২২ বছরের মধ্যে এইচএসসিতে পাসের হার সর্বনিম্ন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ২২ বছরের মধ্যে এটাই সর্বনিম্ন পাসের হার। এ বছর মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। শনিবার সকাল ১১টার দিকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২২ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম। ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপর কোনো বছরই পাসের হার ৫২ শতাংশের নিচে নামেনি।
গত বছর, ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট।
২০০৪ সালে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশে। ২০০৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং ২০০৭ সালে ৬৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। এরপর ২০১২ সালে পাসের হার বেড়ে ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশে।
করোনাকালে ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরের বছর তা কমে ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২০ সালে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ওই বছর শতভাগ শিক্ষার্থীকে পাস দেখানো হয়েছিল।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ বোর্ডের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেওয়া হয়নি।
অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে যশোরে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন।
সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন।
এ ছাড়া মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন।

















