
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষ হতে না হতেই ইরান ফুটবল দলকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তাদের ক্যাম্প মেক্সিকোতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কোচ আমির ঘালেনোয়ে। বলেছেন, ম্যাচের ক্লান্তি কাটানোর জন্য তাদের ন্যূনতম সময়টুকুও দেওয়া হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। এর আগে সোমবার (১৫ জুন) ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইরান ও নিউজিল্যান্ড। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের জের ধরে এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফার কাছে আবেদনও করেছিল ইরান। কিন্তু ফিফা সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে তাদের ভিসা দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের।
তবে ইরানের জন্য ভোগান্তি তখনো শেষ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ভিসার শর্তে জানায়, তারা কেবল ম্যাচডেতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভেন্যুতে অবস্থান করতে পারবে। এর বাইরে বিশ্বকাপের শুরু থেকে বাকি সময়টা ক্যাম্প করতে হবে মেক্সিকোতে। ইরানি কোচ প্রথম ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর জানালেন, ম্যাচডেতেও ম্যাচ শেষে খুব বেশি সময় তাদের ভেন্যুতে থাকতে দেওয়া হয়নি।
আমির ঘালেনোয়ে অবশ্য স্পষ্ট করেননি যে ঠিক কারা বা কোন কর্তৃপক্ষ তাদের এভাবে তড়িঘড়ি করে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কাটানোর জন্য পুরো রাত ক্যালিফোর্নিয়াতেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু খেলা শেষ হতে না হতেই তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, অবিলম্বে বিমানে চড়ে ১৪০ মাইল দূরের মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহরের ক্যাম্পে ফিরে যেতে হবে।
ক্ষোভ জানিয়ে ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়ে বলেন, তারা আমাদের অবসান কাটানোর (রিকভারি) ন্যূনতম সময়টুকু দেয়নি। আজকের ম্যাচ শেষ হতেই আমাদের বলা হলো, ‘আপনাদের এখনই চলে যেতে হবে।’ ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের বিশ্রামের জন্য সময় পাওয়াটা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু আমাদের ওপর নির্দেশ এলো এখনই বিমানে উঠে টিজুয়ানার ক্যাম্পে ফিরতে হবে। এই সিদ্ধান্তে আমরা সত্যিই চরম বিপাকে পড়েছি।

ইরান দলের অধিনায়ক মেহেদি তারেমি জানান, গত রোববার টিজুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার দূরত্বটুকু পার হতেই পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণ ও নিরাপত্তা তল্লাশির ধাক্কা সামলাতে হয়েছে তাদের, যা সাধারণ সময়ে খুবই সংক্ষিপ্ত একটি পথ।
কোচ ঘালেনোয়ে আরও বলেন, সত্যি বলতে, কেন আমাদের এভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তা আমরা জানি না। পুরো বিষয়টি আমার কাছে খুবই অদ্ভুত লাগছে। মনে হচ্ছে, আমাদের পরিকল্পনা অন্য কেউ করে দিচ্ছে, আমাদের সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ অন্য কোথাও চলে গেছে। পরিকল্পনা ছিল ম্যাচের দুই রাত আগে আমরা এখানে আসব এবং ম্যাচের রাতেও এখানে থেকে রিকভারি সেরে পরের দিন দুপুরের খাবারের সময় ফিরব। কিন্তু কেন এমন করা হলো, তা আমাদের ধারণার বাইরে।
দলের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে এই কোচ বলেন, আমার মনে হয়, এবারের বিশ্বকাপে আমাদের দলটিই বোধহয় সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত ও বঞ্চিত।
অধিনায়ক তারেমি ও কোচ ঘালেনোয়ে দুজনেই মার্কিন প্রশাসনের ভিসা নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। ভিসা না পাওয়ায় ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহকারী কোচিং স্টাফ ও মিডিয়া কর্মকর্তাসহ দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দলের সঙ্গে আসতে পারেননি। এই প্রশাসনিক জটিলতা তাদের প্রস্তুতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর অধিনায়ক তারেমি বলেন, আমাদের এখনই লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে হচ্ছে, যা আমাদের দলের জন্য একদমই ভালো কোনো সিদ্ধান্ত নয়। আমার মনে হয়, ফিফার আমাদের আরও বেশি সাহায্য করা উচিত ছিল। আসলে আমাদের জন্য সবকিছুই এখন একটা বিপর্যয়ের মতো।
খেলা চলাকালীন বেশ কয়েকজন ইরানি খেলোয়াড়ের পায়ে টান (ক্র্যাম্প) পড়ার বিষয়ে কোচ জানান, আবহাওয়া বেশ অনুকূল থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের এই শারীরিক সমস্যার মূল কারণ ছিল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব। আর এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে ইরান দলের ওপর আসা একের পর এক প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে।
ঘালেনোয়ে বলেন, ম্যাচের আগেই আমি বলেছিলাম, দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির কারণে আমাদের খেলোয়াড়রা মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়নি। অনেক খেলোয়াড়ের পায়ে টান পড়েছিল, আর সে কারণেই আমাদের টেকনিক্যাল কারণে নয়, বরং চোট ও ক্লান্তির কারণে খেলোয়াড় বদল করতে হয়েছে। মঙ্গলবার আমাদের মেডিকেল স্টাফরা তাদের পরীক্ষা করবেন। কিন্তু আমাদের পৌঁছাতে দেরি করিয়ে দেওয়া এবং ম্যাচ শেষেই রিকভারির সুযোগ না দিয়ে জোর করে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলা হচ্ছে।
গ্রুপ পর্বে ইরানের বাকি দুটি ম্যাচ রয়েছে আগামী রোববার ইঙ্গলউডে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে এবং পরের সপ্তাহে সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে দুবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইরান। প্রথমার্ধে রামিন রেজাইয়ানের চমৎকার গোলের পর ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মোহাম্মদ মোহেবির দারুণ এক গোলে সমতায় ফেরে তারা।
গোল করার পর মোহেবিকে হাত দিয়ে বন্দুকের গুলি ছোঁড়ার মতো একটি ভঙ্গি করতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা ছড়িয়েছে। এ ছাড়া তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ড্যাঞ্জেলো রাসেলের বিখ্যাত ‘আইস ইন মাই ভেইনস’ অঙ্গভঙ্গিও করেন এবং দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত দিয়ে হার্ট সাইন দেখান।
ইরানের বাইরে লস অ্যাঞ্জেলেসেই সবচেয়ে বেশি ইরানি প্রবাসীর বসবাস, যার প্রতিফলন গ্যালারিতেও দেখা গেছে। ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল বেশ উৎসবমুখর। গ্যালারিতে উপস্থিত ইরানি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ বর্তমান ইরান সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষুব্ধ হলেও মাঠের ‘টিম মেল্লি’র (ইরান জাতীয় দল) প্রতি তাদের সমর্থনে কোনো কমতি ছিল না।
ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত ইরানি আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এমনকি স্টেডিয়ামের ভেতরে জাতীয় সংগীতের সময় অনেক প্রবাসী দর্শক দুয়োধ্বনি দেন এবং মাঠের দিকে পেছন ফিরে দাঁড়ান।
ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সরকারি প্রতীক ‘সিংহ ও সূর্য’খচিত পতাকা ও টি-শার্ট ব্যবহারে ফিফার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গ্যালারিতে এমন অসংখ্য প্রতীক প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তবে খেলা শুরু হতেই এই রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে গ্যালারির সিংহভাগ দর্শক ইরানি খেলোয়াড়দের জন্য গলা ফাটান।

অধিনায়ক তারেমি গ্যালারির আবহ নিয়ে বলেন, পুরো ৯০ মিনিট মাঠের পরিবেশ ছিল অবিশ্বাস্য। আমাদের মনে হচ্ছিল আমরা নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছি।
গোল উদযাপন প্রসঙ্গে মোহেবি বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকা ইরানিরা দারুণ এক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। গোল করার পর হুট করেই মাথায় এই উদযাপনটি আসে এবং আমি দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত দিয়ে এই ইশারা করি। এটি কেবলই একটি সাধারণ উদযাপন ছিল।
কাগজে-কলমে ইরানের পরের দুটি ম্যাচ আরও কঠিন হতে চলেছে, যা তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার স্বপ্নকে হুমকির মুখে ফেলছে। বর্তমানে প্রথম পর্বের খেলা শেষে ইরান, বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড— প্রত্যেক দলেরই সংগ্রহ ১ পয়েন্ট করে।
পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, লড়াই ছাড়তে নারাজ ইরানি কোচ। ঘালেনোয়ে বলেন, আমাদের সামনে আরও অনেক বাধা আসছে, তবে তা আমাদের সেরাটা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আমার মনে হয়, এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা একটি ম্যাচ ছিল এবং স্টেডিয়ামের ভেতরের ও বাইরের দর্শকরা খেলাটি দারুণ উপভোগ করেছেন।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষ হতে না হতেই ইরান ফুটবল দলকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তাদের ক্যাম্প মেক্সিকোতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কোচ আমির ঘালেনোয়ে। বলেছেন, ম্যাচের ক্লান্তি কাটানোর জন্য তাদের ন্যূনতম সময়টুকুও দেওয়া হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। এর আগে সোমবার (১৫ জুন) ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইরান ও নিউজিল্যান্ড। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের জের ধরে এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফার কাছে আবেদনও করেছিল ইরান। কিন্তু ফিফা সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে তাদের ভিসা দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের।
তবে ইরানের জন্য ভোগান্তি তখনো শেষ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ভিসার শর্তে জানায়, তারা কেবল ম্যাচডেতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভেন্যুতে অবস্থান করতে পারবে। এর বাইরে বিশ্বকাপের শুরু থেকে বাকি সময়টা ক্যাম্প করতে হবে মেক্সিকোতে। ইরানি কোচ প্রথম ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর জানালেন, ম্যাচডেতেও ম্যাচ শেষে খুব বেশি সময় তাদের ভেন্যুতে থাকতে দেওয়া হয়নি।
আমির ঘালেনোয়ে অবশ্য স্পষ্ট করেননি যে ঠিক কারা বা কোন কর্তৃপক্ষ তাদের এভাবে তড়িঘড়ি করে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কাটানোর জন্য পুরো রাত ক্যালিফোর্নিয়াতেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু খেলা শেষ হতে না হতেই তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, অবিলম্বে বিমানে চড়ে ১৪০ মাইল দূরের মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহরের ক্যাম্পে ফিরে যেতে হবে।
ক্ষোভ জানিয়ে ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়ে বলেন, তারা আমাদের অবসান কাটানোর (রিকভারি) ন্যূনতম সময়টুকু দেয়নি। আজকের ম্যাচ শেষ হতেই আমাদের বলা হলো, ‘আপনাদের এখনই চলে যেতে হবে।’ ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের বিশ্রামের জন্য সময় পাওয়াটা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু আমাদের ওপর নির্দেশ এলো এখনই বিমানে উঠে টিজুয়ানার ক্যাম্পে ফিরতে হবে। এই সিদ্ধান্তে আমরা সত্যিই চরম বিপাকে পড়েছি।

ইরান দলের অধিনায়ক মেহেদি তারেমি জানান, গত রোববার টিজুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার দূরত্বটুকু পার হতেই পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণ ও নিরাপত্তা তল্লাশির ধাক্কা সামলাতে হয়েছে তাদের, যা সাধারণ সময়ে খুবই সংক্ষিপ্ত একটি পথ।
কোচ ঘালেনোয়ে আরও বলেন, সত্যি বলতে, কেন আমাদের এভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তা আমরা জানি না। পুরো বিষয়টি আমার কাছে খুবই অদ্ভুত লাগছে। মনে হচ্ছে, আমাদের পরিকল্পনা অন্য কেউ করে দিচ্ছে, আমাদের সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ অন্য কোথাও চলে গেছে। পরিকল্পনা ছিল ম্যাচের দুই রাত আগে আমরা এখানে আসব এবং ম্যাচের রাতেও এখানে থেকে রিকভারি সেরে পরের দিন দুপুরের খাবারের সময় ফিরব। কিন্তু কেন এমন করা হলো, তা আমাদের ধারণার বাইরে।
দলের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে এই কোচ বলেন, আমার মনে হয়, এবারের বিশ্বকাপে আমাদের দলটিই বোধহয় সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত ও বঞ্চিত।
অধিনায়ক তারেমি ও কোচ ঘালেনোয়ে দুজনেই মার্কিন প্রশাসনের ভিসা নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। ভিসা না পাওয়ায় ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহকারী কোচিং স্টাফ ও মিডিয়া কর্মকর্তাসহ দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দলের সঙ্গে আসতে পারেননি। এই প্রশাসনিক জটিলতা তাদের প্রস্তুতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর অধিনায়ক তারেমি বলেন, আমাদের এখনই লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে হচ্ছে, যা আমাদের দলের জন্য একদমই ভালো কোনো সিদ্ধান্ত নয়। আমার মনে হয়, ফিফার আমাদের আরও বেশি সাহায্য করা উচিত ছিল। আসলে আমাদের জন্য সবকিছুই এখন একটা বিপর্যয়ের মতো।
খেলা চলাকালীন বেশ কয়েকজন ইরানি খেলোয়াড়ের পায়ে টান (ক্র্যাম্প) পড়ার বিষয়ে কোচ জানান, আবহাওয়া বেশ অনুকূল থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের এই শারীরিক সমস্যার মূল কারণ ছিল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব। আর এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে ইরান দলের ওপর আসা একের পর এক প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে।
ঘালেনোয়ে বলেন, ম্যাচের আগেই আমি বলেছিলাম, দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির কারণে আমাদের খেলোয়াড়রা মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়নি। অনেক খেলোয়াড়ের পায়ে টান পড়েছিল, আর সে কারণেই আমাদের টেকনিক্যাল কারণে নয়, বরং চোট ও ক্লান্তির কারণে খেলোয়াড় বদল করতে হয়েছে। মঙ্গলবার আমাদের মেডিকেল স্টাফরা তাদের পরীক্ষা করবেন। কিন্তু আমাদের পৌঁছাতে দেরি করিয়ে দেওয়া এবং ম্যাচ শেষেই রিকভারির সুযোগ না দিয়ে জোর করে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলা হচ্ছে।
গ্রুপ পর্বে ইরানের বাকি দুটি ম্যাচ রয়েছে আগামী রোববার ইঙ্গলউডে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে এবং পরের সপ্তাহে সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে দুবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইরান। প্রথমার্ধে রামিন রেজাইয়ানের চমৎকার গোলের পর ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মোহাম্মদ মোহেবির দারুণ এক গোলে সমতায় ফেরে তারা।
গোল করার পর মোহেবিকে হাত দিয়ে বন্দুকের গুলি ছোঁড়ার মতো একটি ভঙ্গি করতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা ছড়িয়েছে। এ ছাড়া তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ড্যাঞ্জেলো রাসেলের বিখ্যাত ‘আইস ইন মাই ভেইনস’ অঙ্গভঙ্গিও করেন এবং দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত দিয়ে হার্ট সাইন দেখান।
ইরানের বাইরে লস অ্যাঞ্জেলেসেই সবচেয়ে বেশি ইরানি প্রবাসীর বসবাস, যার প্রতিফলন গ্যালারিতেও দেখা গেছে। ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল বেশ উৎসবমুখর। গ্যালারিতে উপস্থিত ইরানি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ বর্তমান ইরান সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষুব্ধ হলেও মাঠের ‘টিম মেল্লি’র (ইরান জাতীয় দল) প্রতি তাদের সমর্থনে কোনো কমতি ছিল না।
ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত ইরানি আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এমনকি স্টেডিয়ামের ভেতরে জাতীয় সংগীতের সময় অনেক প্রবাসী দর্শক দুয়োধ্বনি দেন এবং মাঠের দিকে পেছন ফিরে দাঁড়ান।
ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সরকারি প্রতীক ‘সিংহ ও সূর্য’খচিত পতাকা ও টি-শার্ট ব্যবহারে ফিফার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গ্যালারিতে এমন অসংখ্য প্রতীক প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তবে খেলা শুরু হতেই এই রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে গ্যালারির সিংহভাগ দর্শক ইরানি খেলোয়াড়দের জন্য গলা ফাটান।

অধিনায়ক তারেমি গ্যালারির আবহ নিয়ে বলেন, পুরো ৯০ মিনিট মাঠের পরিবেশ ছিল অবিশ্বাস্য। আমাদের মনে হচ্ছিল আমরা নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছি।
গোল উদযাপন প্রসঙ্গে মোহেবি বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকা ইরানিরা দারুণ এক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। গোল করার পর হুট করেই মাথায় এই উদযাপনটি আসে এবং আমি দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত দিয়ে এই ইশারা করি। এটি কেবলই একটি সাধারণ উদযাপন ছিল।
কাগজে-কলমে ইরানের পরের দুটি ম্যাচ আরও কঠিন হতে চলেছে, যা তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার স্বপ্নকে হুমকির মুখে ফেলছে। বর্তমানে প্রথম পর্বের খেলা শেষে ইরান, বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড— প্রত্যেক দলেরই সংগ্রহ ১ পয়েন্ট করে।
পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, লড়াই ছাড়তে নারাজ ইরানি কোচ। ঘালেনোয়ে বলেন, আমাদের সামনে আরও অনেক বাধা আসছে, তবে তা আমাদের সেরাটা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আমার মনে হয়, এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা একটি ম্যাচ ছিল এবং স্টেডিয়ামের ভেতরের ও বাইরের দর্শকরা খেলাটি দারুণ উপভোগ করেছেন।

গ্রুপ ‘এইচ’-এর ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি সৌদি আরব। তবে ম্যাচজুড়ে গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইসের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে দলটি। এই ড্রয়ে প্রথম রাউন্ড শেষে গ্রুপের চার দলই এক পয়েন্ট করে নিয়ে সমতায় রয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
এটি ছিল বিশ্বকাপে মিসরের অষ্টম ম্যাচ। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচ তারা হেরে গেছে। আজ করেছে তৃতীয় ড্র। এখনো তাদের বিশ্বকাপে প্রথম জয় অধরাই থেকে গেল।
২০ ঘণ্টা আগে
সোমবার আটলান্টায় মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ‘এইচ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল স্পেন আর কেপ ভার্দে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলে দুই দলকেই ১ পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
১ দিন আগে
বিশ্বরাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড়ের মধ্যেই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। রোববার (১৪ জুন) লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে দলটি। কাকতালীয়ভাবে, একই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ঘোষণাও আসে।
১ দিন আগে