‘ম্যানেজিং কমিটি’ বাতিল করে ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ চান শিক্ষক নেতারা

শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য কমাতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ধাপে ধাপে জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) ও বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদ (বিপিসি)। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি প্রথা বাতিল করে শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্বতন্ত্র ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক নেতারা বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ৯৫ শতাংশ পরিচালনা করেন বেসরকারি শিক্ষকরা। অথচ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, বেসরকারি শিক্ষকেরা বর্তমানে শতভাগ মূল বেতন পেলেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতায় বৈষম্যের শিকার। সরকারি শিক্ষকদের মতো তাঁদের জন্য পূর্ণাঙ্গ অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা বা পেনশন চালুর দাবিও জানান তারা।
শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করে স্বতন্ত্র ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠনের ওপর জোর দেন শিক্ষক নেতারা। তাদের মতে, শিক্ষাঙ্গনে দলাদলি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে বর্তমান গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি প্রথাও বিলুপ্ত করা প্রয়োজন। এর পরিবর্তে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার মতো নিয়মনীতি চালুর আহ্বান জানান তাঁরা।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমোদন না দিয়ে জরিপের মাধ্যমে চাহিদার ভিত্তিতে বা ‘নিড বেসড’ পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
এ ছাড়া বেসরকারি কলেজে সরকারি কলেজের মতো জনবল কাঠামো চালু, অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানরত শিক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করা এবং শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডসহ শিক্ষা প্রশাসনে বেসরকারি শিক্ষকদের আনুপাতিক হারে প্রেষণে বা সরাসরি নিয়োগের দাবি জানানো হয়। শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় ইউনেস্কো-আইএলওর ১৯৬৬ সালের সনদ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে বাকশিস সভাপতি অধ্যক্ষ মো. ইসহাক হোসেন, বিপিসি সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান এবং বাকশিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ইলিম মোহাম্মদ নাজমুল হোসেনের স্বাক্ষর করা লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। এ সময় অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, অধ্যক্ষ সাহিদুন নাহার, অধ্যক্ষ রেজাউল হক, অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ ইউসুফ সুমনসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতা উপস্থিত ছিলেন।










-e8d740-256x144.webp)
-6731a8-256x144.webp)
-436923-256x144.webp)
-27f480-256x144.webp)



