক্ষমতা থেকে যাবে। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি এরই মধ্যে সেই ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন।
কংগ্রেসের বাইরে যেসব পরিকল্পনা
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট— দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইলে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি ও ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে। জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য গত এক মাসে দেশ জুড়ে প্রচার সমাবেশ করেছেন ট্রাম্প। তবে প্রকাশ্যে রিপাবলিকানদের জয়ের আশা প্রকাশ করলেও তার সহযোগীরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে ২০২৭ সালে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সম্ভাবনা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।
হোয়াইট হাউজের বিবেচনায় থাকা নির্বাহী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন আমদানিতে নতুন শুল্ক আরোপ, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিকদের ভিসার নিয়ম কঠোর করা এবং আবাসন ও নির্মাণ ব্যয় কমানোর উদ্যোগ। এসব বিষয়ে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে প্রস্তাব ও আইনি পর্যালোচনা জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কংগ্রেসে নতুন আইন পাস না করিয়েও বিদ্যমান আইন ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার আওতায় যতটা সম্ভব নীতি বাস্তবায়ন করা।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র লরেন বিস অবশ্য রিপাবলিকানদের নির্বাচনি পরাজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের আলোচনাকে ভিত্তিহীন বর্ণনা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বক্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকানরা সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সাধারণ মানুষের হাতে বেশি অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া এবং মার্কিন জনগণের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকারে অটল।
এই পরিকল্পনার একটি বড় অংশের দায়িত্বে রয়েছেন বাজেট পরিচালক রাসেল ভট। তার নেতৃত্বাধীন মার্কিন অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) খতিয়ে দেখছে, কংগ্রেস আগে যেসব অর্থ বরাদ্দ করেছে, সেগুলো ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের কোন কোন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অর্থাৎ নতুন করে কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েও বিদ্যমান বরাদ্দের মধ্যে থেকে প্রেসিডেন্টের পছন্দের কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় করতে চায় প্রশাসন।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান বা গ্র্যান্ট দেওয়ার নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন ভট। প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি অর্থ কোন কর্মসূচি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে যাবে, সে সিদ্ধান্তে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের ভূমিকা বাড়ানো হবে। এতে কংগ্রেসের নতুন অনুমোদন ছাড়াই সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর হোয়াইট হাউজের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার জন্য বরাদ্দ করা অর্থ কীভাবে এবং কোন কর্মসূচিতে ব্যয় হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, সেটিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা এটি।
হোয়াইট হাউজের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব প্রস্তুতি সম্পর্কে ট্রাম্পকে নিয়মিত অবহিত করা হয়েছে এবং আলোচনাতেও তিনি অংশ নিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশ পরিচালনায় ট্রাম্প কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন— এমন প্রশ্নে পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একজনের উত্তর ছিল, ‘খুবই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।’
নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে শাসনের অভিজ্ঞতা
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে আসছেন। কংগ্রেসের নতুন আইন বা অনুমোদন ছাড়াই ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ, অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার, ফেডারেল সরকারের কর্মীসংখ্যা কমানো এবং পররাষ্ট্রনীতিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রেও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।
তবে ট্রাম্পের বড় ধরনের কর ও সরকারি ব্যয় কমানোর প্যাকেজটি কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েই পাস হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়ার পর তাতে সই করেন ট্রাম্প।
নির্দলীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ইনসাইড ইলেকশনসের সম্পাদক নাথান গনজালেসের মতে, গত দুই বছরে ট্রাম্প কার্যত কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নির্বাহী আদেশ ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করে যতটাসম্ভব কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তিনি এই পথেই আরও বেশি এগোবেন বলে মনে করেন গনজালেস।
এ ক্ষেত্রে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প একাধিকবার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে নতুন আইন ছাড়াই নিজের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ বাড়িয়েছেন।
কংগ্রেস ভোটের মাধ্যমে এসব জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট তাতে ভেটো দিলে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট— উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সব ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়া সহজ হবে না।
ডেমোক্র্যাটদের হাতে যেসব বাধা তৈরির ক্ষমতা থাকবে
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য পুরোপুরি নির্বিঘ্ন পরিস্থিতি তৈরি করবে না। বিশেষ করে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে বিচারক ও নির্বাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে তারা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে কোনো শূন্য পদ তৈরি হলে নতুন বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও বাধা দিতে পারবে।
টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের নক্সভিল ক্যাম্পাসের জননীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক ইতিহাসের লেখক অ্যান্ড্রু বুশ মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি অনিচ্ছুক থাকবে।
এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আইন পাস না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। তবে প্রেসিডেন্টও ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত বিলে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হবে। বর্তমান আসনসংখ্যার সমীকরণে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এত বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন।
নির্বাহী আদেশের ক্ষেত্রেও আইনি বাধা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আদালত তা স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন। এ কারণে হোয়াইট হাউজ বিচার বিভাগের কাছ থেকে আইনি মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই কোন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব এবং আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে কীভাবে তা রক্ষা করা যাবে, সে বিষয়ে আগাম আইনি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রস্তুতি
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত কার্যক্রম। নির্বাহী আদেশ বা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করে এই বাধা এড়ানোর সুযোগ নেই।
রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিনিধি পরিষদের জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতা ও বিভিন্ন কমিটির কর্মকর্তারা ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজে, রাজনৈতিক মিত্র কিংবা অর্থদাতাদের সুবিধা দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা করছেন। এ জন্য শুনানি আয়োজন, সমন জারি এবং সরকারি নথি ও তথ্য তলবের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারাও কয়েক মাস ধরে এমন তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রশাসনের আইনজীবীরা রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার প্রধানদের কংগ্রেসের জিজ্ঞাসাবাদ, নথি চাওয়া এবং সমনের মুখে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, সে বিষয়ে ব্রিফ করেছেন। কর্মকর্তাদের লিখিত যোগাযোগ ও নথি তৈরির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যক্তিগত উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ ও আলোচনা কংগ্রেসের তদন্তের বাইরে রাখার জন্য নির্বাহী গোপনীয়তার (এক্সিকিউটিভ প্রিভিলেজ) ক্ষমতা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছে হোয়াইট হাউজ। এ বিষয়ে বিচার বিভাগের কাছে আইনি মতামত চাওয়া হয়েছে। এমন মতামত পাওয়া গেলে ট্রাম্প ব্যক্তিগত উপদেষ্টাদের সঙ্গে তার যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে অস্বীকৃতি জানানোর যুক্তি হিসেবে তা ব্যবহার করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হবে। ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় ও প্রশাসনের ওপর নজরদারিতে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে ট্রাম্প নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। ফলে ২০২৭ সালে হোয়াইট হাউজ ও কংগ্রেসের মধ্যে নীতিগত বিরোধের পাশাপাশি তদন্ত, আদালত ও সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
রয়টার্স অবলম্বনে





-b3e939.jpg)

















