চাপ ও দমন-পীড়নের মুখে রুশ সংবাদপত্র নোভায়া গেজেটা বন্ধ ঘোষণা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৮: ২৮
স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম নোভায়া গেজেটা। ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম নোভায়া গেজেটা। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সুপরিচিত ও প্রভাবশালী স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম নোভায়া গেজেটা আগামী ৯ নভেম্বর থেকে কার্যক্রম বন্ধ করতে যাচ্ছে। ক্রেমলিনের চাপ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হুমকির মুখে সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয় দল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রুশ কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাশিয়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত সংবাদপত্রটির কার্যক্রম কার্যত শেষ হতে যাচ্ছে।

সম্পাদকীয় দলের বিবৃতির শিরোনাম ছিল ‘আমাদের হত্যা করা হয়েছে’। এতে বলা হয়, আগামী ৯ নভেম্বর ৩০ বছর ধরে ব্যবহৃত কার্যালয়ের আলো নিভিয়ে দেওয়া হবে, সার্ভার বন্ধ করা হবে এবং প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যাবেন কর্মীরা। বিবৃতিতে সংবাদপত্রটির ভাষায়, ‘সংবাদপত্রটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই।’ এ পরিস্থিতির জন্য রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে দায়ী করেছে সম্পাদকীয় দল।

কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণার পর মস্কোতে নোভায়া গেজেটার কার্যালয়ে কাজ করছেন সংবাদপত্রটির প্রধান সম্পাদক সের্গেই সোকোলভ (পেছনে)। এ সময় এক কর্মী জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। ৩০ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণার পর মস্কোতে নোভায়া গেজেটার কার্যালয়ে কাজ করছেন সংবাদপত্রটির প্রধান সম্পাদক সের্গেই সোকোলভ (পেছনে)। এ সময় এক কর্মী জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। ৩০ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু করা নোভায়া গেজেটা রাশিয়ার স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। রাজনৈতিক দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সরকারি অনিয়ম এবং ক্ষমতাসীনদের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে সংবাদপত্রটি। চেচনিয়া যুদ্ধ, রুশ নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ড এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনব্যবস্থা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে তারা।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর সংবাদমাধ্যমটির ওপর চাপ আরও বাড়ে। ওই বছর রুশ কর্তৃপক্ষ নোভায়া গেজেটার গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করে। এরপরও বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সংবাদপত্রটির সাংবাদিকেরা। তবে আটক, আইনি হয়রানি ও প্রকাশনার ওপর বিধিনিষেধের কারণে তাদের কাজের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ে।

নোভায়া গেজেটার কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণার পর মস্কোতে সংবাদপত্রটির কার্যালয় পরিদর্শন করেন সাবেক প্রধান সম্পাদক দিমিত্রি মুরাতভ। ৩০ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
নোভায়া গেজেটার কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণার পর মস্কোতে সংবাদপত্রটির কার্যালয় পরিদর্শন করেন সাবেক প্রধান সম্পাদক দিমিত্রি মুরাতভ। ৩০ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

নোভায়া গেজেটার কয়েকজন সাংবাদিক দেশ ছেড়ে নির্বাসনে থেকেও কাজ চালিয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংবাদপত্রটির সাবেক প্রধান সম্পাদক দিমিত্রি মুরাতভ। স্বাধীন সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ২০২১ সালে ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসার সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান তিনি।

রাশিয়ায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে নোভায়া গেজেটার কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা এল। ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনা করে এমন সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর মস্কোর নিয়ন্ত্রণ ও চাপের আরেকটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এ ঘটনাকে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad