গাজায় গণহত্যা নিয়ে তথ্যচিত্র, নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিল চান ইসরায়েলি মন্ত্রী

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’ তথ্যচিত্রের দুই নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরে। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’ তথ্যচিত্রের দুই নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরে। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান ও বেসামরিক মানুষ হত্যার পদ্ধতি নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘নাজা’ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার। এ তথ্যচিত্রের দুই নির্মাতা অস্কারজয়ী ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পরই ‘নাজা’ নিয়ে ইসরায়েলি সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। গত শনিবার ঘোষিত পুরস্কারের আগে ছবিটি ২৫ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওবেশন পেয়েছিল। ছবিটির দুই পরিচালক এর আগে ‘নো আদার ল্যান্ড’ তথ্যচিত্রের সহপরিচালক হিসেবে ২০২৫ সালে অস্কারে সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার জেতেন।

‘নাজা’ তথ্যচিত্রে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার ২৪ জন অভ্যন্তরীণ ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের কেউ কেউ গাজায় হামলার জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর লক্ষ্য শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছবিতে দাবি করা হয়েছে, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে হামাসের সদস্যদের শনাক্ত করার পাশাপাশি বেসামরিক প্রাণহানির সম্ভাবনাও আগে থেকে হিসাব করা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঝুঁকি জেনেও হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে সাক্ষ্য এসেছে।

ছবিটির নির্মাতারা বলছেন, তারা বিচ্ছিন্ন কোনো যুদ্ধাপরাধের ঘটনা নয়, বরং গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যার পেছনে থাকা একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তুলে ধরতে চেয়েছেন। ছবিতে এমন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যও রয়েছে, যারা দূর থেকে বসে লক্ষ্য শনাক্ত ও হামলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।

ইসরায়েলি সংস্কৃতিমন্ত্রী জোহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্রাহাম ও সোরকে আক্রমণ করে বলেন, তাদের তৈরি তথ্যচিত্র ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, দুই নির্মাতা ইসরায়েলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বিদেশে প্রশংসা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ডানপন্থি ইসরায়েলি রাজনীতিকদের আরও কয়েকজনও ছবিটির বিরুদ্ধে একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘নাজা’র অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, তথ্যচিত্রে ব্যবহৃত বেনামি সাক্ষ্য যাচাই করা সম্ভব নয়। গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক মানুষের ক্ষতি কমাতে তারা ‘অভূতপূর্ব প্রচেষ্টা’ চালায় বলেও দাবি করেছে।

‘নাজা’ নির্মাতাদের আগের তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে তৈরি। নতুন ছবিটির মাধ্যমে তারা গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের নেপথ্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রযুক্তিনির্ভর লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া সামনে এনেছেন। ভেনিসে ছবিটির পুরস্কার পাওয়ার পর সেটি এখন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement