আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রেফারির সমালোচনা: মিসরের কোচসহ ৩ জনের শাস্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
ওই ম্যাচে মিসরের কোচ হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। ছবি: রয়টার্স
ওই ম্যাচে মিসরের কোচ হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। ছবি: রয়টার্স

আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর রেফারি ও ফিফার সমালোচনা করে শাস্তি পেয়েছেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান ও উইঙ্গার মোস্তফা মোহামেদ জিকো। বিশ্বকাপের আলোচিত ওই ম্যাচের প্রায় সাড়ে তিন মাস পর হোসামকে তিন ম্যাচ এবং জিকোকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। একই ঘটনায় মিসরের কোচের জমজ ভাই ও দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানকেও তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ওই ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায় দলটি। ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মিসরের কোচ ও খেলোয়াড়রা।

ম্যাচে মিসরের দ্বিতীয় গোলটি করেন জিকো। এর আগে তার আরেকটি গোল বাতিল করা হয়েছিল। খেলার শেষ দিকে দুর্দান্ত এক পালটা আক্রমণ থেকে বল জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে মিশরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করায় ভিএআর দেখে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

এ সিদ্ধান্তসহ ম্যাচে রেফারির আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “মাঠের ভেতরে কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরে কিছু বিষয় ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে। হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।”

হাসান আরও বলেছিলেন, “বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না?’ এই ম্যাচের ফল এবং যেভাবে সবকিছু ঘটেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। বলতে চাই ‘দুর্ভাগ্য’, কিন্তু বাস্তবে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।”

জিকো শাস্তি পেয়েছেন ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে নিয়ে কটূক্তি করার জন্য। কোচের আগেই টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিকো। কান্নাভেজা চোখ ও কণ্ঠে তিনি বলেন, “এটা অন্যায়, অন্যায়, অন্যায়। রেফারি অন্যায় করেছেন। এটা অবিচার, স্পষ্ট এবং প্রকাশ্য অবিচার।”

রেফারির ভূমিকা নিয়ে আরও কঠোর সমালোচনা করেন এই উইঙ্গার। তিনি বলেন, “রেফারি মোটেও ভালো ছিলেন না। শুরু থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরা ২-০ গোলে জিতব, এটা যেন হতেই পারে না। ক্রমাগত আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছিলেন তিনি। একটি জাতির প্রচেষ্টা তিনি নষ্ট করে দিয়েছেন। এটা পাতানো টুর্নামেন্ট। মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনাকে দিয়েই দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে রাখছি। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই সবকিছুর সর্বোত্তম নিয়ন্ত্রক।”

এসব মন্তব্যের জেরেই এবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেন মিসরের কোচ ও খেলোয়াড়রা। দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত কারণ জানতে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আবেদন করেছে তারা। শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, তা নির্ধারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আগামী মাসে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বের পরবর্তী রাউন্ডে মিসরের দুটি ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না হোসাম ও ইব্রাহিম হাসান। মার্চের আন্তর্জাতিক সূচির প্রথম ম্যাচেও দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন না তারা। অন্যদিকে, পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী জুনের আগে মাঠে ফিরতে পারবেন না জিকো।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad