চাটুকারিতার বাজারে সত্য নহে, প্রচারই মূলধন

এম ডি মাসুদ খান

যে সমাজে সত্য বলাকে সাহসিকতা গণ্য করা হয় এবং নীরবতাকে বুদ্ধিমত্তা বলিয়া মান্য করা হয়— সে সমাজে চাটুকারিতা কেবল একটি সামাজিক অভ্যাস নহে; ইহা এক সুসংগঠিত শিল্পে পরিণত হয়। আমাদের চারিপাশে দৃষ্টিপাত করিলেই প্রতীয়মান হয়, চাটুকারের অভাব নাই; বরং অনেক সময় মনে হয়— ইহাই বুঝি আমাদের অঘোষিত জাতীয় দক্ষতা। কৃষি, শিল্প কিংবা প্রযুক্তিতে আমরা যতটা পশ্চাৎপদ, চাটুকারিতায় ততটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই বাস্তবতারই সামান্য ব্যঙ্গাত্মক, অথচ গভীরভাবে সত্য প্রতিচ্ছবি তুলে ধরাই অত্র রচনার উদ্দেশ্য।

চাটুকারিতা— ইহা আর কোনো সাধারণ সামাজিক ব্যাধি নহে; ইহা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হইয়াছে। যাহার রক্ত লাল, তাহার শিরায় শিরায় হিমোগ্লোবিনের সহিত সামান্য চাটুকারিতাও প্রবাহিত— ইহা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের তত্ত্ব নহে; বরং সামাজিক অভিজ্ঞতায় বহুবার পরীক্ষিত সত্য।

বাংলাদেশ নামক পুণ্যভূমিতে জন্মগ্রহণ করিলেই মানুষ অতি অল্প বয়সে দুইটি মৌলিক শিক্ষা লাভ করে। প্রথমত, লাইনে দাঁড়াইয়া কাজ আদায় একটি কাব্যিক কল্পনামাত্র; বাস্তব জীবনে ইহার কার্যকর অস্তিত্ব নাই। দ্বিতীয়ত, যন্ত্র হউক বা মানুষ— উভয়ের ক্ষেত্রেই সামান্য তৈল না ঢালিলে চাক্র ঘূর্ণায়মান হয় না। এই তৈলই হইল চাটুকারিতা— ঘন, পিচ্ছিল ও সর্বত্র প্রযোজ্য।

আমাদিগের সমাজে চাটুকার লোকেরা অলস নহে; বরং তাহারা অত্যন্ত কর্মঠ। ঊষা হইতেই তাহারা স্তুতির ভাণ্ড বসাইয়া দেয়, অতঃপর তোষামোদির খুন্তি নাড়াইয়া সুযোগ বুঝিয়া দুই চামচ অধিক মাখন ঢালিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। ইহা দুঃখজনক, চাটুকারিতা অধুনা আর লজ্জার বিষয় নহে; ইহা একটি কৌশল, একটি পূর্ণাঙ্গ জীবিকার পথ। বহুজন রহিয়াছেন, যাহারা ডিগ্রি-সনদ দেরাজে তুলিয়া রাখিয়া চাটুকারিতাকেই জীবিকা রূপে গ্রহণ করিয়াছেন। তাহারা জানেন— মেরুদণ্ড ঋজু রাখিলে সমাজে টিকিয়া থাকা দুষ্কর, পক্ষান্তরে কোমর বাঁকাইতে পারিলে দ্বার খুলিয়া যাইবে আপনিই।

ফলত আমাদিগের সমাজে সত্য বচন বলিয়া মানুষ একেলা হইয়া পড়ে, আর মিথ্যা প্রশংসা করিয়া নেতা হয়। চাটুকারিতা তাই আর ব্যাধি নহে— ইহা এক প্রকার সামাজিক তৈল; যাহা ব্যতীত রাষ্ট্রযন্ত্র কড়কড় শব্দ করিয়া থামিয়া যায়।

এই চাটুকারিতার সংস্কৃতি কেবল ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নহে; ইহা রাষ্ট্রের স্তরে স্তরে বিস্তৃত। সেনানায়ক হইতে করপোরেট নির্বাহী, আমলা হইতে রাজনৈতিক কর্মী— সকলেই কোনো না কোনোভাবে এই শিল্পের চর্চায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রাঙ্গণেও চাটুকারিতা এখন আর সংযোগহীন কোনো আচরণ নহে; ইহা এক সুসংগঠিত শৃঙ্খলে পরিণত হইয়াছে। উপর হইতে নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত তোষামোদি সংস্কৃতি এক অলিখিত শর্তে রূপ লইয়াছে— নেতার যত নিকটে, ভবিষ্যৎ তত নিশ্চিত।

দলীয় কর্মীরা নেতার সম্মুখে কর্মী নহে; তাহারা এক একজন প্রশিক্ষিত ভক্ত। সভাস্থলে পুষ্প অর্পণের সময় যে ঠেলাঠেলি দেখা যায়, তাহা দেখিলে মনে হয়— ফুল নহে, ক্ষমতার চাবিই বুঝি অর্পিত হইতেছে। কে সর্বাগ্রে মালা পরাইবে, কে সর্বাগ্রে নেতার চরণ স্পর্শ করিবে, কে আগে মঞ্চের কোণায় দাঁড়াইয়া ফোটো তুলিবে— এ প্রতিযোগিতায় শৃঙ্খলা এক সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক শব্দ।

ঢাকা হউক কিংবা জেলা সদর, উপজেলা বা ইউনিয়ন— চাটুকারিতার রূপ সর্বত্র এক; কেবল ভাষা পরিবর্তিত। কোথাও বলা হয়, ‘নেতা মানেই উন্নয়ন’; কোথাও বলা হয়, ‘নেতা না থাকিলে দেশ অচল’। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে নেতার প্রতিকৃতি এ রূপে স্থাপিত হয়, যেন সড়ক নহে— জনগণের গমনাগমনের হেতু কেবলই নেতার মুখ দর্শন।

নেতার সহিত একটি ফোটো তুলিবার সুযোগই এখন রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করিয়া ক্যাপশন লিপিবদ্ধ করা হয়—

  • ‘ইতিহাসের সাক্ষী হইলাম’,
  • ‘অমুক নেতার সহিত করমর্দনের সৌভাগ্য’,
  • ‘দেশের ভবিষ্যৎ রূপকারের সান্নিধ্যে ধন্য।

যেন পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎই বহু বছরের ত্যাগ, আন্দোলন ও আদর্শের স্বীকৃতি।

কেহ কেহ অধিক অগ্রসর হইয়া বলেন— ‘নেতা আমাকে চেনেন’, ‘আমি নেতার অতি ঘনিষ্ঠ’, ‘নেতার সহিত প্রত্যক্ষ কথোপকথন হয়’; যদিও বাস্তবে নেতা পরদিন তাহাকে চিনিবার দায় গ্রহণ করেন না। তথাপি কর্মী তৃপ্ত, কারণ চাটুকারিতার বাজারে সত্য নহে, প্রচারই মূলধন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তোষামোদি কেবল বাক্যগত নহে; ইহা কার্যকর কৌশল। নেতা আসিবেন— রাস্তাঘাট রাত্রীর মধ্যে ঝকঝকে। নেতা পরিদর্শন করিবেন— হাসপাতালের ওয়ার্ড হঠাৎ পরিচ্ছন্ন। নেতা উদ্বোধন করিবেন— অর্ধসমাপ্ত প্রকল্পও ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হইয়া ওঠে। এই সাময়িক সাজসজ্জাই পরবর্তী প্রতিবেদনে রূপান্তরিত হয় ‘অভূতপূর্ব উন্নয়ন’ নামে।

সভাস্থলে নেতার প্রতিটি বাক্যের সহিত হাততালির সময়জ্ঞান এত নিখুঁত যে মনে হয়, পূর্বেই মহড়া সম্পন্ন হইয়াছে। বক্তব্য যেই অন্তঃসারশূন্য হউক, প্রশংসা হইতে ততই ভারী। নেতা যদি বলেন— ‘আমরা চেষ্টা করিতেছি’, কর্মীরা শুনিয়া থাকেন—‘আমরাই সফল’। প্রশ্নের স্থান নাই; প্রশ্ন মানেই সন্দেহ, আর সন্দেহ মানেই দলবিরোধিতা।

কেহ ভিন্নমত প্রকাশের দুঃসাহস দেখাইলে তৎক্ষণাৎ তাহাকে ‘ষড়যন্ত্রকারী’, ‘বিপথগামী’, ‘বিদেশি এজেন্ট’ কিংবা ‘বিরোধী শক্তির দালাল’ আখ্যা দিয়া নীরব করা হয়। কারণ এই চাটুকারিতার শৃঙ্খলে যুক্ত থাকিতে হইলে চিন্তা নহে, আনুগত্যই প্রধান যোগ্যতা।

এই শৃঙ্খল নিম্নগামী হইতে হইতে এমন পর্যায়ে পৌঁছিয়া রহে যে তৃণমূল নেতা জেলা নেতাকে তোষামোদি করিয়া থাকেন, জেলা নেতা কেন্দ্রীয় নেতাকে, আর কেন্দ্রীয় নেতা নিজেকেই ইতিহাসের অবধারিত চরিত্র বলিয়া ভাবিতে আরম্ভ করেন। ফলত বাস্তবতা ও নেতৃত্বের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয় এক বিপজ্জনক দূরত্ব।

যে রাজনীতিতে প্রশ্নের স্থান নাহি, সমালোচনার অধিকার নাহি— সেখানে ভ্রান্তি সংশোধনের পথও থাকে না। চাটুকারিতার এই শৃঙ্খল ভাঙা না গেলে রাজনীতি ক্রমে আদর্শহীন প্রদর্শনীতে পরিণত হয়— যেখানে কর্মী থাকে, কিন্তু বিবেক থাকে না; নেতা থাকে, কিন্তু জবাবদিহি থাকে না।

এই তোষামোদি-শিল্প ভাঙিবার কথা কেহ উচ্চারণ করে না; কারণ শৃঙ্খল ভাঙিলে সুবিধাও ভাঙে। নেতার ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত ‘কৌশলগত প্রজ্ঞা’, ব্যর্থতা ‘দূরদর্শী ত্যাগ’, বেকারত্ব বৃদ্ধি ‘সময়ের চ্যালেঞ্জ’, আর জনদুর্ভোগ ‘বিশ্ব পরিস্থিতি’ বলিয়া ব্যাখ্যা করা হয়। কোথাও নেতা দায়ী নহেন; দোষ সর্বদাই পরিস্থিতির।

বাংলাদেশে রাজনীতি কেবল ক্ষমতার খেলা নহে; ইহা এক প্রকার সার্বজনিক পদলেহন উৎসব। হেথা রাজনীতিবিদগণ মঞ্চে উপবিষ্ট, আর নিম্নে সারি বাঁধিয়া দাঁড়াইয়া রহেন সাধারণ কর্মচারী, আমলা, সেনানায়ক ও করপোরেট নির্বাহীগণ।

সাধারণ কর্মচারী রাজনীতিবিদকে দেখিয়া বলেন— ‘স্যার না থাকিলে দেশ চলিত না।’ তিনি জানেন— ন্যায় চাইলে বদলি, আর তোষামোদি করিলে পদোন্নতি। অতএব তিনি আইন জানেন না; জানেন কেবল— কার নাম উচ্চারণ করিলে ফাইল নড়ে। তাহার চাটুকারিতা সরল, কিন্তু ভীষণ কার্যকর।

আমলারা চাটুকারিতার নিখুঁত সংস্করণ। তাহারা আইন জানেন, কিন্তু প্রয়োগ করেন রাজনৈতিক আবহ বুঝিয়া। অদ্য যিনি ক্ষমতাসীন, তিনিই সংবিধান, নীতিমালা ও জাতীয় স্বার্থ। তাহারা উচ্চস্বরে প্রশংসা করেন না; তাহারা করেন নীরব পদলেহন— ফাইল আটকে রাখিয়া, আবার হঠাৎ ছাড় দিয়া। এই নীরবতাই আমলাতান্ত্রিক চাটুকারিতার সর্বোচ্চ স্তর।

সেনানায়ক— শৃঙ্খলার আবরণে আনুগত্য। হেথা শৃঙ্খলা মানে প্রশ্ন না করা, আর আনুগত্য মানে সময় বুঝিয়া নীরব থাকা। রাজনীতিবিদ যাহা বলেন, তাহাই মুহূর্তে ‘রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত’ হইয়া ওঠে। দেশরক্ষার শপথ কখন যে ব্যক্তি-রক্ষার শপথে রূপান্তরিত হয়— তা আর বোঝা যায় না; কারণ চাটুকারিতা হেথা দেশপ্রেমের পোশাক পরিধান করিয়া উপস্থিত হয়।

করপোরেট নির্বাহীরা বলেন— ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।’ এই স্থিতিশীলতা অর্থ— কর কম, লাইসেন্স সহজ, আর প্রশ্নহীন সুবিধা। তাহারা রাজনীতিবিদদের ‘ভিশনারি লিডার’ বলিয়া আখ্যায়িত করেন; কারণ ভিশন থাকিলে লভ্যাংশ বৃদ্ধি পায়। হেথা চাটুকারিতা সম্পূর্ণ করপোরেট মানদণ্ডে উত্তীর্ণ।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে বলা হয় ‘বিবেকের দর্পণ’। কিন্তু সেই দর্পণ অদ্য ক্ষমতার দরবারে স্থাপিত— তাহা আর গোপন নহে। এ দর্পণে সমাজের মুখ নহে; বরং ক্ষমতাবানদের মুখই অধিক উজ্জ্বল, অধিক নিখুঁত ও আশ্চর্যজনকভাবে সর্বদাই নির্দোষ প্রতিভাত হয়। কোনো সিদ্ধান্তে জনজীবন বিপর্যস্ত হইলে গণমাধ্যম তখন উপযুক্ত বিশেষণ সন্ধানে ব্যস্ত হয়— ‘দূরদর্শী সিদ্ধান্ত’, ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’, ‘সময়ের সাহসী দাবি’। ‘ভুল’ শব্দটি সেখানে নিষিদ্ধ; কারণ ভুল মানেই প্রশ্ন, আর প্রশ্ন মানেই বিজ্ঞাপন হ্রাস।

নাগরিকগণ রাস্তায় নামিলে গণমাধ্যম আতঙ্কিত হইয়া ওঠে— গণতন্ত্র যেন নহে, ভূমিকম্প শুরু হইয়াছে! সংবাদে লেখা হয়— ‘কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি’, ‘কথিত আন্দোলনকারী’, ‘অজ্ঞাত শক্তি’। কিন্তু সেই শক্তির নাম কখনোই উচ্চারিত হয় না; কারণ নাম বলিলে চাটুকারিতার ব্যাকরণ ভাঙিয়া পড়ে।

নির্বাচন আসিলেই কিছু গণমাধ্যম হঠাৎ রোমান্টিক হইয়া ওঠে। এক পক্ষের জন্য ফুলেল ভাষা, অপর পক্ষের জন্য নীরবতা— অথবা ক্ষুদ্র পরিসরের সংবাদ, যেন লজ্জাবোধ আছে। এ যেন সংবাদ নহে; একতরফা প্রেমপত্র।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এখন গণমাধ্যমে এক কিংবদন্তি চরিত্র— শোনা যায়, একদা ছিল; কেহ কেহ দেখিয়াছেন বলিয়াও দাবি করেন; কিন্তু বাস্তবে তাহার দেখা মেলে না। কারণ অনুসন্ধান করিলে প্রশ্ন উঠে, আর প্রশ্ন উঠিলে চাটুকারিতার চাকরি বিপন্ন হয়।

টকশো খুলিলেই কিছু পরিচিত মুখ দৃশ্যমান। তাহাদের বিশ্লেষণ পূর্বনির্ধারিত— ক্ষমতার সিদ্ধান্ত মানেই প্রজ্ঞা, আর সমালোচনা মানেই ষড়যন্ত্র। তাহারা বিশ্লেষক নহে; তাহারা সরাসরি সম্প্রচারের চাটুকার।

এইভাবে রাজনীতিবিদের পদ যত উঁচু হয়, রাষ্ট্রের মস্তক তত নত হয়। চাটুকারিতা হেথা দেশপ্রেমের বেশ ধারণ করে, নীতির ভাষায় কথা বলে এবং উন্নয়নের ব্যানার বহন করে।

সমস্যা এই নহে যে, চাটুকারিতা বিদ্যমান; সমস্যা এই যে ইহা প্রশ্নহীনভাবে স্বীকৃত। যে সমাজে প্রশ্ন নাই, সেখানে ভুল সংশোধনের পথও নাই। ফলে রাজনীতি পরিণত হয় প্রদর্শনীতে, প্রশাসন হইয়া ওঠে আনুগত্যের যন্ত্র, আর গণমাধ্যম রূপান্তরিত হয় পালিশ কারখানায়।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যদি সত্যই জনকল্যাণমুখী হইতে চায়, তবে এই তোষামোদি-শিল্প ভাঙিবার সাহস দেখাইতেই হইবে। নতুবা ফুলের মালার আড়ালে ক্ষমতার চাবি হস্তান্তরের এই নাটক চলিতেই থাকিবে— আর দর্শক হইয়া থাকিবে কেবল সাধারণ জনগণ।

[লেখকের সাধু ভাষারীতি অক্ষুণ্ন রাখা হলো]

লেখক: ব্যবসায়ী ও কলামিস্ট

ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

গণভোট ২০২৬: কী ও কেন?

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ দীর্ঘ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রণীত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যাতে দেশে বিদ্যমান সক্রিয় প্রায় সব দল সই করেছে। যেহেতু সংবিধান হলো ‘উইল অব দ্য পিপল’ বা জনগণের চরম অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি, তাই জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে জনগণের সম্মতি বা গণভোট আয়ো

৬ দিন আগে

বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তি ও নৈতিকতা

ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে যুক্ত থেকেও নিজেদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন অবস্থান নিয়েছে (European Council on Foreign Relations, ২০২৩)। এ অভিজ্ঞতা দেখায়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা জরুরি।

৬ দিন আগে

নতুন বাংলাদেশ: দায়িত্বশীল রাজনীতি ও সচেতন নাগরিকত্ব

এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকেই আসে ‘নতুন বাংলাদেশে’র ধারণা। এটি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার, একটি সামাজিক চুক্তি— যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের সেবক, প্রভু নয়।

৮ দিন আগে

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন: অনিরাপদ বিশ্ব

আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে, আইনকে পদদলিত করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে গেছে, সেই দৃশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতিরই নগ্ন বহির্প্রকাশ ছাড়া অন্য কিছুই হতে পারে না।

৮ দিন আগে