রেকর্ড গড়া জিম্বাবুয়ের সামনে অসহায় বাংলাদেশ, ইনিংস ব্যবধানে হার

ক্রীড়া ডেস্ক
রেকর্ড জয়ের পর জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

হারারের টেস্ট হয়ে থাকল জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায়। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা, আর সেই রেকর্ড গড়ার দিনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। পাঁচ দিনের ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে মাত্র আড়াই দিনেই। টানা চার টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামলেও প্রথম দিনের ব্যাটিং ধসের ক্ষতি আর পুষিয়ে উঠতে পারেনি টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় পরাজয়ের সঙ্গে ২৫ বছর পর আবারও জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারার তিক্ত স্বাদ নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, জিম্বাবুয়ের টেস্ট ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলকও। এর আগে তাদের সবচেয়ে বড় জয় ছিল গত বছরের অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইনিংস ও ৭৩ রানের ব্যবধানে। হারারের এই জয়ে সেই রেকর্ডও ভেঙে ফেলেছে তারা। ১৯৯২ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এই প্রথম টানা দুটি টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের কীর্তি গড়ল আফ্রিকার দলটি। নতুন অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার নেতৃত্বেও এটি ছিল স্বপ্নের সূচনা।

অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল দীর্ঘ ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়। এর আগে ২০০১ সালে দুই দলের প্রথম টেস্টে এবং বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় ম্যাচে একই ধরনের হারের মুখ দেখেছিল টাইগাররা।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথম দিনেই। মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়ে প্রথম ইনিংসে ২৭০ রানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষে জিম্বাবুয়ে সেই ব্যবধান আরও বড় করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের সামনে একমাত্র চ্যালেঞ্জ ছিল যতটা সম্ভব লড়াই দীর্ঘ করা। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেটিও সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ছিল না আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য কিংবা দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতা। উইকেটে কিছুটা বাউন্স ও মুভমেন্ট থাকলেও বেশির ভাগ ব্যাটারই নিজেদের ভুল শট নির্বাচন ও অস্থিরতার কারণে উইকেট বিলিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যাটারই ৩৫ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি।

ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই বাউন্স করা বল সামলাতে না পেরে গালিতে সহজ ক্যাচ দেন মাহমুদুল হাসান জয়। ২২ রান করেই বিদায় নেন তিনি। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক পাওয়া মুমিনুল হকও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ। শরীর থেকে দূরের বল খেলতে গিয়ে স্লিপে ব্র্যাড ইভান্সের হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ১৩ রানে।

এরপর তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধের আশা জাগান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। তবে সেই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নিউম্যান নিয়ামুরির ফুলটসে বোল্ড হওয়ার আগে শান্ত করেন ৩০ রান। অন্যদিকে ব্লেসিং মুজারাবানির লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক। তার ইনিংস থামে ৩৪ রানে।

অভিষেক টেস্টটি তাওহিদ হৃদয়ের জন্য মোটেও সুখকর হয়নি। প্রথম ইনিংসে ৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আলগা শট খেলে ফেরেন মাত্র ৯ রানে। দুই ইনিংস মিলিয়ে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১২ রান।

অন্য অভিষিক্ত অমিত হাসান অবশ্য কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শটে নিজের সামর্থ্যের ইঙ্গিত দেন। বিশেষ করে অফ ড্রাইভ ও অন ড্রাইভে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কিন্তু সম্ভাবনাময় ইনিংসটিও বড় করতে পারেননি তিনি। অনেক বাইরের বলে শট খেলতে গিয়ে ২৫ রানেই থামতে হয় তাকে।

এরপর নিচের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধ আসেনি। অল্প সময়ের ব্যবধানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামাতে বড় ভূমিকা রাখেন জিম্বাবুয়ের চার পেসার। চারজন মিলে ভাগ করে নেন সবকটি উইকেট। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ব্লেসিং মুজারাবানি। তিনি একাই তুলে নেন চারটি উইকেট।

ব্যাট হাতে জিম্বাবুয়ের বড় জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন ইনোসেন্ট কাইয়া। সাড়ে তিন বছর পর টেস্ট দলে ফিরে ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার সেই ইনিংসই স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহ এনে দেয়। অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন এই ব্যাটার।

টেস্ট অধ্যায় শেষ হলেও দুই দলের লড়াই থামছে না। এবার তারা মুখোমুখি হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। আগামী সোমবার মাঠে গড়াবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৪০ (মুমিনুল ৬০, সাদমান ২০; নিয়ামহুরি ৪/৬১, এনগারাভা ৬১/৪)

জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ৪১০ (কাইয়া ১৪০,  আরভিন ৬০, বেনেট ৫৯; তাইজুল ৭/১৩৮, খালেদ ২/৬৮)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৫ ওভারে ১৮৫ (নাজমুল ৩০, মুশফিক ৩৪; এনগারাভা ৩/৩২, মুজারাবানি ৪/৬৫)

ফল: জিম্বাবুয়ে ইনিংস ও ৮৫ রানে জয়ী।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

সমালোচনায় কান দিচ্ছেন না অ্যানচেলোত্তি

দলকে ঘিরে সমালোচনা কিংবা প্রশংসা—কোনোটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘অন্যরা কী বলছেন, সেটার পুনরাবৃত্তি আমরা করছি না। আমরা পুরোপুরি ম্যাচ, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা এবং কীভাবে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে সমস্যাগুলো এড়ানো যায়—সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।

১ দিন আগে

ইনজুরি টাইমের গোলে ইতিহাস, প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্বাগতিক কানাডা

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়ার চেষ্টা করে। দক্ষিণ আফ্রিকা তুলনামূলকভাবে রক্ষণে জোর দিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকের কৌশল বেছে নিয়েছিল। জবাবে কানাডা প্রথম থেকেই দারুণ প্রেসিংয়ে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। তবে দুই দলেরই রক্ষণভাগ শক্তিশালী হওয়ায় কেউ খুব একটা সুবিধা করতে পারছিল না।

২ দিন আগে

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, অভিষেক হৃদয় ও অমিতের

চার বছর পর পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে সফরে গেছে বাংলাদেশ। একমাত্র টেস্টের পর দুই দল তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে।

২ দিন আগে

বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল যে ৩২ দল, দেখে নিন সময়সূচি

এখান থেকে জয়ী ১৬টি দল উঠবে শেষ ষোলোতে (রাউন্ড অব ১৬)। এরপর পর্যায়ক্রমে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল।

২ দিন আগে