সালমান শাহ হত্যা: ফের ডনের জামিন নাকচ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৫২
সালমান শাহ (বাঁয়ে) ও ডন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
সালমান শাহ (বাঁয়ে) ও ডন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন আবারও নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ দিন ডনের পক্ষে আইনজীবী মফিজুল ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আশরাফুল হক ডন ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তাকে অহেতুক হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। শারীরিকভাবে অসুস্থ তিনি। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ডনের জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ডনের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

এর আগে গত ৯ আগস্ট রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এর আগে আগস্টেও তার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছিল।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান চিত্রনায়ক সালমান শাহ। সে সময় চলচ্চিত্র জগতে তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ছেলের মৃত্যুর পর তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই সেটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।

আদালত অপমৃত্যুর মামলার পাশাপাশি হত্যার অভিযোগ তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। সিআইডির ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন।

পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক সেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।

সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে নারাজি দেন তিনি। একই সঙ্গে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের ছেলের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব (বর্তমানে এসআরবি)। তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি জানালে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার ষষ্ঠ বিশেষ জজ ইমরুল কায়েশ র‍্যাবকে আর তদন্ত না করার আদেশ দেন। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও সংশ্লিষ্ট ৫৪ জনের জবানবন্দি এবং জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে সালমান শাহকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট হননি নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তিনি আরও তদন্তের দাবি জানান। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতি দেন।

এরপর সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন আবেদন গ্রহণ করলেও বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় শুনানি হয়নি।

গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে রমনা মডেল থানাকে হত্যা মামলার নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ অক্টোবর মামলা করেন নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডন, ডেডিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদকে আসামি করা হয়। এজাহারে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে হত্যা করেন। এ মামলার তদন্তভার প্রথমে রমনা থানা পুলিশের ওপর থাকলেও পরে তা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement