গাজা পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করাতে ২৪৫ কোটি ডলারের ছয় মাসের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’। পরিকল্পনায় রয়েছে মোট ৬৬টি প্রকল্প, যার মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, হাসপাতাল মেরামত, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের মতো উদ্যোগ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সংস্থাটির বৈঠকে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করা হয়।
পরিকল্পনাটি ঘোষণার সময়ই বোর্ডের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এর বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, সেনা প্রত্যাহার ও হামাসের অস্ত্র ত্যাগ নিয়ে বিরোধ এখনো কাটেনি। ফলে পুনর্গঠনের কাজ কার্যকরভাবে শুরু করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
বোর্ড অব পিসের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ভৌত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন হাজার ৫২০ কোটি ডলার। এ অবস্থায় গাজার পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে আগামী ১০ বছরে প্রায় সাত হাজার ১৪০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
সে হিসাবে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনাটি মূলত পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ শুরু করার জন্য। পরিকল্পনায় সীমান্ত পারাপার ব্যবস্থা মেরামত, বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং ২৫ হাজার বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কথাও রয়েছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পুনর্গঠন প্রকল্পের জায়গা থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত সুড়ঙ্গ সরানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পরিকল্পনাটির অর্থায়ন এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তবে রাজনৈতিক বাধা দূর হলে দাতা দেশগুলো প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে এগিয়ে আসবে বলে বোর্ড অব পিস আশাবাদী।
পুনর্গঠনের আগে রাজনৈতিক জটিলতা
গাজা পুনর্গঠনের জন্য ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বা স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনের জন্য নতুন একটি অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের কথা রয়েছে।
কিন্তু এসব বিষয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা ঘোষণার পরও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো নিয়ে বিরোধ রয়ে গেছে। ফলে যুদ্ধের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরও গাজায় পুনর্গঠন কার্যত শুরু হয়নি।
অ্যাক্সিওসের তথ্য, পরিকল্পনাটি তৈরিতে প্রায় এক বছর ধরে বোর্ড অব পিসের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি ও গাজার প্রস্তাবিত ফিলিস্তিনি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। ৬৬টি প্রকল্প ভাগ করা হয়েছে ছয়টি বড় খাতে। এগুলো হলো— অবকাঠামো, মানব উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল রূপান্তর, আইন ও প্রশাসন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা।
বোর্ড অব পিসের কর্মকর্তাদের ভাষায়, এ পরিকল্পনার লক্ষ্য ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন করে প্রশাসন, অর্থনীতি ও অবকাঠামো দাঁড় করানোর প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করা। তবে সেটি বাস্তবে কত দ্রুত শুরু হবে, তা নির্ভর করছে ইসরায়েল-হামাসের রাজনৈতিক সমঝোতা এবং প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কাঠামো কার্যকর হওয়ার ওপর।
















