ঈদে সপ্তাহ জুড়ে ছুটি, ঢাকা প্রায় ফাঁকা

নাজমুল ইসলাম হৃদয়
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৪: ০৭
ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী, বাংলামোটর মোড়ে নেই চিরচেনা যানজট। ছবি: রাজনীতি ডটকম

ইটের পর ইট সাজিয়ে গড়া এই যান্ত্রিক শহরের সবচেয়ে সুন্দর ও আবেগময় দৃশ্যটি বোধ হয় তখনই তৈরি হয়, যখন মানুষ নাড়ির টানে শেকড়ে ফেরে। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) অফিসের শেষ কর্মদিবসের শেষ ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই যেন পুরো রাজধানীর চিত্র এক নিমেষে বদলে গেছে। ফাইলপত্রের পাহাড়, কম্পিউটারের কিবোর্ডের একটানা খটখট শব্দ, মিটিংয়ের ব্যস্ততা আর যানবাহনের বিরক্তিকর হর্ন পেছনে ফেলে মানুষের গন্তব্য এখন একটাই— নিজের বাড়ি, নিজের গ্রাম, আপনজনের চেনা মুখ।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। কর্মব্যস্ত ও ছকে বাঁধা রুটিনের জীবনে এমন দীর্ঘ ছুটির সুযোগ খুব একটা আসে না। আর তাই, এই অভাবনীয় সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে আপনজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দলে দলে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। সবার চোখেমুখে এখন কেবলই বাড়ি ফেরার এক অদম্য উচ্ছ্বাস।

গতকাল সোমবার দুপুরের পর থেকেই পালটে যেতে থাকে রাজধানীর চিরচেনা রূপ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং লঞ্চঘাটগুলোতে ক্রমেই ভিড় জমতে থাকে ঘরমুখো মানুষের। কমলাপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ট্রেনের হুইসেলের তীব্র শব্দ যেন কারও কাছেই বিরক্তির নয়, বরং তা বাড়ি ফেরার এক সুমধুর আনন্দধ্বনি হয়ে বাজছে মানুষের কানে। অন্যদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বিকেলের পর থেকে মানুষের ঢল যেন নদীর স্রোতকেও হার মানিয়েছে। সপরিবারে বাড়ি ফেরার এই যাত্রায় মানুষের চোখেমুখে রোজা রাখার ক্লান্তি ও দীর্ঘ যাত্রার ধকলের ছাপ থাকলেও, মনের গহীনে জ্বলজ্বল করছে শেকড়ে ফেরার অনাবিল এক তৃপ্তি।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মহাখালী কিংবা গাবতলীর বাসের টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে মহাসড়কগুলোর প্রতিটি বাঁকে এখন তৈরি হচ্ছে শুধু বাড়ি ফেরার গল্প। কেউ ছুটছেন বাসের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, কেউবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন কাঙ্ক্ষিত বাহনের জন্য। তবুও কারও মনে কোনো অভিযোগ বা অনুযোগ নেই, কারণ গন্তব্যস্থলে নিরাপদে পৌঁছাতে পারলেই পথের সব ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে যাবে অপেক্ষমাণ মায়ের মুখ কিংবা সন্তানের এক চিলতে হাসিতে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে প্রথমে পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল।

তবে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আর ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এর আগে ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে ১৮ মার্চ ছুটি দেওয়ার দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৮ মার্চ ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। পরে ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যবণ্টন (কার্যপ্রণালী বিধিমালা, ১৯৯৬)-এর তফসিল অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাবলে ১৮ মার্চ ছুটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা সেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোও খোলা থাকবে।

ছুটি শেষে আগামী ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) থেকে পুনরায় স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরবে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস, আদালত ও ব্যাংক-বিমা।

ঈদের ছুটি শুরু হতেই রাজধানী ঢাকা যতই দ্রুত খালি হচ্ছে, নিরাপত্তার বিষয়টিও ততটাই বড় হয়ে সামনে আসছে। লাখো মানুষ তাদের আবাসস্থল, সারা জীবনের সঞ্চয় ও ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ করে গ্রামের বাড়িতে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই দীর্ঘ সাত দিনের ছুটিতে প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়া ফাঁকা ঢাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার তাই নগরবাসীর প্রতি এক বিশেষ সতর্কতা ও পরামর্শ জারি করেছেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নগরবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘ ছুটির এই সময়ে বাসায় কোনোভাবেই যেন নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার বা অত্যন্ত মূল্যবান দলিলাদি অরক্ষিত অবস্থায় রেখে যাওয়া না হয়। সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ হয় যদি এই মূল্যবান সামগ্রীগুলো ঢাকায় অবস্থানরত কোনো বিশ্বস্ত আত্মীয়স্বজনের কাছে কিংবা প্রয়োজনে স্থানীয় থানায় আমানত হিসেবে রেখে যাওয়া যায়।

