আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশে ৫৮ হাজার ৫৯৮ চিকিৎসকের ঘাটতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সংসদ অধিবেশন কক্ষ ও ইনসেটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোলাজ: রাজনীতি ডটকম
সংসদ অধিবেশন কক্ষ ও ইনসেটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোলাজ: রাজনীতি ডটকম

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চিকিৎসক ও জনসংখ্যার ন্যূনতম অনুপাত পূরণ করতে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৫৮ হাজার ৫৯৮ জন চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ীও চিকিৎসকের শূন্য পদ রয়েছে ১১ হাজার ৪৯৫টি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মাদারীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিহার লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য দেন। এ দিন বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, সরকারের অর্থায়নে ২০২৬ সালে পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ জন তথা প্রতি দুই হাজার মানুষের জন্য একজন করে চিকিৎসক প্রয়োজন। সে ন্যূনতম মান পূরণ করতে চলতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, এর বিপরীতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুমোদিত মোট পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে চিকিৎসকের শূন্য পদই রয়েছে ১১ হাজার ৪৯৫টি।

সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মী-সংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে দেশে চিকিৎসকের মোট সংখ্যা ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয়।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ ও চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদগুলো ধীরে ধীরে পূরণ করতে সরকার নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ তৈরি করা হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশে ৫৮ হাজার ৫৯৮ চিকিৎসকের ঘাটতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী