জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে উচ্চশিক্ষায় বড় সংস্কারের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ১৩: ৫৬
মঙ্গলবার ইউজিসি আয়োজিত ‘ট্র্যান্সফর্মিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
মঙ্গলবার ইউজিসি আয়োজিত ‘ট্র্যান্সফর্মিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমানের র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নীত করা এবং শিক্ষিত বেকারত্ব দূরীকরণে একগুচ্ছ আধুনিক পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘ট্র্যান্সফর্মিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উচ্চশিক্ষার এই নতুন 'রোডম্যাপ' তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রচলিত কারিকুলামের পরিবর্তে এআই ও রোবটিক্সসহ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাস থেকেই নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ইনোভেশন গ্র্যান্ট প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন এবং নৈতিক মূল্যবোধের কোনো বিকল্প নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ও গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি অ্যালামনাইদের পৃষ্ঠপোষকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব প্রাক্তন শিক্ষার্থী দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, তাদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার জন্য তিনি শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন যে, শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হবে।

উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই এর প্রধান কারণ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম নতুনভাবে সাজানো সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন। নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন এবং সময়োপযোগী শিক্ষা ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ ইতোমধ্যে হাতে নিয়েছে।

উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি হাতে-কলমে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারবে। এছাড়া ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে সরকার সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে ক্যাম্পাস থেকেই নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়।

সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিজ্ঞান মেলা ও ইনোভেশন ফেয়ারের মতো আয়োজনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে এআই, রোবটিক্স এবং ন্যানো টেকনোলজির মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ভিন্ন ধরনের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে এবং তারুণ্যের আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়ার কাজ শুরু করতে চায়, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। সবশেষে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনীতি/এসআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement