তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ১৮

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। ভূমিকম্পে শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। দুর্গম ও উচ্চভূমির এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা এপি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তিব্বতের নাগচু শহরের বাকোন কাউন্টি এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নাগচু শহরের প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৮ কিলোমিটার।
চীনের সরকারি সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১৬ থেকে ১৮ বলা হয়েছে। সবশেষ কিছু প্রতিবেদনে অন্তত ১৮ জন নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও রয়টার্স স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে নিহত ১৬ এবং আহত ৬৫ জনের কথা জানিয়েছে।
ভূমিকম্পে নাগচু এলাকায় অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০টি পশুর খামার। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে স্থানীয় পুলিশ, দমকল বাহিনীসহ এক হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় একের পর এক আফটার শক অনুভূত হয়েছে। চীনের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র শতাধিক আফটার শক রেকর্ড করেছে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ৪১৩টি। আফটার শকের মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ৪-এর বেশি ছিল।
ভূমিকম্পের কারণে কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধসে পড়া পাথর ও ভূমিধসের কারণে জাতীয় মহাসড়কের একটি অংশ বন্ধ করে শুধু উদ্ধারকারী ও জরুরি যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষও কিছু ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।
দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তাঁবু, অস্থায়ী ঘর, ভাঁজ করা খাট, শীতবস্ত্র ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
নাগচু তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তরে অবস্থিত। অঞ্চলটি জনবসতিপূর্ণ নয় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচু হওয়ায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি তীব্র ঠান্ডাও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। আগামী কয়েক দিনে তুষারপাতের পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার তৎপরতায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।













-a70378-256x144.webp)