জম্মু-কাশ্মীরে চীনা প্রকল্পে আপত্তি ভারতের, ‘অবৈধ দখলে’র অভিযোগ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ২০: ৪৬
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

জম্মু-কাশ্মীরের যেসব এলাকাকে ভারত নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে, সেখানে চীনের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছে নয়া দিল্লি। একই সঙ্গে ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতীয় ভূখণ্ড চীন ‘অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে’ বলেও অভিযোগ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করার অবস্থানে ভারতই রয়েছে এবং সেই উদ্বেগ ভারত প্রকাশও করছে। তিনি বলেন, ‘ভারত কোনোভাবেই চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে না। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সবসময়ই একই ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু ১৯৬৩ সাল থেকে চীন জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতীয় ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। ওই ভূখণ্ডের ওপর ভারতের অধিকার চীনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে। জম্মু-কাশ্মীরের যে ভূখণ্ড ভারতের, সেখানে চীন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং আমরা এর বিরোধিতা করছি।’

জয়সওয়ালের এ বক্তব্যের আগের দিন, বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

ওই বৈঠক নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বিবরণে জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাজান ও তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত বৈঠক দুদেশের সম্পর্ককে ‘উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঠিক পথে’ এগিয়ে নিয়েছে।

ওয়াং ই বলেন, ‘চীন ও ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। একে অপরের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ।’

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের যোগাযোগ ধীরে ধীরে পুনরায় শুরু হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তার ভাষ্য, ‘এই অর্জনগুলো সহজে আসেনি। তাই এগুলোকে মূল্য দিতে হবে।’

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চীন ও ভারত উদীয়মান অর্থনীতির প্রতিনিধি এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাই দুই দেশের উচিত মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া, বৃহৎ শক্তি হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানো। এর মাধ্যমে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতান্ত্রিক বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব হবে।

ওয়াং ই বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্য বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন। এ জন্য উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, বাণিজ্য, গণমাধ্যম এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, সংবেদনশীল বিষয়গুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে প্রতিবেশী দুই বৃহৎ শক্তির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সঠিক পথ খুঁজে বের করতে চায় বেইজিং।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement