যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কায় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো হামলার জবাবে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা একেবারে নাকচও করেনি ওয়াশিংটন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শনিবার সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে দেওয়া নির্দেশনায় মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির জবাবে ভৌগোলিক সীমারেখার তোয়াক্কা না করে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। অর্থাৎ ইরানে হামলা হলে এর পালটা জবাব শুধু দেশটির ভূখণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; পরিস্থিতি অনুযায়ী বৃহত্তর অঞ্চলেও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে তেহরান।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত। নতুন অস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং আগের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি। আরাগচির মতে, যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে কূটনৈতিক সমাধান না এলে সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে। বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পালটা পদক্ষেপের বিষয়ে কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কয়েক দিন ধরে হামলা চলতে পারে বলেও কূটনীতিকদের সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা চলছে। ফলে একদিকে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সমঝোতার উদ্যোগ— দুই দিকেই এগোচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরিস্থিতি।















