এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক নয়: শিক্ষামন্ত্রী
-e9240e-480x270.webp)
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সার্বিক ফলাফল ‘সন্তোষজনক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ফলাফলের ঘাটতি ও সমস্যাগুলো কাটিয়ে পাসের হার এবং শিক্ষার মান বাড়াতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এ সমস্যাগুলো কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং বোর্ড থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী ১ নভেম্বর থেকে এইচএসসির উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।
পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে শুধু ওই বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন বলেন, এবারের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহভাবে করা হয়েছে। শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নে সরকার শুরু থেকেই কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ফলেই সঠিক ও সময়োপযোগী ফল প্রকাশ সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এইচএসসিতে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০২১ সালে করোনাকালে পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরের বছর তা কমে ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২০ সালে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ওই বছর সব শিক্ষার্থীকে পাস দেখানো হয়েছিল।
এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল বোর্ডে, ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে যশোরে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ, দিনাজপুরে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, কুমিল্লায় ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, সিলেটে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ।
এ ছাড়া মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন, গত বছরের তুলনায় যা ২৯ হাজার ১৩ জন কম। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী। গত বছর ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ৬ দশমিক ২ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছেন।










-bbd08f-256x144.webp)




