কোভিড-ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নয়, হান্টাভাইরাস ছড়ানোর ধরন সম্পূর্ণ আলাদা: ডব্লিউএইচও

আটলান্টিক মহাসাগরে নেদারল্যান্ডসের প্রমোদতরি ‘এমভি হোন্ডিয়াসে’ হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে তিনজনের মৃত্যুর হয়েছে, অসুস্থ হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। ইঁদুরবাহিত এই ভাইরাসটি নিয়ে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেছেন, ‘এটি না কোভিড, না ইনফ্লুয়েঞ্জা, এর ছড়ানোর ধরন একেবারেই আলাদা।’
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘হান্টাভাইরাসে সংক্রমিত ওই জাহাজের সবাইকে মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে আসছেন বা তাদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের উচিৎ আরও বেশি সুরক্ষামূলক পোশাক-আশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা।’
প্রাণঘাতী এই ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যারা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছে, তারা সংক্রমিত হয়েছে কি হয়নি, তা শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে হান্টাভাইরাস সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়।’
হান্টাভাইরাসের সাথে কোভিড-১৯ মহামারীর শুরুর সময়ের পার্থক্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনকার পরিস্থিতি ছয় বছর আগেকার পরিস্থিতির মতো নয়। আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, এটি নতুন কোনো কোভিড মহামারির শুরু নয়। এটি এমন একটি প্রাদুর্ভাব, যা কেবল একটি জাহাজে দেখা যাচ্ছে।’
‘এমভি হোন্ডিয়াস’ নামে ডাচ প্রমোদতরিটি প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে তিন সপ্তাহ আগে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে। কেপ ভার্দে যাওয়ার পথে এটি অ্যান্টার্কটিকা ও আরও কিছু স্থানে এটি যাত্রা বিরতি করেছিল। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রমোদতরিটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফেতে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন ডাচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ পর্যন্ত হান্টাভাইরাসের প্রভাবে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, মোট আটজন ব্যক্তি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে তিন যাত্রীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর অসুস্থ।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ডাচ দম্পতি এমন কিছু স্থানে গিয়েছিলেন, যেখানে ভাইরাসটি বহনকারী ইঁদুরের একটি প্রজাতির উপস্থিতি ছিল। তবে প্রাদুর্ভাবটি কীভাবে ছড়িয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, ওই দম্পতি আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়েতে পাখি পর্যবেক্ষণ সফরে বেড়িয়েছিলেন। সেসময় তারা এমন কিছু স্থানে গিয়েছিলেন, যেখানে হান্টাভাইরাস বহন করে, ইঁদুরের এমন একটি প্রজাতির উপস্থিতি ছিল। তাদের যাতায়াত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্জেন্টিনার সঙ্গে কাজ করছে ডব্লিউএইচও।


















