ফ্রান্সের বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘বোকামিপূর্ণ’, কড়া জবাব ম্যাখোঁর

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন বিদেশি নেতারা— এমন অভিযোগ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রয়েছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিক্ষোভ নিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগও তুলেছেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ফ্রান্স২৪-এর খবরে বলা হয়, বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ম্যাখোঁ বলেন, ফ্রান্সের বিক্ষোভকে ঘিরে বিদেশ থেকে ‘তথ্য বিকৃতি’ হয়েছে। এর ফলেই বিদেশি নেতাদের কাছ থেকে এমন কিছু মন্তব্য এসেছে, যেগুলো তার ভাষায় ‘অগ্রহণযোগ্য এবং বোকামিপূর্ণ’।

ম্যাখোঁ অবশ্য ট্রাম্প বা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম প্রথমে উল্লেখ করেননি। তবে এক সাংবাদিক জানতে চান, তিনি ট্রাম্পকে বোঝাচ্ছেন কি না। জবাবে ম্যাখোঁ বলেন, ‘তাদের মধ্যে একজন।’

ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে আসছেন। তার দাবি, ফ্রান্সে অভিবাসী, জিহাদি ও কমিউনিস্টদের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এমনকি ম্যাখোঁকে সীমান্ত বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

ম্যাখোঁর দাবি, এসব মন্তব্যের পেছনে এআই-নির্মিত ভুয়া কনটেন্টও ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, এআই দিয়ে তৈরি এমন কিছু ছবি ছড়ানো হয়েছে, যেখানে ফ্রান্সে এমন দৃশ্য দেখানো হয়েছে যা আদৌ ঘটেনি। এসব কনটেন্টের ভিত্তিতে কেউ কেউ দাবি করছেন, ফ্রান্স ‘অভিবাসী ও ইসলামপন্থিদের আক্রমণে’র শিকার হয়েছে। ম্যাখোঁ এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, যেসব দেশের নেতারা এসব তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতে তার মন্ত্রণালয় প্রস্তুত। এর লক্ষ্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়া বা আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকানো।

ভোটের রাজনীতিতে ফ্রান্সের বিক্ষোভ

ম্যাখোঁর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আসন্ন নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে অভিবাসনবিরোধী বার্তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুও সাম্প্রতিক ফরাসি সহিংসতাকে ‘চরমপন্থি ইসলাম’ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। নেতানিয়াহুর দেশেও নির্বাচন সামনে রয়েছে।

তবে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ। ১৭ অক্টোবর দেশ জুড়ে হওয়া বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নিয়েছিলেন। পরে প্যারিস, মার্সেই, লিওঁসহ বিভিন্ন শহরে লুটপাট, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

ট্রাম্প ও অন্য কয়েকজন বিদেশি নেতার বক্তব্যে এসব সহিংসতাকে অভিবাসন ও ইসলামপন্থিদের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও ফরাসি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সহিংসতার প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেনি। বার্তা সংস্থা এপির একটি ফ্যাক্টচেকেও এসব দাবির পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ম্যাখোঁ বলেন, নির্বাচনি প্রচারে থাকা নেতারা কখনো কখনো না বুঝেই এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট ও নির্দিষ্ট মহলের ছড়ানো বয়ান পুনরাবৃত্তি করছেন। তার অভিযোগ, এভাবে ফ্রান্সকে অন্য দেশের নির্বাচনি রাজনীতির হাতিয়ার বানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে যারা আমাদের দেশ সম্পর্কে খারাপ কথা বলছে, তারা ফ্রান্সকে ভালোবাসে না।’

এদিকে ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। শনিবার ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে সরকার। ম্যাখোঁ এরই মধ্যে সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad