
মোহাম্মদ বিন কাশেম জুয়েল

একটি প্রজন্মের রাজনীতি কেমন হবে তা নির্ভর করে তাদের ভাষা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের ওপর। প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যসমৃদ্ধ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল জেনজি প্রজন্মের কাছে দেশের মানুষ এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রত্যাশা করেছিল। তারা ভেবেছিল— পুরনো দ্বন্দ্ব, কাদা ছোড়াছুড়ি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ধর্মীয় উন্মাদনার বদলে যুক্তিনির্ভর, শালীন ও মানবিক রাজনীতি গড়ে উঠবে।
কিন্তু বাস্তবতার চিত্র সবসময় আশাব্যঞ্জক নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও জাতীয় রাজনীতির পরিসরে কিছু নবীন নেতৃত্বের বক্তব্য, আচরণ ও বডি ল্যাংগুয়েজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত একটি মন্তব্য— ‘চুলকানি শুরু, মলমের নাম নুরু’— নিয়ে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এক ছাত্র অধিকার নেতার বাকবিতণ্ডা জনসমক্ষে এসেছে।
এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত কটাক্ষ নয়, এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতির এক প্রতীক। মতের অমিল থাকতেই পারে, রাজনৈতিক বিতর্কও স্বাভাবিক। কিন্তু যুক্তির জায়গায় যদি ব্যঙ্গ, শ্লেষ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ স্থান নেয়, তবে সেটি রাজনীতির মানদণ্ডকে নিচে নামিয়ে আনে।
রাজনীতি মানে মতের লড়াই। কিন্তু ভাষার শালীনতা হারালে সেই লড়াই আর নীতির থাকে না, হয়ে যায় কাদা ছোড়াছুড়ি। জেনজি প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেড়ে উঠেছে; তারা জানে শব্দের শক্তি কতটা। তবু যদি তারা সচেতনভাবে আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে, তবে সেটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়, রাজনৈতিক অদূরদর্শিতারও প্রমাণ।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তরুণদের সাহস, প্রতিবাদী কণ্ঠ ও সংগঠিত শক্তি তখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছিল। মানুষ ভেবেছিল— এবার হয়তো নেতৃত্বে আসবে পরিমিতিবোধ, দায়িত্বশীলতা ও নতুন রাজনৈতিক দর্শন।
কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা কিছু নবীন মুখের বক্তব্য, টেলিভিশন টকশোতে উপস্থিতি, এমনকি তাদের বডি ল্যাংগুয়েজ অনেককে হতাশ করেছে। অহেতুক উত্তেজনা, অপ্রস্তুত মন্তব্য, আত্মম্ভরিতার প্রকাশ— এসব দেখে প্রশ্ন জাগে, নেতৃত্ব কি কেবল স্লোগান দেওয়ার নাম?
নেতৃত্ব মানে সংযম। নেতৃত্ব মানে কথা বলার আগে ভাবা। নেতৃত্ব মানে বিরোধীকেও সম্মান করা। গণআন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব যদি একই সঙ্গে আত্মসমালোচনাহীন ও অসংলগ্ন হয়ে পড়ে, তবে সেই আন্দোলনের নৈতিক শক্তিও দুর্বল হয়ে যায়।
বাংলাদেশ একটি বহুমাত্রিক সমাজ। এখানে ধর্মীয় বিশ্বাস গভীর, কিন্তু সেই বিশ্বাসকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা বিপজ্জনক। জেনজি প্রজন্ম যদি ধর্মীয় আবেগকে উত্তেজনায় রূপ দেয়, কিংবা ভিন্নমতের মানুষকে ‘অবিশ্বাসী’ বা ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে, তবে রাজনীতি বিভাজনের পথে হাঁটবে।
ধর্ম মানুষকে নৈতিকতা শেখায়, সহনশীলতা শেখায়। কিন্তু ধর্মীয় উন্মাদনা রাজনীতিকে যুক্তিহীন করে তোলে। তখন সিদ্ধান্ত হয় আবেগে; শত্রু তৈরির রাজনীতি শুরু হয়। তরুণ নেতৃত্ব যদি এই ফাঁদে পা দেয়, তবে তারা অজান্তেই অন্ধকারের দিকে এগোবে।
ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর কিছু প্রকাশ্য আচরণ ও বক্তব্য নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে।
রাজনীতিকের প্রতিটি আচরণই বার্তা বহন করে। কথা বলার ভঙ্গি, দেহভঙ্গি, প্রতিপক্ষের প্রতি ব্যবহার— সবই জনমানসে প্রভাব ফেলে। যখন একজন নবীন নেতা জনসমক্ষে অপ্রস্তুত, উত্তেজিত বা অসংযত আচরণ করেন, তখন সেটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; এটি পুরো প্রজন্মের ভাবমূর্তিকেও প্রভাবিত করে।
রাজনীতিতে শালীনতা বিলাসিতা নয়— এটি প্রয়োজনীয়তা। জেনজি প্রজন্ম প্রযুক্তিতে দক্ষ, তথ্যপ্রবাহে দ্রুত এবং বৈশ্বিক রাজনীতি সম্পর্কে অবগত। তারা জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে মানবাধিকার— নানা ইস্যুতে সোচ্চার। কিন্তু একই সঙ্গে তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত। ‘ভাইরাল’ হওয়া যেন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনীতিতে ভাইরাল মন্তব্য সাময়িক জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা ক্ষতিকর। রাজনীতি কোনো টিকটক ভিডিও নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। যদি তরুণ নেতৃত্ব বুঝতে না পারে যে প্রতিটি শব্দ ইতিহাসে নথিভুক্ত হয়, তবে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই সংকুচিত করবে।
আরেকটি বড় সংকট হলো দর্শনের অভাব। অনেক তরুণ নেতা স্লোগান দিতে পারেন, সমাবেশে উত্তেজনা তৈরি করতে পারেন; কিন্তু অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন— এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান দিতে পারেন না।
রাজনীতি কেবল প্রতিবাদ নয়, এটি প্রস্তাবও। সমালোচনা করা সহজ, বিকল্প দেওয়া কঠিন। জেনজি প্রজন্ম যদি কেবল পুরনো নেতৃত্বের সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু নিজস্ব রোডম্যাপ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণের আস্থা অর্জন করা কঠিন হবে।
ফেসবুক লাইভ ও স্ট্যাটাস— এগুলো এখন রাজনীতির বড় প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। তাৎক্ষণিক রাগ, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসংলগ্ন মন্তব্য— সবকিছু মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে।
একজন দায়িত্বশীল নেতা জানেন কখন নীরব থাকতে হয়। সব বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করা প্রজ্ঞার লক্ষণ নয়, বরং পরিমিতি ও সংযমই নেতৃত্বের পরিচয়।
জেনজি প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে আত্মসমালোচনার ক্ষমতা। তারা যদি ভুল স্বীকার করতে শেখে, শালীন ভাষা চর্চা করে এবং ধর্মীয় ও সম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসে, তবে তারাই রাজনীতিতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারবে।
রাজনীতি মানে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করা নয়; বরং ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা। এই প্রজন্মের কাছে এখনো সময় আছে। তারা চাইলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন—
রাজনীতি যদি কেবল উত্তেজনা, ব্যঙ্গ ও ব্যক্তিগত আক্রমণে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সেটি অন্ধকারে ডুবে যাবে। কিন্তু যদি জেনজি প্রজন্ম নিজেদের শোধরাতে পারে, দর্শনচর্চা বাড়ায় এবং দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবে তারাই হতে পারে নতুন আলোর বাহক।
শেষ কথা হলো— নেতৃত্ব বয়সের নয়, প্রজ্ঞার বিষয়। তরুণ হওয়া গৌরবের, কিন্তু দায়িত্বশীল হওয়া অপরিহার্য। জেনজি প্রজন্ম যদি বুঝতে পারে যে রাষ্ট্র পরিচালনা কেবল স্লোগানের খেলা নয়, তবে তারা ইতিহাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে। তা না হলে ধর্মীয় উন্মাদনা, সম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ও অসংলগ্ন কথাবার্তার রাজনীতি তাদেরই ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেবে।
লেখক: রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট

একটি প্রজন্মের রাজনীতি কেমন হবে তা নির্ভর করে তাদের ভাষা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের ওপর। প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যসমৃদ্ধ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল জেনজি প্রজন্মের কাছে দেশের মানুষ এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রত্যাশা করেছিল। তারা ভেবেছিল— পুরনো দ্বন্দ্ব, কাদা ছোড়াছুড়ি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ধর্মীয় উন্মাদনার বদলে যুক্তিনির্ভর, শালীন ও মানবিক রাজনীতি গড়ে উঠবে।
কিন্তু বাস্তবতার চিত্র সবসময় আশাব্যঞ্জক নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও জাতীয় রাজনীতির পরিসরে কিছু নবীন নেতৃত্বের বক্তব্য, আচরণ ও বডি ল্যাংগুয়েজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত একটি মন্তব্য— ‘চুলকানি শুরু, মলমের নাম নুরু’— নিয়ে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এক ছাত্র অধিকার নেতার বাকবিতণ্ডা জনসমক্ষে এসেছে।
এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত কটাক্ষ নয়, এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতির এক প্রতীক। মতের অমিল থাকতেই পারে, রাজনৈতিক বিতর্কও স্বাভাবিক। কিন্তু যুক্তির জায়গায় যদি ব্যঙ্গ, শ্লেষ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ স্থান নেয়, তবে সেটি রাজনীতির মানদণ্ডকে নিচে নামিয়ে আনে।
রাজনীতি মানে মতের লড়াই। কিন্তু ভাষার শালীনতা হারালে সেই লড়াই আর নীতির থাকে না, হয়ে যায় কাদা ছোড়াছুড়ি। জেনজি প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেড়ে উঠেছে; তারা জানে শব্দের শক্তি কতটা। তবু যদি তারা সচেতনভাবে আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে, তবে সেটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়, রাজনৈতিক অদূরদর্শিতারও প্রমাণ।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তরুণদের সাহস, প্রতিবাদী কণ্ঠ ও সংগঠিত শক্তি তখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছিল। মানুষ ভেবেছিল— এবার হয়তো নেতৃত্বে আসবে পরিমিতিবোধ, দায়িত্বশীলতা ও নতুন রাজনৈতিক দর্শন।
কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা কিছু নবীন মুখের বক্তব্য, টেলিভিশন টকশোতে উপস্থিতি, এমনকি তাদের বডি ল্যাংগুয়েজ অনেককে হতাশ করেছে। অহেতুক উত্তেজনা, অপ্রস্তুত মন্তব্য, আত্মম্ভরিতার প্রকাশ— এসব দেখে প্রশ্ন জাগে, নেতৃত্ব কি কেবল স্লোগান দেওয়ার নাম?
নেতৃত্ব মানে সংযম। নেতৃত্ব মানে কথা বলার আগে ভাবা। নেতৃত্ব মানে বিরোধীকেও সম্মান করা। গণআন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব যদি একই সঙ্গে আত্মসমালোচনাহীন ও অসংলগ্ন হয়ে পড়ে, তবে সেই আন্দোলনের নৈতিক শক্তিও দুর্বল হয়ে যায়।
বাংলাদেশ একটি বহুমাত্রিক সমাজ। এখানে ধর্মীয় বিশ্বাস গভীর, কিন্তু সেই বিশ্বাসকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা বিপজ্জনক। জেনজি প্রজন্ম যদি ধর্মীয় আবেগকে উত্তেজনায় রূপ দেয়, কিংবা ভিন্নমতের মানুষকে ‘অবিশ্বাসী’ বা ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে, তবে রাজনীতি বিভাজনের পথে হাঁটবে।
ধর্ম মানুষকে নৈতিকতা শেখায়, সহনশীলতা শেখায়। কিন্তু ধর্মীয় উন্মাদনা রাজনীতিকে যুক্তিহীন করে তোলে। তখন সিদ্ধান্ত হয় আবেগে; শত্রু তৈরির রাজনীতি শুরু হয়। তরুণ নেতৃত্ব যদি এই ফাঁদে পা দেয়, তবে তারা অজান্তেই অন্ধকারের দিকে এগোবে।
ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর কিছু প্রকাশ্য আচরণ ও বক্তব্য নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে।
রাজনীতিকের প্রতিটি আচরণই বার্তা বহন করে। কথা বলার ভঙ্গি, দেহভঙ্গি, প্রতিপক্ষের প্রতি ব্যবহার— সবই জনমানসে প্রভাব ফেলে। যখন একজন নবীন নেতা জনসমক্ষে অপ্রস্তুত, উত্তেজিত বা অসংযত আচরণ করেন, তখন সেটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; এটি পুরো প্রজন্মের ভাবমূর্তিকেও প্রভাবিত করে।
রাজনীতিতে শালীনতা বিলাসিতা নয়— এটি প্রয়োজনীয়তা। জেনজি প্রজন্ম প্রযুক্তিতে দক্ষ, তথ্যপ্রবাহে দ্রুত এবং বৈশ্বিক রাজনীতি সম্পর্কে অবগত। তারা জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে মানবাধিকার— নানা ইস্যুতে সোচ্চার। কিন্তু একই সঙ্গে তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত। ‘ভাইরাল’ হওয়া যেন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনীতিতে ভাইরাল মন্তব্য সাময়িক জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা ক্ষতিকর। রাজনীতি কোনো টিকটক ভিডিও নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। যদি তরুণ নেতৃত্ব বুঝতে না পারে যে প্রতিটি শব্দ ইতিহাসে নথিভুক্ত হয়, তবে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই সংকুচিত করবে।
আরেকটি বড় সংকট হলো দর্শনের অভাব। অনেক তরুণ নেতা স্লোগান দিতে পারেন, সমাবেশে উত্তেজনা তৈরি করতে পারেন; কিন্তু অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন— এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান দিতে পারেন না।
রাজনীতি কেবল প্রতিবাদ নয়, এটি প্রস্তাবও। সমালোচনা করা সহজ, বিকল্প দেওয়া কঠিন। জেনজি প্রজন্ম যদি কেবল পুরনো নেতৃত্বের সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু নিজস্ব রোডম্যাপ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণের আস্থা অর্জন করা কঠিন হবে।
ফেসবুক লাইভ ও স্ট্যাটাস— এগুলো এখন রাজনীতির বড় প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। তাৎক্ষণিক রাগ, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসংলগ্ন মন্তব্য— সবকিছু মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে।
একজন দায়িত্বশীল নেতা জানেন কখন নীরব থাকতে হয়। সব বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করা প্রজ্ঞার লক্ষণ নয়, বরং পরিমিতি ও সংযমই নেতৃত্বের পরিচয়।
জেনজি প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে আত্মসমালোচনার ক্ষমতা। তারা যদি ভুল স্বীকার করতে শেখে, শালীন ভাষা চর্চা করে এবং ধর্মীয় ও সম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসে, তবে তারাই রাজনীতিতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারবে।
রাজনীতি মানে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করা নয়; বরং ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা। এই প্রজন্মের কাছে এখনো সময় আছে। তারা চাইলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন—
রাজনীতি যদি কেবল উত্তেজনা, ব্যঙ্গ ও ব্যক্তিগত আক্রমণে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সেটি অন্ধকারে ডুবে যাবে। কিন্তু যদি জেনজি প্রজন্ম নিজেদের শোধরাতে পারে, দর্শনচর্চা বাড়ায় এবং দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবে তারাই হতে পারে নতুন আলোর বাহক।
শেষ কথা হলো— নেতৃত্ব বয়সের নয়, প্রজ্ঞার বিষয়। তরুণ হওয়া গৌরবের, কিন্তু দায়িত্বশীল হওয়া অপরিহার্য। জেনজি প্রজন্ম যদি বুঝতে পারে যে রাষ্ট্র পরিচালনা কেবল স্লোগানের খেলা নয়, তবে তারা ইতিহাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে। তা না হলে ধর্মীয় উন্মাদনা, সম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ও অসংলগ্ন কথাবার্তার রাজনীতি তাদেরই ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেবে।
লেখক: রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট

প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনলাইন ভর্তি ও নিয়োগ-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, আর্থিক লেনদেনে ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা— এসব পদক্ষেপ দুর্নীতি কমাতে কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো প্রভাবশ
৮ দিন আগে
একই আসনের ফলাফল নিয়ে একেকটি মাধ্যমে একেক রকম তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে। কোনো চ্যানেলের স্ক্রলে যে সংখ্যা ভেসে উঠছে, অনলাইন পোর্টালে হয়তো দেখা যায় ভিন্ন সংখ্যা। আর সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে আরও ভিন্ন তথ্য। সাধারণ দর্শক বা ভোটার বুঝতে পারেন না, কোন তথ্যটি আংশিক। আর কোনটি সর্বশেষ।
৯ দিন আগে
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬— ৯৩ বছরের দীর্ঘ জীবন পেরিয়ে তিনি পাড়ি দিলেন অনন্তলোকের পথে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই কথাশিল্পী রেখে গেলেন তার কালজয়ী সাহিত্যকর্মের বিশাল ভান্ডার, অসংখ্য চরিত্র, অগণিত পাঠকের আবেগ এবং কয়েক প্রজন্মের মানসগঠনে গভীর ছাপ।
১১ দিন আগে
বাঙালির জাতীয় জীবনে একুশে ফেব্রুয়ারি একটি ঘটনা যা এ দেশের বহু মানুষকে বিভিন্নভাবে ছুঁয়ে গেছে এবং সেদিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত একুশে ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন অর্থ, ব্যঞ্জনা, দ্যোতনা ও তাৎপর্য নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
১১ দিন আগে