নাহিদের দেশসেরা বোলিং ফিগারে জিম্বাবুয়ে ১৪১ রানে অলআউট

ক্রীড়া ডেস্ক
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৭: ২০
নাহিদের দেশসেরা বোলিং ফিগারে জিম্বাবুয়ে ১৪১ রানে অলআউট

নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে অলআউট করে দিয়েছে টাইগাররা। ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই গতিতারকা।

টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুতে একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হলেও দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ।

ম্যাচের চতুর্থ ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে গালিতে সহজ ক্যাচ দিয়েও জীবন পান ব্রায়ান বেনেট। রিশাদ হোসেন সেই সুযোগটি নিতে পারেননি। ৪ ওভার শেষে বিনা উইকেটে ১৮ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে।

তবে উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। মিড-অফে বল ঠেলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে অধিনায়ক মিরাজের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন বেন কারান। ওই উইকেটই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এর ঠিক পরের বলেই তাসকিনের শিকার হন ব্রায়ান বেনেট। ২৪ বলে ১৭ রান করা এই ওপেনার ক্যাচ তুলে দিলে ৭ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৩৬ রান হয় জিম্বাবুয়ের।

এরপর মাত্র ২ রানের ব্যবধানে আরও একটি উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।

এরপর শুরু হয় নাহিদ রানার ঝড়। প্রথমে ১২ বলে ১ রান করা জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা সিকান্দার রাজাকে উইকেটকিপার নুরুল হাসানের ক্যাচে ফেরান তিনি। তখন ১৪ ওভারে ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে।

পরের ওভারেই আবার আঘাত হানেন নাহিদ। তাঁর গতিময় ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় স্লিপে, সেখানে সহজ ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কোনো রান না করেই ফেরেন ওয়েসলি মাধেভেরে। ১৬ ওভারে ৪৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

এরপর ২ রান করা ক্লাইভ মাদান্দেকেও ফেরান নাহিদ। সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। ৫৪ রানেই ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

নাহিদের গতি, বাউন্স ও নিখুঁত ইয়র্কারের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। ৩৯ বলে ২৬ রান করা ইনোসেন্ট কাইয়াকেও ক্যাচে পরিণত করে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন তিনি। তখন ৭ উইকেটে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৬৯ রান।

এরপর পঞ্চম উইকেটও তুলে নেন নাহিদ। মাত্র ৬ ওভারে ১২ রান খরচায় ৫ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ম্যাচেই এটি তাঁর তৃতীয় পাঁচ উইকেট শিকার। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়বার পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড মোস্তাফিজুর রহমানের, আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট শিকারের তালিকায় উঠে এলেন নাহিদ।

একসময় ৮ উইকেটে ৬৯ রান করা জিম্বাবুয়েকে কিছুটা লড়াইয়ের সুযোগ এনে দেন নিউম্যান নিয়ামহুরি ও অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা। নবম উইকেটে তারা অর্ধশতাধিক রানের জুটি গড়েন। এই জুটির সময় এনগারাভাকে জীবনও দেন তানজিদ হাসান।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই জুটিও ভাঙেন নাহিদ। এনগারাভাকে ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন তিনি। তখন ৯ উইকেটে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১৩৩ রান। পরে শেষ ব্যাটারকে ফিরিয়ে ১৪১ রানেই জিম্বাবুয়ের ইনিংস গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

১০ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েন নাহিদ রানা। এতদিন যৌথভাবে রেকর্ডটি ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেনের দখলে। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি। আর ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫.৫ ওভারে ২৬ রান দিয়ে সমান ৬ উইকেট নিয়েছিলেন রুবেল হোসেন।

এর আগে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। তাঁর জায়গায় উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হাসান।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement