যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব: পেজেশকিয়ান

মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যাগুলো সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের মধ্যেই সংকটের সমাধান করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথা জানান তিনি।
গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম জিইসিএফ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করেই আমরা এই অঞ্চলের সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম।
এরপর ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ক্রমেই বাড়ছে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড আমাদের বৃহত্তর বহুপাক্ষিকতার দিকে এগিয়ে যেতে এবং রাশিয়াসহ একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার আরও সহজ করে দিচ্ছে।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। মস্কোয় জিইসিএফ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও একতরফা পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তার অভিযোগ, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির সমুদ্র ও আকাশপথে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর বৃহত্তর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
পেজেশকিয়ান বলেন, বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর উচিত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন পদক্ষেপের নিন্দা করা এবং কার্যকরভাবে তার মোকাবিলা করা।
রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, মস্কো সফরের আলোচনায় জ্বালানি পরিবহনপথের নিরাপত্তা, মুক্ত বাণিজ্য, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয় ছিল। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের তেল ও গ্যাস খাতে যৌথ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
পুতিন বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা আগে একান্তে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি— এমন একটি পরিস্থিতি, যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের কারণ। পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের মস্কো সফরটি এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরান একদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে তেহরানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক করেছে, অন্যদিকে কাতার মধ্যস্থতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের সংকট নিজেরাই সমাধানের ধারণাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক সমাধানের এই আহ্বানের পাশাপাশি ইরান যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করছে না, তারও ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক পেজেশকিয়ান বক্তব্যে। ফলে মস্কোর বার্তাটি আপাতত সরাসরি আলোচনার প্রত্যাখ্যানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিকল্প আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে ইরানের দরকষাকষির পরিসর বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

-attend-a-military-march-in-Tehran-25-10-2026-2c75cd.jpg)











-408fb5-256x144.webp)

