সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে নেতানিয়াহুর জোট, আরব দলগুলোই এখন ইসরায়েলের ‘কিংমেকার’

ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে নেতানিয়াহুকে হটাতে মাঠে নামা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও সরকার গঠনের মতো ৬১ আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে এখন জোট সরকারের পথে হাঁটতে হতে পারে ইসরায়েলকে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব তথা ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলো, যারা এবার রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে।
টাইমস অব ইসরায়েল ও বার্ত সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোট নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস হামলার পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো দেশটিতে, যেখানে রেকর্ড ভোট পড়েছে।
১২০ আসনের ইসরায়েল সংসদ বা নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। বুধবার বিকেল পর্যন্ত ৯২ শতাংশের বেশি সাধারণ ব্যালট গণনা হয়েছে। বর্তমান হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ থেকে ৫৪ আসন, আইজেনকটের ‘চেঞ্জ’ জোট প্রায় ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসনে জয়ের পথে রয়েছে। প্রায় ৬ লাখ ডাবল-এনভেলপ ভোট এখনো গণনা বাকি। এসব ভোটের বড় অংশই বিদেশে বা দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যদের। ফলে চূড়ান্ত ফল কিছুটা বদলাতে পারে।
এ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ২৭ আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় একক দল হতে যাচ্ছে। তবে তার উগ্র ডানপন্থি মিত্র ইতামার বেন-গভিরের ওতজমা ইয়েহুদিত পাচ্ছে সাতটি আসন, বেজালেল স্মোটরিচের রিলিজিয়াস জায়নিজমের আসন থাকছে ছয়টি। নেতানিয়াহুর মিত্র দুটি দলের আসনই আগের তুলনায় কমতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে আইজেনকটের দল ইয়াশার ২০ থেকে ২২টি আসন, নাফতালি বেনেটের টুগেদার ১১ থেকে ১২টি আসন, ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস আটটি আসন এবং আভিগদোর লিবারম্যানের ইয়িসরায়েল বেইতেনু সাত থেকে আটটি আসন পাওয়ার সাত থেকে আটটি আসন পেতে যাচ্ছে।
আরব দলগুলোই ‘কিংমেকার’
এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি ভোটে। আরব-প্রধান জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম মিলে ১৯ আসন পেতে যাচ্ছে নেসেটে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্টের আসন ১৩টি, রা’আমের আসনে রয়েছে। এই ফল তাদের ইসরায়েলি রাজনীতির সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’-এ পরিণত করেছে।
আইজেনকটের জোট চাইলে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে পারে। ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়াইর গোলান এরই মধ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আরব নাগরিকদের ভোটকে বাদ দেওয়া মানে নেতানিয়াহুর রাজনীতিকেই শক্তিশালী করা।
জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিনও বলেছেন, নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও স্মোটরিচকে সরাতে তার দল প্রস্তুত এবং ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে চায়।
তবে আইজেনকট রাতের ভাষণে ‘জায়নিস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র কথা বলে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোটের সম্ভাবনা সীমিত করেছেন। নেতানিয়াহুও স্পষ্ট করেছেন, আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার তিনি গঠন করবেন না। ফলে সামনে তিনটি পথ— আইজেনকটের জোটের সঙ্গে আরব দলগুলোর সমঝোতা, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো ধরনের ঐক্য সরকার, অথবা নতুন নির্বাচন।
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে এবার ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ভোটও প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে।
চূড়ান্ত ফলের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় দল বা নেতাকে ছয় সপ্তাহ সময় দেবেন। ততদিন নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে গেলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। প্রেসিডেন্ট হারজোগ এরই মধ্যে দলগুলোকে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।



-408fb5.jpg)













