শিল্প-সাহিত্য

ইংরেজে সাহেবের কোট এবং আশুতোষের জুতা

অরুণ কুমার
প্রতিকী ছবি

ব্রিটিশ সাহেবরা নেটিভ ইন্ডিয়ানদের মানুষ বলেইও গণ্য করতেন না। তাঁরা যেখানে থাকতেন তাঁর আশপাশে নেটিভদের প্রবেশ নিষেধ ছিল। তাঁরা ট্রেনের যে কামরায় উঠতেন, সে কামরায় ভারতীয়দের ওঠা নিষেধ ছিল। এ নিয়ে প্রায়ইা হাঙ্গামা হতো। কিন্তু সেই হাঙ্গামায় কি নেটিভরা জিততে পারতেন! উপায় ছিল না, তাই হার মানতে হতো। কিন্তু স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় অন্য ধাতুতে গড়া। তিনি তো আর দশটা সাধারণ নেটিভদের মতো নন। রীতিমতো শিক্ষিত ও ডাকসাইটে ব্যক্তিত্ব! তিনি কেন ইংরেজদের দুর্ব্যবহার মুখ বুঁজে সহ্য করবেন।

একবার তিনি কলকাতার বাইরে গিয়েছিলেন কী একটা কাজে। ফেরার সময় ট্রেনে উঠলেন। ভাগ্য খারাপ, সেই কামরায় ছিলেন এক ইংরেজ সাহেব। একজন নেটিভের উপস্থিতি তিনি ভালোভাবে নেননি।

আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নিজের বার্থে ঘুমিয়ে পড়লেন এক সময়। বেশ কিছুক্ষণ পর ঘুম ভাঙল তাঁর। কিন্তু অবাক কাণ্ড! তাঁর জুতোজোড়া উধাও। আশুতোষের বুঝতে বাকি রইল না, এটা ওই ব্যাটা ইংরেজের কাণ্ড!

সাহেব তখন ঘুমাচ্ছিলেন। বার্থের হুকে টাঙোনো ছিল সাহেবের কোট। আশুতোষ সেখান কোটটা খুলে বাইরে ছুড়ে দিলেন।

এক সময় ইংরেজে সাহেবের ঘুম ভাঙল। উঠে যখন নিজের কোট দেখতে পেলেন না, তমি্‌বগম্বি শুরু করলেন। চেঁচিয়ে আশুতোষকে বললেন, ‘আমার কোট কোথায়?’

আশুতোষ জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘তার আগে বলুন, আমার জুতো জোড়া কোথায়?’

সাহেব রেগে খাপ্পা! বললেন, ‘তোমার জুতো বাইরে হাওয়া খেতে গেছে।’

আশুতোষও ইটের বদলে পাটকেল ছুড়ে বললেন, ‘তোমার কোট আমার জুতো খুঁজতে বাইরে গিয়েছে।’

সাহেবের তখন আর বলার কিছু ছিল না। মুখ চুন করে বসে রইলেন।

ad
ad

সাত-পাঁচ থেকে আরও পড়ুন

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর নেই

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় গত কয়েক দিন ধরে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

১০ দিন আগে

সেবা প্রকাশনীতে অনিয়ম-দুর্নীতি, কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা

১২ দিন আগে

নায়িকার অভিযোগ, মুক্তি পাচ্ছে না ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’

নানা সমালোচনার পর মুক্তির দুই দিন আগেই স্থগিত করা হলো চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিনীত সিনেমা ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদপত্র। অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিনেমার সেন্সর সনদপত্রটি বাতিল করা হয়।

১২ দিন আগে

যুদ্ধ-ক্ষুধা-অবিনাশী সৌন্দর্য— মারাহ খালেদের ক্যানভাসে গাজার দিনলিপি

মারাহর কাজগুলো নিয়ে আমি যখন পড়ালেখা করছিলাম, আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল তার সেই ছোট্ট তাঁবুর গল্প। এক শরণার্থী শিবিরের ভেতরে, যেখানে মানুষের নিজের জন্য জায়গা নেই, সেখানে একটি তাঁবুকে গ্যালারি বানিয়ে ফেলল সে। এ যেন সেই প্রবল ধ্বংসযজ্ঞ ও অসহায়ত্বের মধ্যেও এক নীরব বিদ্রোহ।

১৩ দিন আগে