এ ছাড়া ঈদযাত্রা শতভাগ নিরাপদ করতে সরকারের পক্ষ থেকেও দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু কড়া সতর্কবার্তা। ‘গতি নয়, জীবনই বড়’— এই ধ্রুব সত্যকে সামনে রেখে মহাসড়কে ধীরে গাড়ি চালানো, চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধা, মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার করা এবং ক্লান্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় কোনোভাবেই গাড়ি না চালানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে। জীবনের চেয়ে সময়ের মূল্য যে কোনোভাবেই বেশি হতে পারে না, সেই বিষয়টিই নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন।

ঈদ মানেই তো আনন্দ, আর এই আনন্দের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো নতুন পোশাক, ভালো খাবার এবং প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া। কিন্তু সমাজের একটি বিরাট অংশ, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ এবং পোশাক খাতের লাখো শ্রমিকের জন্য এই আনন্দের পুরোটাই নির্ভর করে তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির বকেয়া বেতন ও উৎসব বোনাসের ওপর। এই দিকটি বিবেচনায় রেখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অত্যন্ত কড়া এবং স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। মালিকপক্ষ যেন কোনোভাবেই শেষ মুহূর্তে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বা ছলচাতুরী করতে না পারে, সেজন্য সংসদীয় এলাকাভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা প্রস্তুত করে সরাসরি তদারকির বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংক মালিকদের ঋণ দিতে গড়িমসি করছে, তাদের সঙ্গেও দ্রুত যোগাযোগ করে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই খেটে খাওয়া শ্রমিকদের সুবিধার্থেই দেশের সব শিল্প এলাকাগুলোতে ১৮ ও ১৯ মার্চ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যাতে শেষ মুহূর্তের লেনদেনে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিঘ্ন না ঘটে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ঈদের দিন ছাড়া ছুটির বাকি দিনগুলোতেও কাস্টমস হাউসগুলো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

তবে উৎসবের এই রঙিন, আনন্দমুখর ক্যানভাসের ঠিক উলটো পিঠে রয়েছে কিছু ধূসর, বিষণ্ণ ও বুকভরা আক্ষেপের গল্পও। টানা সাত দিনের এই দীর্ঘ ছুটির আনন্দ দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কপালে জোটেনি। যখন লাখো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হাসিখুশিতে সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে মিলিত হচ্ছেন, মায়ের হাতে তৈরি সেমাই খাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, তখন দেশের অত্যন্ত জরুরি সেবায় নিয়োজিত হাজারো কর্মী পাচ্ছেন না বাড়ি ফেরার সুযোগ, তাদের পড়ে থাকতে হচ্ছে নিজ নিজ কর্মস্থলে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জনস্বার্থে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল খাতের কর্মীদের জন্য এই দীর্ঘ ছুটির কোনো অস্তিত্ব নেই। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, বন্দর কার্যক্রম সচল রাখা কর্মকর্তা, ভোরের আলো ফোটার আগে শহরের ময়লা পরিষ্কার করা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের কারিগর টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং ডাক বিভাগের কর্মীদের এই ঈদের দিনগুলোতেও সাধারণ দিনের মতোই নিরলস কাজ করে যেতে হবে।

যখন পুরো দেশ উৎসবের বর্ণিল আনন্দে মাতোয়ারা, যখন আকাশে ঈদের চাঁদ দেখার খবরে সবাই উল্লাসে ফেটে পড়ে, তখন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স কিংবা একজন স্বাস্থ্যকর্মী হয়তো অপারেশন থিয়েটারে লড়ছেন কোনো মুমূর্ষু রোগীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার এক আপ্রাণ চেষ্টায়। তাদের কাছে ঈদের দিন আর ক্যালেন্ডারের অন্য দশটা সাধারণ দিনের মধ্যে কোনোই পার্থক্য নেই। ঈদের সকালে নিজের সন্তানের কপালে আদর করে চুমু খেয়ে নতুন জামা পরিয়ে দেওয়ার বদলে তারা হয়তো সম্পূর্ণ অচেনা অন্য কারও সন্তানের জীবন বাঁচাতে ঘাম ঝরাচ্ছেন।

জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিই এই দীর্ঘ সরকারি ছুটির আওতাভুক্ত নন। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পরিবহনকারী যানবাহনের চালক থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স চালক— সবাইকে এই পরম উৎসবের দিনেও নিজের দায়িত্ব পালন করতে হয়। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাজারো সদস্য প্রখর রোদে বা বৃষ্টিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেন, ফাঁকা ঢাকার নিষ্প্রাণ অলিগলিতে পাহারায় রাত জাগেন, যেন শহরের মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমায় আর গ্রামের মানুষ উৎসব করে।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত কর্মীরাও এই ছুটির আনন্দ থেকে অনেকটাই, ক্ষেত্রবিশেষে পুরোপুরি বঞ্চিত। গণমাধ্যমকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ‘নোয়াব’ দেশের সংবাদমাধ্যমের জন্য পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করলেও, বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। খবরের তো আর কোনো দিন, ক্ষণ বা উৎসবের ছুটি নেই। দুনিয়া যেখানে প্রতি মুহূর্তে বদলায়, সেখানে সংবাদ তো আর থেমে থাকতে পারে না। তাই মানুষের উৎসবের খবর, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য মানুষের দোরগোড়ায় এবং হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিতে টেলিভিশন, পত্রিকা বা অনলাইনের অনেক সাংবাদিককেই ঈদের দিনেও কাঁধে ক্যামেরা বা ব্যাগে ল্যাপটপ নিয়ে ছুটতে হয় খবরের সন্ধানে।

শহরের ইট-পাথরের দেয়াল আর এসির কৃত্রিম ঠান্ডা বাতাস থেকে মুক্তি নিয়ে গ্রামের মেঠো পথে হাঁটার আনন্দ, শৈশবের হারানো বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া আর মায়ের হাতের পরম মমতায় রান্না করা খাবার খাওয়ার যে স্বর্গীয় তৃপ্তি, তার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো কিছুরই তুলনা চলে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক হিসাব এবং ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, আগামী ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় যদি জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে শাওয়াল মাসের চাঁদের দেখা মেলে, তবে ২০ মার্চ, আর ৩০ রোজা পূর্ণ হলে আগামী ২১ মার্চ আকাশে উঁকি দেবে বহুল প্রতীক্ষিত ঈদের চাঁদ। সেই বাঁকা চাঁদের আলোয় আলোকিত হবে দেশের প্রতিটি প্রান্ত, প্রতিটি ঘর, প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়।

ad
ad

সাত-পাঁচ থেকে আরও পড়ুন

ভ্রমণগদ্য প্রকাশনা উপলক্ষে সুহৃদসভা’র আড্ডা-ইফতার

দেশে ভ্রমণসাহিত্যের মানোন্নয়ন, নতুন লেখক তৈরি এবং পাঠক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে ‘ভ্রমণগদ্য সাহিত্য পুরস্কার’ প্রবর্তন এবং লেখক কর্মশালা আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

২ দিন আগে

‘আল-কুদস’ দিবস: ফিলিস্তিন মুক্তির অঙ্গীকার

আল-কুদস দিবস বা আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস (ফার্সি ভাষায়—روز جهانی قدس) প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার পালিত হয়ে থাকে, যা ১৯৭৯ সালে ইরানে শুরু হয়েছিল। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ, জায়নবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও ইসরায়েল কর্তৃক জেরুজালেম দখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

৪ দিন আগে

ঈদে জি সিরিজে ‘সাত দিন’

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন নাটক নিয়ে হাজির হচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি সিরিজ। ঈদের বিশেষ আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির ব্যানারে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘সাত দিন’। নাটকটি রচনা করেছেন অপূর্ণ রুবেল এবং পরিচালনা করেছেন পথিক সাধন।

৫ দিন আগে

১০ মার্চ: কোনো শক্তিই বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না

প্রতিদিনই বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন রাজপথের আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে। অভিনেতা গোলাম মোস্তফা ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের নেতৃত্বে ‘বিক্ষুদ্ধ শিল্পী সমাজ’ ব্যানারে কবি, অভিনেতা ও শিল্পীরা রাজপথে বিক্ষোভ করেন। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের দ্বিতীয় শ্রেণির বাঙালি অফিসাররা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রতি

৭ দিন আগে