নির্বাচনে সমর্থন পাওয়ায় ‘নিশ্চিত পরাজয়’ এড়িয়েছেন নেতানিয়াহু— দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি করেছেন, তার সমর্থন পাওয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবারের নির্বাচনে ‘নিশ্চিত পরাজয়’ এড়াতে পেরেছেন। তবে বুথফেরত জরিপের ফল অনুযায়ী, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট ৫৬টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব লিস্ট জয় পেয়েছে ১৬টি আসনে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে একক দল হিসেবে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি।
কোনো জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে দর-কষাকষি চলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচনের ফল নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘এ সবকিছুই ঘটেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনের পর— যিনি শুধু মধ্যপ্রাচ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভালো চান!’
ইসরায়েলের এবারের নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যেই নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অন্য দেশের নির্বাচনে কাউকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
এদিকে, নির্বাচনে আরব ভোটারদের দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পরও তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে হাজির হয়ে তিনি বলেন, সম্ভাব্য সরকার গঠনের বিষয়ে এখনই কথা বলা আগাম হয়ে যাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভোটের ‘প্রকৃত ফলাফল’ পাওয়ার অপেক্ষা করবেন তিনি।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘ইরানের অস্তিত্বগত হুমকি চিরতরে দূর করতে আমাদের অংশীদার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইসরায়েলের সামনে এক অনন্য ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। তবে অন্য কোনো স্বার্থ যেন আমাদের এই পবিত্র লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।’
অন্যদিকে, তেল আবিবে দলের কার্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইনকোট বলেন, জনগণ নেতানিয়াহুকে আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান না। তিনি নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের নিরাপত্তাকে ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেন।
আইনকোট আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু এখন একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী। তার কোনো ম্যান্ডেট নেই, জনগণের আস্থাও নেই।’ রাজনৈতিক স্বার্থকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার ওপরে স্থান দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
যুদ্ধের মূল্যায়নেই ভোটারদের রায়
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং এরপর গাজা, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছে। ওই হামলায় হামাস ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রাণহানির দিক থেকে দিনটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।
দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। তবে তার দাবি, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে তিনি ইসরায়েল ও বিশ্বকে আরও নিরাপদ করেছেন।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের নীতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিভাজন বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে আরও বিচ্ছিন্ন করেছে। তবে নেতানিয়াহু নিজেকে ইসরায়েলের শত্রুদের মোকাবিলা করতে সক্ষম নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
গত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ বছর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন নেতানিয়াহু। রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও একাধিকবার ক্ষমতায় টিকে গেছেন তিনি। ২০০৯ সালের পর বিরোধীরা মাত্র একবার তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে পেরেছিল। দুই বছরের মধ্যে চারটি অনির্ণায়ক নির্বাচনের পর তিনি ক্ষমতা হারান। তবে ১৮ মাসের মধ্যেই আবার প্রধানমন্ত্রীর পদে ফিরে আসেন।
এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগের মুখেও ছিলেন নেতানিয়াহু। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। এ ছাড়া গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা চালাতে পেরেছিল— এমন অভিযোগেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।




-408fb5.jpg)











