
ড. কামরুল হক

গণমাধ্যমে তথ্যের বিভ্রান্তি নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহুদিনের পুরোনো বাস্তবতা। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতি, তথ্যপ্রবাহের গতি বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক আপডেটের সংস্কৃতি এই সমস্যাকে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তুলেছে। অনেক সময় এই সমস্যা পাঠক ও দর্শক-শ্রোতাদের গোলকধাঁধার মধ্যে ফেলে দেয়।
বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ বিভ্রান্তি তীব্র আকার ধারণ করে। কারণ জাতীয় নির্বাচন শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এতে যদি তথ্যের অস্পষ্টতা বা পরস্পরবিরোধী উপস্থাপন থাকে, তবে তা জনমনে সন্দেহ ও অস্বস্তি তৈরি করে। মানুষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় বিভ্রান্তি সবচেয়ে প্রকটভাবে সামনে আসে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় গণনা। আর সেই সঙ্গে শুরু হয় ফলাফল জানার অপেক্ষা। বিপুল আগ্রহ নিয়ে পাঠক-দর্শকশ্রোতারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হন।
ফল প্রকাশের সময় বিভিন্ন টেলিভিশন সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে থাকে। অনলাইন পোর্টালগুলো লাইভ আপডেট দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে নতুন সংখ্যা। কিন্তু এই দ্রুততার মধ্যেই তৈরি হয় অসামঞ্জস্য।
একই আসনের ফলাফল নিয়ে একেকটি মাধ্যমে একেক রকম তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে। কোনো চ্যানেলের স্ক্রলে যে সংখ্যা ভেসে উঠছে, অনলাইন পোর্টালে হয়তো দেখা যায় ভিন্ন সংখ্যা। আর সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে আরও ভিন্ন তথ্য। সাধারণ দর্শক বা ভোটার বুঝতে পারেন না, কোন তথ্যটি আংশিক। আর কোনটি সর্বশেষ।
ভোট গণনা সাধারণত ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়। কেন্দ্রভিত্তিক ফল সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে মোট ফল নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অনেক সময় কোনো গণমাধ্যম ৭০ বা ৮০ শতাংশ কেন্দ্রের ফলের ভিত্তিতে মোট ভোটসংখ্যা প্রচার করে। অন্য কোনো মাধ্যম ৯০ শতাংশ বা প্রায় পূর্ণাঙ্গ ফলের ভিত্তিতে সংখ্যা প্রকাশ করে।
এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করা হলে দর্শকের কাছে সংখ্যাগুলো পরস্পরবিরোধী মনে হয়। এক জায়গায় হয়তো একজন প্রার্থী এগিয়ে আছেন বলে দেখানো হচ্ছে, অন্য জায়গায় পিছিয়ে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি তথ্যের সময়গত ব্যবধান ও পরিমাণগত পার্থক্যের ফল।
মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদকরাও অনেক সময় তাড়াহুড়োর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সূত্র থেকে পাওয়া হিসাব পাঠিয়ে দেন। নির্বাচনি কেন্দ্রে উপস্থিত স্থানীয় কর্মকর্তা বা দলীয় প্রতিনিধির কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক সংখ্যা দ্রুত সম্প্রচারে চলে আসে। কিন্তু সেগুলো সবসময় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
পরে নির্বাচন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করলে দেখা যায়, আগের প্রকাশিত সংখ্যার সঙ্গে অমিল রয়েছে। পরে হয়তো সংশোধনী দেওয়া হয়। তবে মানুষের মনে প্রথম ঘোষিত সংখ্যাটিই বেশি গেঁথে থাকে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রথম তথ্যের প্রভাব গভীর হয়। সংশোধিত তথ্য অনেক সময় সেই প্রভাব মুছে দিতে পারে না।
তথ্য হালনাগাদের সময়গত ব্যবধানও বিভ্রান্তির একটি বড় কারণ। একটি অনলাইন পোর্টাল হয়তো প্রতি মিনিটে ফল হালনাগাদ করছে, অন্যটি প্রযুক্তিগত বা জনবল সংকটে তা করতে পারছে না। কোনো টেলিভিশনের স্ক্রলে পুরোনো সংখ্যা কিছু সময় রয়ে যায়, যখন অন্য চ্যানেল হয়তো নতুন সংখ্যা দেখাতে শুরু করেছে। ফলে একই মুহূর্তে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিন্ন তথ্য দেখা যায়। দর্শক তখন ধরে নিতে পারেন, কোনো গণমাধ্যম ভুল করছে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করছে বা পরিবর্তন করছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দলীয় মুখপাত্ররা নিজেদের পক্ষে অনুকূল ফল দাবি করেন, যা হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। সংবাদমাধ্যম যদি সেই দাবিকে যাচাই ছাড়া সংবাদ হিসেবে প্রচার করে, তাহলে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে। এক দল নিজেদের জয়ী ঘোষণা করে, অন্য দলও একই দাবি তোলে। মিডিয়া ভিন্ন ভিন্ন দাবিকে সমানভাবে তুলে ধরলে বাস্তব ফলাফল আড়ালে পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন।
ভোটসংখ্যার এই তারতম্য কেবল পরিসংখ্যানগত পার্থক্য নয়, আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। যখন মানুষ একই আসনের জন্য একাধিক ভিন্ন সংখ্যা দেখেন, তখন তারা ভাবতে শুরু করেন— গণনা কি সঠিকভাবে হচ্ছে? তথ্য কি ইচ্ছাকৃতভাবে বদলানো হচ্ছে? গণমাধ্যম কি নিরপেক্ষ? এই সন্দেহ ধীরে ধীরে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সামগ্রিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
বিশেষ করে যখন জয়-পরাজয়ের ব্যবধান খুব কম থাকে, তখন কয়েক শ বা কয়েক হাজার ভোটের পার্থক্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সমর্থকেরা হয়তো আগেভাগেই বিজয় উদ্যাপন শুরু করে দেয়। বিজয় মিছিল বের করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। পরে যদি ফল উলটে যায়, তখন ক্ষোভ, হতাশা ও অভিযোগ জন্ম নেয়। কখনো কখনো তা সামাজিক অস্থিরতারও কারণ হয়ে উঠে।
একই আসনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রাপ্ত ভোটের ভিন্নতা নানা কারণেই ঘটতে পারে। বিশেষ করে তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতি, আংশিক ফলের স্পষ্ট উল্লেখ না থাকা, হালনাগাদে বিলম্ব, দ্রুততার প্রতিযোগিতা কিংবা রাজনৈতিক দাবির যাচাইহীন প্রচারে ফলে এমনটা বেশি ঘটে। তাই নির্বাচনকালীন রিপোর্টিংয়ে সংবাদ কর্মীদের অধিকতর সতর্ক হতে হয়।
নির্বাচনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিটি সংখ্যা শুধু একটি তথ্য নয়, তা মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি। তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ছাড়া সেই ভিত্তি দৃঢ় হয় না। নির্বাচন যত গুরুত্বপূর্ণ, তার ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও ততটাই দায়িত্বশীল ও সতর্কতমূলক হওয়া প্রয়োজন।
তথ্য বিভ্রাটের কারণ যাই হোক, পাঠক বা দর্শকশ্রোতারা সেটি বুঝতে আগ্রহী হবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। তারা চান নির্ভুল তথ্য। সংবাদমাধ্যমের প্রতিটি রিপোর্ট কিংবা তথ্য একেকটি দর্পণের মতো। সেই দর্পণে সত্যের প্রতিফলন অস্পষ্ট হলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়। আস্থার সংকট তৈরি হয়। এভাবে অনেক সময় বিভিন্ন সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন চ্যানেল বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। ক্রমেই কমে যায় তার পাঠক বা দর্শকশ্রোতার সংখ্যা।
শুধু তাই না, তথ্যের বিকৃতি জনগণের সত্য জানার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে তথ্যের অসঙ্গতি সঠিক ইতিহাস ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতারও অন্তরায়। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নির্ভুল তথ্য ও সৎ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।
লেখক: সাংবাদিক ও গণমাধ্যম গবেষক; সাবেক পরিচালক (গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণ), প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)

গণমাধ্যমে তথ্যের বিভ্রান্তি নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহুদিনের পুরোনো বাস্তবতা। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতি, তথ্যপ্রবাহের গতি বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক আপডেটের সংস্কৃতি এই সমস্যাকে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তুলেছে। অনেক সময় এই সমস্যা পাঠক ও দর্শক-শ্রোতাদের গোলকধাঁধার মধ্যে ফেলে দেয়।
বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ বিভ্রান্তি তীব্র আকার ধারণ করে। কারণ জাতীয় নির্বাচন শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এতে যদি তথ্যের অস্পষ্টতা বা পরস্পরবিরোধী উপস্থাপন থাকে, তবে তা জনমনে সন্দেহ ও অস্বস্তি তৈরি করে। মানুষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় বিভ্রান্তি সবচেয়ে প্রকটভাবে সামনে আসে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় গণনা। আর সেই সঙ্গে শুরু হয় ফলাফল জানার অপেক্ষা। বিপুল আগ্রহ নিয়ে পাঠক-দর্শকশ্রোতারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হন।
ফল প্রকাশের সময় বিভিন্ন টেলিভিশন সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে থাকে। অনলাইন পোর্টালগুলো লাইভ আপডেট দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে নতুন সংখ্যা। কিন্তু এই দ্রুততার মধ্যেই তৈরি হয় অসামঞ্জস্য।
একই আসনের ফলাফল নিয়ে একেকটি মাধ্যমে একেক রকম তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে। কোনো চ্যানেলের স্ক্রলে যে সংখ্যা ভেসে উঠছে, অনলাইন পোর্টালে হয়তো দেখা যায় ভিন্ন সংখ্যা। আর সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে আরও ভিন্ন তথ্য। সাধারণ দর্শক বা ভোটার বুঝতে পারেন না, কোন তথ্যটি আংশিক। আর কোনটি সর্বশেষ।
ভোট গণনা সাধারণত ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়। কেন্দ্রভিত্তিক ফল সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে মোট ফল নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অনেক সময় কোনো গণমাধ্যম ৭০ বা ৮০ শতাংশ কেন্দ্রের ফলের ভিত্তিতে মোট ভোটসংখ্যা প্রচার করে। অন্য কোনো মাধ্যম ৯০ শতাংশ বা প্রায় পূর্ণাঙ্গ ফলের ভিত্তিতে সংখ্যা প্রকাশ করে।
এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করা হলে দর্শকের কাছে সংখ্যাগুলো পরস্পরবিরোধী মনে হয়। এক জায়গায় হয়তো একজন প্রার্থী এগিয়ে আছেন বলে দেখানো হচ্ছে, অন্য জায়গায় পিছিয়ে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি তথ্যের সময়গত ব্যবধান ও পরিমাণগত পার্থক্যের ফল।
মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদকরাও অনেক সময় তাড়াহুড়োর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সূত্র থেকে পাওয়া হিসাব পাঠিয়ে দেন। নির্বাচনি কেন্দ্রে উপস্থিত স্থানীয় কর্মকর্তা বা দলীয় প্রতিনিধির কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক সংখ্যা দ্রুত সম্প্রচারে চলে আসে। কিন্তু সেগুলো সবসময় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
পরে নির্বাচন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করলে দেখা যায়, আগের প্রকাশিত সংখ্যার সঙ্গে অমিল রয়েছে। পরে হয়তো সংশোধনী দেওয়া হয়। তবে মানুষের মনে প্রথম ঘোষিত সংখ্যাটিই বেশি গেঁথে থাকে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রথম তথ্যের প্রভাব গভীর হয়। সংশোধিত তথ্য অনেক সময় সেই প্রভাব মুছে দিতে পারে না।
তথ্য হালনাগাদের সময়গত ব্যবধানও বিভ্রান্তির একটি বড় কারণ। একটি অনলাইন পোর্টাল হয়তো প্রতি মিনিটে ফল হালনাগাদ করছে, অন্যটি প্রযুক্তিগত বা জনবল সংকটে তা করতে পারছে না। কোনো টেলিভিশনের স্ক্রলে পুরোনো সংখ্যা কিছু সময় রয়ে যায়, যখন অন্য চ্যানেল হয়তো নতুন সংখ্যা দেখাতে শুরু করেছে। ফলে একই মুহূর্তে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিন্ন তথ্য দেখা যায়। দর্শক তখন ধরে নিতে পারেন, কোনো গণমাধ্যম ভুল করছে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করছে বা পরিবর্তন করছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দলীয় মুখপাত্ররা নিজেদের পক্ষে অনুকূল ফল দাবি করেন, যা হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। সংবাদমাধ্যম যদি সেই দাবিকে যাচাই ছাড়া সংবাদ হিসেবে প্রচার করে, তাহলে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে। এক দল নিজেদের জয়ী ঘোষণা করে, অন্য দলও একই দাবি তোলে। মিডিয়া ভিন্ন ভিন্ন দাবিকে সমানভাবে তুলে ধরলে বাস্তব ফলাফল আড়ালে পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন।
ভোটসংখ্যার এই তারতম্য কেবল পরিসংখ্যানগত পার্থক্য নয়, আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। যখন মানুষ একই আসনের জন্য একাধিক ভিন্ন সংখ্যা দেখেন, তখন তারা ভাবতে শুরু করেন— গণনা কি সঠিকভাবে হচ্ছে? তথ্য কি ইচ্ছাকৃতভাবে বদলানো হচ্ছে? গণমাধ্যম কি নিরপেক্ষ? এই সন্দেহ ধীরে ধীরে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সামগ্রিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
বিশেষ করে যখন জয়-পরাজয়ের ব্যবধান খুব কম থাকে, তখন কয়েক শ বা কয়েক হাজার ভোটের পার্থক্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সমর্থকেরা হয়তো আগেভাগেই বিজয় উদ্যাপন শুরু করে দেয়। বিজয় মিছিল বের করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। পরে যদি ফল উলটে যায়, তখন ক্ষোভ, হতাশা ও অভিযোগ জন্ম নেয়। কখনো কখনো তা সামাজিক অস্থিরতারও কারণ হয়ে উঠে।
একই আসনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রাপ্ত ভোটের ভিন্নতা নানা কারণেই ঘটতে পারে। বিশেষ করে তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতি, আংশিক ফলের স্পষ্ট উল্লেখ না থাকা, হালনাগাদে বিলম্ব, দ্রুততার প্রতিযোগিতা কিংবা রাজনৈতিক দাবির যাচাইহীন প্রচারে ফলে এমনটা বেশি ঘটে। তাই নির্বাচনকালীন রিপোর্টিংয়ে সংবাদ কর্মীদের অধিকতর সতর্ক হতে হয়।
নির্বাচনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিটি সংখ্যা শুধু একটি তথ্য নয়, তা মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি। তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ছাড়া সেই ভিত্তি দৃঢ় হয় না। নির্বাচন যত গুরুত্বপূর্ণ, তার ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও ততটাই দায়িত্বশীল ও সতর্কতমূলক হওয়া প্রয়োজন।
তথ্য বিভ্রাটের কারণ যাই হোক, পাঠক বা দর্শকশ্রোতারা সেটি বুঝতে আগ্রহী হবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। তারা চান নির্ভুল তথ্য। সংবাদমাধ্যমের প্রতিটি রিপোর্ট কিংবা তথ্য একেকটি দর্পণের মতো। সেই দর্পণে সত্যের প্রতিফলন অস্পষ্ট হলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়। আস্থার সংকট তৈরি হয়। এভাবে অনেক সময় বিভিন্ন সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন চ্যানেল বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। ক্রমেই কমে যায় তার পাঠক বা দর্শকশ্রোতার সংখ্যা।
শুধু তাই না, তথ্যের বিকৃতি জনগণের সত্য জানার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে তথ্যের অসঙ্গতি সঠিক ইতিহাস ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতারও অন্তরায়। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নির্ভুল তথ্য ও সৎ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।
লেখক: সাংবাদিক ও গণমাধ্যম গবেষক; সাবেক পরিচালক (গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণ), প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)

তারেক রহমান নিজেকে সেই আদর্শিক ধারার উত্তরসূরি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, উদ্যোক্তা তৈরি এবং আধুনিক প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
৬ দিন আগে
কাজী আরেফ আহমেদ ছিলেন পরিপূর্ণ এক সংগ্রামী নেতা। ক্ষমতার মোহ তাকে কখনোই আচ্ছন্ন করতে পারেনি। একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে তিনি দেশের রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। তার মৃত্যুদিবসে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।
৭ দিন আগে
আমাদের চোখের সামনে বহু রূপে বর্ণচোরা নতুন খোলস পরে চারপাশে সুশীল কিংবা শক্তিধর সেজে দাঁড়াবে— স্বদেশ-স্বাধীনতা, একাত্তরের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছরের রাষ্ট্র বাংলাদেশের গৌরবময় মাহাত্ম্য ও অর্জনের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস-ঘৃণা ছড়াবে— এই কলঙ্ক তারা ঢাকবে কীভাবে?
১০ দিন আগে
গণভোট ও জনরায় কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো এবং নাগরিকদের রাজনৈতিক আস্থা নিশ্চিত হতে পারে। ফলে দেশের জনগণ সচেতনভাবে, আবেগতাড়িত না হয়ে যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
১২ দিন আগে