তৃণমূলের সব কমিটি বিলুপ্ত, বিধানসভায় বিরোধী দলীয় নেতা ঋতব্রত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার দল হিসেবে চরম সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মূল কমিটিসহ তৃণমূলের সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচিত বিধায়কদের ভোটে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন দুদিন আগেই দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পক্ষ থেকে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলীয় নেতা করতে বলেছিল তৃণমূল।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে দলের সব কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। পোস্টে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসসহ এর সব সহযোগী সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।

পোস্টে আরও বলা হয়েছে, দলের প্রতিটি স্তরে আত্মবিশ্লেষণ, কাজের পর্যালোচনা ও নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দক্ষতা মূল্যায়নের পর তার মূল দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কাঠামো তৈরি করে যথাসময়ে কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এ ঘোষণার ঘণ্টাখানেক আগেই দলের ৫৮ জন বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সঙ্গে দেখা করেন। তারা ৫৮ জন বিধায়কের সই করা একটি সমর্থনপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা ও জাভেদ খানকে উপবিরোধীদলীয় নেতা এবং রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে দলের চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করেন।

দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত সোমবারই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। ঋতব্রত তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের (আইএনটিটিইউসি) প্রধান ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্র বোসকে চিঠি দিয়ে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলীয় নেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার দাবি জানিয়েছিলেন। স্পিকারের কার্যালয় থেকে সে চিঠি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। পরে তা ইমেইল ও রেজিস্টার্ড পোস্টের মাধ্যমে পাঠানো হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থক তৃণমূল নেতারা দলের চিঠি অগ্রাহ্য করে ঋতব্রতকে বিরোধী দলীয় নেতা বানানোর প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তারা বলছেন, বিধায়কদের এমন চিঠি দেওয়ার কোনো একক এখতিয়ার নেই। বিধানসভার স্পিকারের কাছে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিটিই একমাত্র বৈধ চিঠি।

সূত্র: আনন্দবাজার, টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement